bangla news

রজব মাসে করণীয়

3501 |
আপডেট: ২০১৫-০৪-২৯ ৯:০১:০০ এএম

এখন চলছে রজব। রজব মাস পবিত্র কোরআনে কারিমে বর্ণিত চারটি সম্মানিত মাসের একটি। সুতরাং এ মাস নিঃসন্দেহে বরকতময়। তাই এ মাসের সবক’টি দিন ও সবক’টি রাতে ইবাদত-বন্দেগির ব্যাপারে যত্নবান হওয়া দরকার। তবে ইবাদতের নামে কোনো ধরনের বাহুল্যতা যেন না হয়, সেদিকে কঠিনভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এখন চলছে রজব। রজব মাস পবিত্র কোরআনে কারিমে বর্ণিত চারটি সম্মানিত মাসের একটি। সুতরাং এ মাস নিঃসন্দেহে বরকতময়। তাই এ মাসের সবক’টি দিন ও সবক’টি রাতে ইবাদত-বন্দেগির ব্যাপারে যত্নবান হওয়া দরকার। তবে ইবাদতের নামে কোনো ধরনের বাহুল্যতা যেন না হয়, সেদিকে কঠিনভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

চন্দ্র মাসের মধ্যে রজব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহতায়ালা যে চারটি মাসকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছেন এর একটি রজব মাস। বাকি তিন মাস হলো জিলকদ, জিলহজ ও মহররম। এ বিষয়ে কোরআনে কারিমের সূরা তওবার ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধানে আসমানগুলো ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে মাসের সংখ্যা ১২টি, এর মধ্যে ৪ মাস সম্মানিত। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোয় নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।’

এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহতায়ালা যেসব কাজ নিষেধ করেছেন, যেসবের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলেছেন, যে বিষয়ের প্রতি অনধিকার চর্চা করতে বারণ করেছেন, সেগুলোকে সেভাবেই মানতে হবে ও পালন করতে হবে। এর অন্যথা কাম্য নয়। অন্যদিকে রমজানের বার্তাও সূচিত হয় রজব মাস থেকেই। এ মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতে হয়। রজব মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি পড়তে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ, তুমি রজব ও শাবান মাসে আমাদের ওপর বরকত দাও এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দাও।’

রজবের পর শাবান মাস আর এরপর রমজান। এই ৩ মাসের পরিপূর্ণ বরকত, রহমত ও ফজিলত যেন আমরা লাভ করতে পারি সে জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা দরকার। আমাদের পূর্বসূরি প্রাজ্ঞ বুজুর্গ আলেমদের আমল এরূপ ছিল। তাই আমাদেরও উচিত এ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা। সেই সঙ্গে সব ধরনের অত্যাচার-অনাচার-পাপাচার থেকে বিরত থেকে নিবিষ্ট মনে ইবাদতে মগ্ন থাকা। মোট কথা হলো, পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করার মাস হিসেবে রজব মাস মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। তাই সব মুসলমান ভাইয়ের উচিত হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে এ মাসকে যথার্থভাবে ইবাদত-বন্দেগি ও আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করার চেষ্টা করা।

কোনো অবস্থাতেই রজব মাসের বিশেষ আমল বলে এ মাসের জন্য বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ, বিশেষ কোনো রোজা অথবা বিশেষ পদ্ধতির কোনো আমলের অনুগামী না হওয়া। ইসলাম এসবের হুকুম দেয়নি। এসব অদ্ভুত ও মনগড়া আমল দ্বারা এ মাসের ফজিলত লাভ করা সম্ভব নয়। এগুলো থেকে আমাদের বেঁচে থাকা একান্ত অপরিহার্য। বরং ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আদায়ের পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী স্বাভাবিক নফল নামাজ, রোজা, জিকির, কোরঅান তেলাওয়াত ও দান-সদকা করা বাঞ্ছনীয়।

তাই চলতি রজব মাসে আমাদের কর্তব্য হলো, বাহুল্য ও অতিরঞ্জিত কাজগুলো থেকে দূরে থাকা। অন্যথায় আমরা বিদয়াত করার অপরাধে আল্লাহতায়ালার দরবারে গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবো।

ইসলাম ডেস্ক মেইল: bn24.islam@gmail.com

বাংলাদেশ সময়: ১৮০২ ঘন্টা, এপ্রিল ২৯, ২০১৫
এমএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2015-04-29 09:01:00