ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ মে ২০২২, ২৪ শাওয়াল ১৪৪৩

আইন ও আদালত

নবজাতকের হাড় ভাঙার ঘটনায় ৩ চিকিৎসকের নামে মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩০০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৪, ২০২২
নবজাতকের হাড় ভাঙার ঘটনায় ৩ চিকিৎসকের নামে মামলা আরামবাগ প্রাইভেট হাসপাতাল ও এক্স-রে দৃশ্যমান হাড় ভাঙার অংশ।

ফরিদপুর: সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের হাতের হাড় ভেঙে ফেলার ঘটনায় ফরিদপুর জেলায় আরামবাগ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ও তিন চিকিৎসকের নামে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

ওসি এম এ জলিল জানান, শনিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে নবজাতকের বাবা আরিফুল আলম সজল বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় এ মামলা করেন। এ মামলায় আরামবাগ প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদ আলম, কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জুঁই, চিকিৎসক প্রিন্স ও চিকিৎসক রাজীবসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে সিজারিয়ান অপারেশন করে নবজাতকের হাড় ভেঙে দিয়েছেন। প্রতিকার চাইতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন আসামিরা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শারমীন সুলতানা জুঁই ওই হাসপাতালের সাইনবোর্ড ও ভিজিটিং কার্ডে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয় দিলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক নন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রসূতি মুক্তা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনের সময় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এবং অবহেলা করায় তার নবজাতকের ডান হাতের হাড় ভেঙে গেছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমানের কাছে আরিফুল আলম সজল একটি লিখিত অভিযোগ দেন।  

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৩ ডিসেম্বর আরামবাগ হাসপাতালে তার স্ত্রী মুক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। এ সময় নবজাতকের হাতের হাড় ভেঙে ফেলেন চিকিৎসকরা। পরে ঢাকার একটি হাসপাতালের চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার আরামবাগ হাসপাতালে অভিযান চালান। এ সময় তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন।

হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকা এবং অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানান সিভিল সার্জন।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৪, ২০২২
এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa