ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news
‘প্রশ্নোত্তর- ২’

রোজা রেখে ইনহেলার ব্যবহার করার বিধান

1523 |
আপডেট: ২০১৫-০৬-২৯ ৮:১৭:০০ এএম

রমজান মাসে কোনো সুস্থ সবল লোককে ভুলে পানাহার করতে দেখলে তাকে রোজার কথা স্মরণ করিয়ে দিবে। তবে কোনো দুর্বল বা বৃদ্ধকে ভুলে পানাহার করতে দেখলে রোজার কথা স্মরণ না করানোই উত্তম।

রমজান মাসে কাউকে পানাহার করতে দেখলে করণীয়
প্রশ্ন: রমজান মাসে অনেক সময় কোনো কোনো রোজাদারকে ভুলে পানাহার করতে দেখা যায়। পানাহারের সময় তাদেরকে বারণ করা বা না করা- আসলে করণীয় কী?

উত্তর: রমজান মাসে কোনো সুস্থ সবল লোককে ভুলে পানাহার করতে দেখলে তাকে রোজার কথা স্মরণ করিয়ে দিবে। তবে কোনো দুর্বল বা বৃদ্ধকে ভুলে পানাহার করতে দেখলে রোজার কথা স্মরণ না করানোই উত্তম।

রোজার ফিদইয়া প্রসঙ্গে
প্রশ্ন: অতি বার্ধক্যের দরুণ রোজা রাখার সামর্থ্য হারিয়ে ফেললে, তার রোজার ফিদইয়া একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর: হ্যাঁ, এক রোজার ফিদইয়া একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয। তবে একজনকে পুরো একটি ফিদইয়া দেয়া উত্তম।

রোজায় নারীদের মাসিক শুরু হলে করণীয়
প্রশ্ন: রমজান মাসে রোজা অবস্থায় নারীদের পিরিয়ড শুরু হলে দিনের বাকি সময় কি অনাহার থাকা জরুরি?

উত্তর: না, রোজা অবস্থায় পিরিয়ড শুরু হলে বাকি দিন পানাহার করতে পারবে। তদ্রূপ যতদিন মাসিক চলবে ততদিন রমজানের দিনের বেলায় পানাহার করা জায়েয। তবে অন্যদের সামনে খাবে না। অবশ্য রমজান মাসে দিনের বেলায় মাসিক বন্ধ হলে বাকি দিন পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি।
 
কাফফারার রোজা রাখার বিধান
প্রশ্ন: রমজানের রোজা শরয়ি ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ভেঙ্গে ফেললে কাফফারার রোজা এক নাগাড়ে দু’মাস রাখতে হয়। মাঝখানে ছুটে গেলে তা আদায় হয় না। আমার জানার বিষয় হলো- দু’মাস রোজা রাখার সময় মাঝখানে ঈদ বা আইয়ামে তাশরিক তথা রোজার জন্য নিষিদ্ধ দিন যদি চলে আসে এবং নিষেধ থাকার পরও রোজা রাখা হয় তাহলে কাফফারা আদায় হবে কি?

উত্তর: কাফফারার রোজা এমন সময় শুরু করতে হবে যেন তার মধ্যে শাওয়ালের ১ তারিখ অথবা জিলহজের ১০ থেকে ১৩ তারিখ- এ দিনগুলো না আসে। কাফফারা আদায়ের দু’মাসের ভেতর উক্ত নিষিদ্ধ দিন পড়লে সে দিনগুলোতে রোজা রাখলেও কাফফারা আদায় হবে না; বরং এক্ষেত্রে পুনরায় নতুন করে লাগাতার দু’মাস রোজা রাখতে হবে।

রোজা রেখে ইনহেলার ব্যবহার করা প্রসঙ্গে
প্রশ্ন: আমি একজন শ্বাসকষ্টের রোগী। শীত-গ্রীষ্ম সারা বছর আমাকে ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়। রাতে এবং দিনে মোট চারবার ইনহেলার নিতে হয়। তাই জানতে চাই, ইনহেলার ব্যবহারের দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হয় কি না? যদি রোজা ভেঙ্গে যায় তাহলে আমি কি রোজা রাখতে পারব না? আমি কি দিনের বেলা খানাপিনা করতে পারব?

উত্তর: রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙ্গে যায়। তাই সেহরির শেষ সময় এবং ইফতারের প্রথম সময় ইনহেলার ব্যবহার করলে যদি চলে তবে রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। তবে অসুস্থতা বেশি হওয়ার কারণে দিনেও ব্যবহার করা জরুরি হলে তখন ব্যবহার করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় হলো—

ক. আপনি রমজানের রোজা রাখবেন।
খ. উল্লেখিত সমস্যার দরুন ইনহেলার ব্যবহার করলেও অন্যান্য পানাহার থেকে বিরত থাকবেন।
গ. পরবর্তীতে রোগ ভালো হলে রোজার কাজা করে নিবেন।
ঘ. শ্বাস কষ্টের সমস্যা যদি সারা বছর থাকে তাহলে রোজার ফিদইয়া আদায় করবেন।

কাজা রোজার সংখ্যা মনে না থাকলে করণীয়
প্রশ্ন : এক মহিলার হায়েজ ও নেফাসের কারণে বিগত ৭/৮ বছর কিছু রোজা রাখতে পারেনি এবং কোন বছরের কয়টি রোজা সে রাখেনি তাও স্মরণ নেই। এখন এ রোজাগুলো কীভাবে আদায় করতে হবে?

উত্তর: ওই মহিলা হায়েজ ও নেফাস সাধারণত যতদিন থাকে ততদিন হিসাব করে পেছনের বছরের রোজা কাজা করবে। যদি একেক মাসে একেক রকম হয় তাহলে সতর্কতামূলক অধিক দিন ধরে হিসাব করবে।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক হাফেজের পিছনে তারাবি পড়া প্রসঙ্গে
প্রশ্ন: রমজান মাসে তারাবির নামাজ নাবালেগ হাফেজের পিছনে পড়া জায়েজ আছে কি? যদি না থাকে তাহলে যে নামাজগুলো নাবালেগ হাফেজের পিছনে পড়া হয়েছে সেসবের কি কাজা করতে হবে?

উত্তর: শুধু তারাবির নামাজ নয়- কোনো নামাজেই নাবালেগের পিছনে বালেগের ইকতিদা শুদ্ধ নয়। অবশ্য তারাবির যেহেতু কাজা নেই তাই বিগত দিনের তারাবি কাজা করতে হবে না।

ভুলে তেলাওয়াতের সিজদা আদায় না করলে
প্রশ্ন: এক মসজিদের হাফেজ সাহেব তারাবির সময় ঘোষণা করলেন যে, প্রথম রাকাতে সিজদা আছে। কিন্তু তিনি সেজদার আয়াত পর্যন্ত পৌঁছার আগেই আয়াত ভুলে যান। যেহেতু তিনি সেজদার কথা ঘোষণা করেছেন তাই সেজদার আয়াত না পড়েও ইচ্ছা করে সেজদা করেছেন। তারপর অন্য আয়াত থেকে পড়ে নামাজ শেষ করেন এবং সাহু সেজদাও করেননি। আমার জানার বিষয় হলো- আমাদের নামাজ সহিহ হয়েছে কি?

উত্তর: সেজদার আয়াত পড়া ছাড়া ইচ্ছাকৃত সেজদা করা গুনাহের কাজ হয়েছে। তবে এর কারণে নামাজ ভঙ্গ হবে না; বরং সকলের নামাজ আদায় হয়ে গেছে। ইমামের উচিত তার ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করা।

রমজানের রোজাসহ ইসলামের অন্যান্য বিষয়ে জানতে আপনিও প্রশ্ন পাঠাতে পারেন। প্রশ্ন পাঠাতে মেইল করুন- bn24.islam@gmail.com

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৭ ঘন্টা, জুন ২৯, ২০১৫
এমএ/

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

ইসলাম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2015-06-29 08:17:00