ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইসলাম

আর্জেন্টিনায় দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম মসজিদ

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫২ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৩, ২০২২
আর্জেন্টিনায় দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম মসজিদ

আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। বুয়েনেস আইরেস দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী।

মুসলিমরা দেশটির বৃহত্তম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। দি ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম রিপোর্ট-২০১০ সালের তথ্য মতে, দেশটিতে চার থেকে পাঁচ লাখ মুসলিমের বসবাস রয়েছে।

অবশ্য পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ মতে, ২০১০ সালে দেশটিতে ১০ লাখের মতো মুসলিমের বাস ছিল। সিআইএ-এর তথ্য মতে, বর্তমানে আর্জেন্টিনার জনসংখ্যা চার কোটি ৬২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬৮ জন।

মুসলিমদের আগমন: পঞ্চদশ শতাব্দীতে স্পেন থেকে মুর ও মরিস্কো মুসলিমরা স্পেনের নাবিকদের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় এসেছিল। তাদের অধিকাংশই আর্জেন্টিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল। এদের অনেকে নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে বাধ্যতামূলক খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। আবার অনেকে নিজেদের মুসলিম পরিচয় গোপন করে খ্রিস্টান বলে পরিচয় দেয়।

আরব মুসলিমদের বসবাস: উনিশ শতাব্দীতে আর্জেন্টিনায় আরব বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের আগমন ঘটে। এদের অধিকাংশই ছিল সিরীয় ও লেবানিজ বংশোদ্ভূত। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম ছিল। বর্তমানে আর্জেন্টিনায় আরব বংশোদ্ভূত প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস করে। এ ছাড়া ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অনেক মুসলিম সেখানে বাস করে।

প্রথম মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার: দেশটির অধিকাংশ মুসলিম রাজধানী বুয়েনেসে বাস করেন। ১৯৮৩ সালে ইরান সরকারের সহায়তায় শিয়াদের আত তাওহিদ মসজিদ স্থাপিত হয়। ১৯৮৫ সালে সুন্নি মুসলিমদের প্রথম মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার স্থাপিত হয়। ইসলামী শিক্ষার প্রসার, আলোচনা সভার আয়োজন, ইসলামী শরিয়াহসম্মত বিবাহের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যাবলি সেন্টারের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হয়। মুসলিম শিশুদের মধ্যে ইসলামী শিক্ষা প্রসারে আরব আর্জেন্টিনিয়ান ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হয়।   

দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম মসজিদ: বর্তমানে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন শহরে ১৫০টির বেশি ইসলামিক সেন্টার আছে। এর তত্ত্বাবধানে অসংখ্য মাদরাসা, স্কুল ও কলেজ পরিচালিত হয়। ১৯৯৬ সালে সৌদি বাদশাহর সহায়তায় কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নামে দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ মসজিদ স্থাপিত হয়। প্রথমে এর মূল আয়তন ছিল ২০ হাজার স্কয়ার মিটার। ১৯৯২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনিমে সৌদি সফরের পর ওই মসজিদের জন্য ৩৪ হাজার স্কয়ার মিটার জায়গার ব্যবস্থা করেন। অত্যাধুনিক মসজিদ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। মসজিদের আওতায় লাইব্রেরি, দুটি স্কুল ও বিশাল গার্ডেন রয়েছে।   

মুসলিমদের চ্যালেঞ্জ: ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব লেটিন আমেরিকার (আইওএলএ) মহাসচিব ড. মুহাম্মদ ইউসুফ হাজের জানান, আর্জেন্টিনায় মুসলিম অভিবাসীদের অভূতপূর্ব সাফল্যের কারণে দেশটিতে মুসলমানের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে। তদুপরি আর্জেন্টিনার মুসলিমরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে বলেও জানান আইওএলএর মহাসচিব।

মূলত স্থানীয় তুলনামূলক দুর্বল মুসলিমদের মৌলিক ইসলামী জ্ঞানের অভাব ও মূল্যবোধ চর্চার অবারিত সুযোগে না থাকায় ইসলাম ধর্মের বিকাশ ও মুসলিম সংস্কৃতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এ জন্য মুসলিম ইসলামের মৌলিক জ্ঞানে পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি আরব ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যোগযোগ ও গভীর সম্পর্ক স্থাপনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।   

সূত্র: ইসলাম ওয়েব ডটকম ও আল মারিফা ডটকম

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪২ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৩, ২০২২
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa