bangla news

৫ পরিচালককে ফার্স্ট ফাইন্যান্স থেকে কেন বাদ নয়

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৭-১৮ ৮:৩৮:৪৩ পিএম
ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের লোগো

ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের লোগো

ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক এপিএস মিয়া নুরুদ্দিন অপুর টাকায় বেনামে প্রতিষ্ঠিত চারটি কোম্পানির মনোনীত পাঁচ পরিচালকের কার্যক্রম তদন্ত করে ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে তাদের কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোম্পানির পরিচালক থেকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে করা আবেদন নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন উচ্চ আদালত। ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের এক শেয়ার হোল্ডারের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট এমকে রহমান ও ব্যারিস্টার এবিএম সিদ্দিকুর রহমান খান। রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার সিদ্দিকুর রহমান খান জানান, এ আদেশের কারণে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পরিচালকের ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নেওয়া উচিত হবে না।   

যে চার কোম্পানির পরিচালকদের বিষয়ে অভিযোগ সেগুলো হলো-অ্যালফাবেট অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড, অপারচর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, রাকাস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও কাসরাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

গত ২ জুলাই মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোম্পানির পরিচালক থেকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি আবেদন করেছিলেন ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডার মো. মনিরুজ্জামান। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।

‘তারেক ঘনিষ্ঠ অপুর দুর্নীতির আরো তথ্য’ শিরোনামে গত ২৭ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই ঘটনায় আরও দ ‘টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন মো. মনিরুজ্জামান।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক থেকে ৩৪০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার মিয়া নুরুদ্দিন অপুর দুর্নীতি অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে আরও নতুন তথ্য। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক এপিএস অপুকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এসব তথ্য জানতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের জুন-জুলাই মাসে অপু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলে তখনকার মালিকপক্ষ তাদের চারটি কোম্পানির নামে থাকা ২৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রির বিষয়ে একটি চুক্তি সই করে। ওই চারটি কোম্পানি হলো অপারচর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, অ্যালফাবেট অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড, রাকাস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও কাসরাজ ট্রেডিং লিমিটেড। 

এর মধ্যে অ্যালফাবেট অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের নামে ৫৬ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৮টি শেয়ার, অপারচর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে ৮৩ লাখ ২১ হাজার ৫২০টি শেয়ার, রাকাস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৬টি এবং কাসরাজ ট্রেডিং লিমিটেডের নামে এক কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার ৬৫৬টি শেয়ার থাকা অবস্থায় চুক্তিটি সই হয়। পরে জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির নিয়মানুযায়ী কোম্পানিগুলোর মালিকানা পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু কম্পানিগুলোর ইনকাম ট্যাক্স ফাইল নবায়ন না করে মালিকানা পরিবর্তন করা হয়। 

কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের সবাই একই ব্যক্তি এবং অপুর অফিসের কর্মচারী। কোম্পানিগুলোর শেয়ার কিনতে ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। অথচ কোম্পানিগুলোর এই নতুন পরিচালকদের টিআইএন নম্বর নেই। এ অবস্থায় ট্যাক্স ফাইল না থাকায় তারা ৪০ কোটি টাকার বেশি কোথায় পেলেন তা তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লাহ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোম্পানিগুলোর এই নতুন পরিচালকরা ফার্স্ট ফাইন্যান্স মনোনীত পরিচালক ছিলেন না। তাদের মধ্যে অপু তার ঘনিষ্ঠ রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, আমিনুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন, মহিন ও মইনুল হাসানকে নিয়োগ দেন। তাদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম ও মাইনুল হাসান স্বতন্ত্র পরিচালক হন। অন্য চারজন তার কোম্পানি মনোনীত পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। আর পরিচালনা বোর্ড পরিবর্তন করে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হন অপু।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের মতো একটি পুরনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এত দুর্নীতি হয়েছে, মামলার তদন্ত না করলে বুঝতেই পারতাম না। এরকম একটি লাভজনক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২০১৭ সালে ২৪ কোটি টাকার বেশি লোকসান দেয়। কারণ হিসেবে দেখা যায়, বেশি বেতনে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নতুন আমানত আনার ক্ষেত্রে কমিশন দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের টাকা উত্তোলন করে সরিয়ে নেওয়া। ২০১৮ সালেও ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড ৪৭ কোটি টাকার বেশি লোকসান দেয়। আর ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৮৭ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। অথচ কোম্পানিটির প্রায় ৭০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। অপুর শেয়ার ছাড়া কোম্পানিটির প্রায় এক লাখ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৭৩ শতাংশ শেয়ার।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩০ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০১৯
ইএস/এএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-07-18 20:38:43