ঢাকা, শনিবার, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ আগস্ট ২০২০, ২৪ জিলহজ ১৪৪১

ইসলাম

‘৮৫ বছর পর প্রথম ধ্বনিত হলো কোরআনের সুর’

তুরস্কের সুফিয়া জাদুঘর, যা আদতে ছিল মসজিদ

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪০ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৩, ২০১৫
তুরস্কের সুফিয়া জাদুঘর, যা আদতে ছিল মসজিদ

তুরস্কের ঐতিহাসিক হাগিয়া সুফিয়া জাদুঘরে ৮৫ বছরের মধ্যে প্রথম পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত হয়েছে। এ জাদুঘরে তুরস্কের ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম উৎসব পালন উপলক্ষে ‘লাভ অব প্রফেট আয় সুফিয়া’ শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনে কারিম তেলাওয়াত করা হয়।



তুরস্কের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা ‘ডেইলি সাবাহ’ (১১ এপ্রিল, শনিবার) এমনই একটি খবর প্রকাশ করেছে। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম উ‍ৎসব পালন ওই জাদুঘরে একটি ক্যালিওগ্রাফি প্রদর্শনীরও আয়োজন হয়। প্রদর্শনীটি চলবে ৮ মে পর্যন্ত।

ইস্তাম্বুলের এই স্থাপনাটি আদতে জাদুঘর ছিল না। নির্মাণ কাল থেকে ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বছর এটা ক্যাথেড্রাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ওই বছর উসমানিয়া সুলতান দ্বিতীয় মোহাম্মদ ইস্তাম্বুল জয় করে এটাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। পরবর্তীকে কামাল আতাতুর্কের আমলে ১৯৩৫ সালে এটাকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে তুর্কি মন্ত্রণালয়ের ধর্ম বিষয়ক চেয়ারম্যান মেহমুদ গোমেজ, সচিব সংস্কৃতি আহমেদ হালুক এবং ইস্তাম্বুলের গভর্নর শাহীন ভাসিপসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনে কারিম থেকে তেলাওয়াত করেন, রাজধানী আঙ্কারার কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আহমেদ হামদি।

তুরস্কে কামাল আতার্তুক ক্ষমতায় আসার পর খেলাফত বিলুপ্তিসহ আরবি ভাষায় আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করে, প্রকাশ্যে হিজাব পরে চলতে বিধিনিষিধ আরোপ করে, হজব্রত পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অনেক মসজিদ জাদুঘরে রূপান্তরিত করে। তখন এই হাগিয়া সুফিয়া মসজিদকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে। এই মসজিদটি তুরস্কের সর্ববৃহৎ ও সুন্দর মসজিদ ছিল।

হাগিয়া সোফিয়া মসজিদ ও জাদুঘরটি ইস্তাম্বুলে অবস্থিত। জাদুঘরটির সাপ্তাহিক বন্ধ সোমবার। বছরে শুধু রমজানের প্রথম দিন ও ঈদুল আজহার জাদুঘরটি বন্ধ থাকে। হাগিয়া সোফিয়া জাদুঘরটির মাত্রা ৮২ মিটার লম্বা ও ৭৩ মিটার চওড়া। মসজিদের গম্বুজগুলোর ব্যাস ৩৩ মিটার দীর্ঘ। মসজিদের মিনার নিচ থেকে ৫৫ মিটার উঁচুতে। এর নির্মাণ কৌশল অনেক আকর্ষণীয়।

এই মসজিদের অনুকরণে আরও বেশ কয়েকটি বিখ্যাত মসজিদ তৈরি হয়। যেমন- নীল মসজিদ, সোলায়মানিয়া মসজিদ, রুস্তম পাশা মসজিদ, শাহজাদা মসজিদ ও আলী পাশা মসজিদ ইত্যাদি।

১৯৩১ সাল পর্যন্ত এ স্থানটি হাগিয়া সুফিয়া জাদুঘরটি মসজিদ নামেই পরিচিত ছিল। ৪ বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৩৫ সালে একে জাদুঘরে রূপান্তর করে জন সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এখনও এই ভবনটি মসজিদের অবয়ব নিয়ে জাদুঘর হিসেবে অনন্য এক স্থাপত্য শিল্প হয়ে স্মৃতিময় হয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪২ ঘন্টা, এপ্রিল ১৩, ২০১৫
এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa