ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

আইন ও আদালত

‘টাউট’ শহীদুলের আইন পেশা, আছে মানবাধিকার সংগঠন!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২২০ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২০
‘টাউট’ শহীদুলের আইন পেশা, আছে মানবাধিকার সংগঠন! শহীদুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন

ঢাকা: আইনজীবী পরিচয়ে আদালত অঙ্গনে কাজ করছেন, নিচ্ছেন মামলা। শুধু তাই নয়, আইনজীবী পরিচয়ে একটি মানবাধিকার সংগঠনও চালাচ্ছেন ‘টাউট’ শহীদুল ইসলাম।

রোববার (১২ জুলাই) তৃতীয়বারের মতো ঢাকা আইনজীবী সমিতির টাউট উচ্ছেদ কমিটির হাতে ধরা পড়েন শহীদুল ইসলাম (৪৭)। এদিন তার সঙ্গে ধরা পড়েন আরেক ‘টাউট’ এ কে এম গিয়াস উদ্দিন (৩১)।

দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় প্রতারণার অভিযোগে ঢাকা বারের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম মাসুম বাদী হয়ে এ দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর আগেও দুই বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির টাউট উচ্ছেদ কমিটির হাতে ধরা পড়েছিলেন শহীদুল। তখনও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মামলার বাদী আইনজীবী এইচ এম মাসুম জানান, সিএমএম আদালতের সামনে থেকে তাদের ধরা হয়। এরপর আইনজীবী হিসেবে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। তাই আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করে তাদের পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহারে বলা হয়, শহীদুল ইসলাম নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনি আইনজীবী নন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যও নন।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তিনি অবৈধ উদ্দেশ্যে মানবাধিকার চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে ভিজিটিং কার্ড ও পোস্টার ছেপে ‘বিশ্ব আদালত মানবাধিকার আইন বাস্তবায়ন সংস্থা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

ওই অবৈধ প্রতিষ্ঠানের পোস্টারে তিনি দেওয়ানি, ফৌজদারি, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ সংস্থার মাধ্যমে ১ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সব ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করা হয় মর্মে পোস্টার ছেপে তা ব্যবহার করে প্রত্যক্ষভাবে মামলা সংগহ করে বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন।

এ সময় আদালত এলাকায় তার চেম্বারে অভিযান চালিয়ে ওকালতনামা, ভিজিটিং কার্ড, পোস্টার ও বিশ্ব আদালত মানবাধিকার আইন বাস্তবায়ন সংস্থা নামের একটি ফ্রেমযুক্ত ছবি উদ্ধার করা হয়।

দ্বিতীয় আসামি গিয়াস উদ্দিন কাউসারের বিরুদ্ধে এজাহারে বলা হয়, তিনি আইনজীবী পরিচয় দিলে বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় তাকে টাউট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা যায়, তিনি আইনজীবী নন এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য নন।

রোববার টাউট উচ্ছেদ অভিযানে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া (জাদু), মো. আব্দুল বাছেদ রাখি ও তানভীর হাসান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ০২১৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২০
কেআই/এমইউএম/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa