ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৮ জিলহজ ১৪৪২

আইন ও আদালত

সিলেটের কারাগারে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২০৯ ঘণ্টা, জুন ১৮, ২০২১
সিলেটের কারাগারে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সিলেট: সিলেটের কারাগারে স্ত্রী হত্যার দায়ে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।  

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন জল্লাদ শাহজাহান।

সিলেটের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে এটাই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।  

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাত ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সিরাজ হবিগঞ্জ জেলার রাজনগর কবরস্থান এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মুজিবুর রহমান বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজি এমদাদুল ইসলাম, ডিআইজি প্রিজন কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল, সিনিয়র সুপার মো. মঞ্জুর হোসেন, কারা চিকিৎসক ডা. যশোবন্ত ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

জেলার মুজিবুর রহমান বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দণ্ডিতের ইচ্ছানুযায়ী এ দিন বিকেলে তার মেয়ে, ভাই ও ভাগ্নে দেখা করে যান। রাত ১২টার পর মরদেহ যথা নিয়মে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সেই জল্লাদ শাহজাহান যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামাত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, কাদের মোল্লারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিলেন।  

শাহজাহানকে সোমবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়।

কারাসূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সিরাজের ইচ্ছে অনুযায়ী তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ফাঁসির মঞ্চে ওঠার আগে সিরাজ খুব শান্ত ছিলেন বলে কারা সূত্র জানায়। কারা রীতি অনুযায়ী ফাঁসির মঞ্চে তোলার আগে সিরাজকে গোসল করানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তওবা পড়ানো হয়।  

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মঞ্জুর আলম বলেন, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে সিরজুল ইসলাম সিরাজের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এরপর উচ্চ আদালতেও রায় বহাল থাকে। প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় সিরাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।  

কারা সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ স্ত্রী সাহিদা আক্তারকে শাবল ও ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ থানায় ২০০৪ সালের ৭ মার্চ হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই। দীর্ঘ শুনানির পর ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিরাজের মৃত্যুদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।  

এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে আপিল (নং-১৫৮/২০০৭) করেন। পরে ডেথ রেফারেন্সের (নং-১৮/০৭) আলোকে ২০১২ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট সিরাজের জেল আপিল নিষ্পত্তি করে সিলেটের আদালতের রায়ই বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে জেল পিটিশন (নং-২৬/১২) দাখিল করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর রায়ে সিরাজের আপিল বাতিল করে ডেথ রেফারেন্সের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। এরপর সিরাজ প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করলে এ বছরের ২৫ মে রাষ্ট্রপতি তা না মঞ্জুর করেন। সর্বশেষ গত ২৫ মে তাকে হবিগঞ্জ কারাগার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।  

বাংলাদেশ সময়: ০২০৪ ঘণ্টা, জুন ১৮, ২০২১
এনইউ/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa