ঢাকা, রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ হয়ে ফিরে আসা চীনের ‘হাই প্রোফাইল’ ব্যক্তিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০২১
নিখোঁজ হয়ে ফিরে আসা চীনের ‘হাই প্রোফাইল’ ব্যক্তিরা ঝাও ওয়েই

চীনের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ঝাং গাওলিয়ের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ তোলার পর নিখোঁজ হন টেনিস তারকা পেং শুয়াই। পরে তার খোঁজও মেলে।

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া ‘হাই প্রোফাইল’ ব্যক্তিদের সংখ্যা কম নয়। যদিও পরে তারা ফিরেও এসেছেন।  

অভিনেত্রী ঝাও ওয়েই: বিলিওনেয়ার অভিনেত্রী ঝাও ওয়েইকে তিন মাসে একবারও কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। চীন সরকার যে তার ওপর রুষ্ট, সেটি স্পষ্ট হয় সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে তার সব ছবি এবং টিভি শো কোনো কারণ না জানিয়ে সরিয়ে নেওয়ায়। এমনকি ছবি এবং টিভি অনুষ্ঠানগুলো থেকে তার নামও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ওয়েই একেবারে নিখোঁজ তা কিন্তু বলা যাবে না। কারণ সেপ্টেম্বরে চীনের পূর্বাঞ্চলে নাকি একবার দেখা গেছে তাকে।

টেনিস খেলোয়াড় পেং শুয়াই: ২ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবো’র এক পোস্টে চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝ্যাং গাওলির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন টেনিস তারকা পেং শুয়াই। তারপর প্রায় তিন সপ্তাহ অদৃশ্য ছিলেন পেং। সারা বিশ্বে দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছিল তাকে নিয়ে। ২১ নভেম্বর বেইজিংয়ের এক অনুষ্ঠান থেকে আইওসি প্রেসিডেন্ট টোমাস বাখ-এর সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে সবাইকে আপাতত নিশ্চিন্ত করেছেন পেং।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী রেন ঝিকুইং: ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক লেখায় করোনা নিয়ন্ত্রণে শি জিনপিং সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন সাবেক রিয়েল এস্টেট টাইকুন রেন ঝিকুইং। খোদ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘ভাঁড়’ও বলেছিলেন সেই লেখায়। লেখাটি প্রকাশের পরই উধাও হয়ে যান লেখক। তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও দানা বাঁধে শঙ্কা। তবে এক সময় জানা যায়, রেন ঝিকুইং-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে দুর্নীতির অভিযোগে ১৮ বছরের কারাদণ্ড হয় তার।

আইনজীবী ও নাগরিক সাংবাদিক চেন কুইউশি: করোনার সংক্রমণ প্রথম ধরা পড়েছিল উহানে। ২০২০ সালে সেখানে গিয়ে ভিডিওতে সার্বিক পরিস্থিতি দেখাতে শুরু করেন চেন কুইউশি। ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে আটক করা হয়। প্রায় ৬০০ দিন দেখা যায়নি তাকে, কী অবস্থায় আছেন- তাও কেউ জানতে পারেনি। এক সময় মুক্তি পান তিনি। মুক্ত হয়ে চেন শুধু বলেছিলেন, ‘গত এক বছর আট মাসে আমার এমন অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে, যার কিছুটা আমি বলতে পারবে। আবার কিছু বিষয় নিয়ে একেবারেই বলতে পারবে না। ’

ফটোগ্রাফার লু গুয়াং: অনেক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন লু গুয়াং। ২০১৮ সালের শেষ দিকে জন্মভূমি চীনে বেড়াতে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে উইগুর অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশ থেকে। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে উৎকণ্ঠা, ওঠে মুক্তি দেওয়ার দাবি। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে লু-র স্ত্রী টুইট বার্তায় জানান, তার স্বামীকে চার মাস আগে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং নিজের বাড়িতে এখন তিনি ভালো আছেন।

ইন্টারপোলের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেং হোংওয়েই: ইন্টারপোলের প্রথম চীনা বংশোদ্ভূত প্রেসিডেন্ট মেং হোংওয়েই-ও চীন সফরে গিয়েই উধাও হয়ে যান। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তার উধাও হয়ে যাওয়ার খবর আলোয় আসে। পরে জানা যায়, ঘুস নেওয়াসহ বেশ কিছু অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হলেও অভিযোগ ওঠার পর ইন্টারপোলের সেই পদ ছেড়ে দেন মেং। এখন চীনের কারাগারে ১৩ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট আল ওয়েইওয়েই: চীনের প্রখ্যাত শিল্পী এবং পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিস্ট আল ওয়েইওয়েই। ২০০৮-এর বেইজিং অলিম্পিকের বার্ড’স নেস্ট স্টেডিয়ামটা তার ডিজাইনে তৈরি। সরকারের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেওয়ায় ২০১১ সালে কোনো অভিযোগ ছাড়া বেইজিং বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৮১ দিন কারাগারে রাখার পর মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে তাকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দেয় চীন সরকার। জার্মানি, যুক্তরাজ্য হয়ে এখন পর্তুগালে বাস করছেন আল ওয়েইওয়েই।

বিলিওনেয়ার টেক মোঘল জ্যাক মা: আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা ২০২০ সালের অক্টোবরের এক ভাষণে চীন সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। তারপর অনেক দিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাকে। চীনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এক সময় তার বন্ধুরা জানান, আটক করার খবরটা ভুল। আরও জানানো হয়, চীন সরকারের বিষয়ে মন্তব্য করে সমালোচিত হওয়ায় জ্যাক মা এখন জনসমক্ষে আসতে চান না।

বাংলাদেশ সময়: ২১০৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০২১
জেএইচটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa