ঢাকা, শনিবার, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

আইন ও আদালত

মেঘনায় ইলিশ শিকার করায় ৫৫ জেলের জেল-জরিমানা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৯ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০২০
মেঘনায় ইলিশ শিকার করায় ৫৫ জেলের জেল-জরিমানা আটক জেলেরা। ছবি: বাংলানিউজ

চাঁদপুর: চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করায় ৫৫ জেলেকে আটক করা হয়েছে। ইলিশ প্রজনন রক্ষায় অভয়াশ্রম এলাকা চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মতলব উত্তর থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত অভিযান চালায় টাস্কফোর্স।

 
 
আটকদের মধ্যে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি ১৫ জনকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসি বেগম, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম, উজ্জ্বল হোসেন ও অলিদুজ্জামান।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, চাঁদপুর সদর উপজেলা টাস্কফোর্সের অভিযানে আটক ১৬ জেলের মধ্যে নয় জনকে এক বছর ও সাত জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামান।  

অপর অভিযানে আটক দুই জনকে দুই হাজার পাঁচশ টাকা করে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল হোসেন এবং আরো আটক আট জেলের মধ্যে তিন জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড এবং পাঁচ জনকে দুই হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম।  

এছাড়াও চাঁদপুর সদর নৌ থানা ও আলু বাজার পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে আটক ২১ জেলের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।

হাইমচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, সোমবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত উপজেলার আখনের হাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে আট জেলেকে আটক করা হয়। দুপুর ১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আট জেলেকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সময় অভিযানে এসব জেলেসহ নদী থেকে দেড় লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ সুতার জাল, ৭০ কেজি ইলিশ ও একটি ইলিশ ধরার বড় নৌকা জব্দ করা হয়।  

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বাংলানিউজকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় অভয়াশ্রম এলাকায় ১৬টি অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে জব্দ হয়েছে ২৬৮ কেজি ইলিশ ও ১২ লাখ মিটার কারেন্ট ও সুতার জাল। এসব ঘটনায় চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় মামলা হয়েছে ছয়টি।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বাংলানিউজকে বলেন, জেলা টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযান ছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পেশাল টিম প্রতিদিন নিয়মিত অভিযান করছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ হচ্ছে। টাস্কফোর্সের অভিযানে এ পর্যন্ত আটক হয়েছে ১০৮ জন জেলে।  কিন্তু জেলেরা প্রশাসনের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় ৪ নভেম্বর পর্যন্ত আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa