ঢাকা, রবিবার, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ জুলাই ২০২০, ২০ জিলকদ ১৪৪১

আইন ও আদালত

চার্জ শুনানি পিছিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি

সাকা চৌধুরীর রায় ফাঁস মামলা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৬-১৪-০১ ০৬:১০:০০ পিএম
চার্জ শুনানি পিছিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর মামলার রায়ের খসড়া ফাঁসের ঘটনার দায়ের করা মামলায় তার স্ত্রী-পুত্র-আইনজীবীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) মামলাটির চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

কিন্তু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ‍অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার পক্ষে সময়ের আবেদন জানানো হয়।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম শামসুল আলম শুনানি শেষে চার্জ শুনানির জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন করে দিন ধার্য করেছেন।
এ নিয়ে একই কারণে ৯মবারের মতো চার্জ শুনানি পেছাল।

সাকা চৌধুরীর ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরী ও সাকার আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম ফখরুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের জুনিয়র আইনজীবী মেহেদী হাসান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

অপর তিন আসামি সাকার ম্যানেজার একেএম মাহবুবুল হাসান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অফিস সহকারী (সাঁটলিপিকার) ফারুক হোসেন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নয়ন আলী কারাগারে আটক আছেন। তাদের বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়।

২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ডিবির পরিদর্শক মো. শাহজাহান ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদেরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তবে রায়ের আগেই সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীরা রায় ফাঁসের অভিযোগ তোলেন। তারা ‘রায়ের খসড়া কপি’ সংবাদকর্মীদের দেখান।

রায় ঘোষণার পরদিন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার একেএম নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে ২ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন। মামলায় ট্রাইব্যুনালের ফারুক ও নয়ন এবং ব্যারস্টার ফখরুলের জুনিয়র আইনজীবী মেহেদীকে আসামি করা হয়েছিল।

এছাড়া ওই বছরেরই ৪ অক্টোবর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে ঢাকার শাহবাগ থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছিলেন।

মামলায় বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ের দিন রায় ঘোষণার আগেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ‘রায়ের কপি’ দেখান। তারা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন যে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা রায় ঘোষণার আগেই রায়ের কপি পেয়েছেন। তারা রায়ের স্পাইরাল বাইন্ডিং কপি মিডিয়ায় প্রদর্শন করেন এবং সেটি নিয়েই তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, মিডিয়ায় রায় প্রকাশিত হলে পরিচ্ছন্নকর্মী নয়ন আলী মেহেদী হাসানের চেম্বারে যান এবং রায় কিভাবে ফাঁস হলো জানতে চান। মেহেদী হাসান তাকে জানান, রায়ের কপি তার কাছ থেকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার নিয়ে গেছে। তারাই অনলাইনে এ রায় ফাঁস করে। মেহেদী নয়ন আলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

নয়ন আলীর জবানবন্দির ভিত্তিতেই ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ম্যানেজার মাহবুবুল আহসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশ-বিদেশে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করতেই কৌশলে ‘রায়ের কপি’ সংগ্রহ করে তা এমএস ওয়ার্ড থেকে পিডিএফে রুপান্তর করে www.traibunalleaks.be  নামক অনলাইনে প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০১৬
এমআই/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa