bangla news

দালাইলামার জন্মদিন: ভারতে ঢুকে শাসিয়ে গেলো চীনা সৈন্যরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৭-১৭ ৩:২২:৪১ পিএম
ভারতীয় ভূখণ্ডের ৬ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে আয়োজকদের শাসিয়ে গেছে চীনা সামরিক বাহিনীর একটি দল

ভারতীয় ভূখণ্ডের ৬ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে আয়োজকদের শাসিয়ে গেছে চীনা সামরিক বাহিনীর একটি দল

চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের নির্বাসিত নেতা দালাইলামার জন্মদিনের আয়োজন চলছিল সীমান্তবর্তী ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের লাদাখের একটি গ্রামে। সেই আয়োজনের প্রতিবাদে জানাতে সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের ৬ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে আয়োজকদের শাসিয়ে গেছে চীনা সামরিক বাহিনীর একটি দল। 

গত ৬ জুলাই লাদাখের পূর্বাঞ্চলের দেমচক সেনা-শিবিরের কাছে কোয়াল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দু’টি গাড়িতে আসা চীনের ওই ১১ সৈন্য লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করে। এই ঘটনায় নয়াদিল্লিতে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন সীমান্তবর্তী লাদাখের বাসিন্দারা।

ঘটনাটির ব্যাপারে চীনের সামরিক বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দোকলাম মালভূমির কাছের চীনের সড়ক নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে তাদের সঙ্গে ভারতের তীব্র উত্তেজনা ছড়ানোর দু’বছরের মাথায় এই ঘটনায় ফের উত্তপ্ত দু’দেশের সীমান্ত।

নয়াদিল্লির একটি সূত্রের দাবি, ৬ জুলাই লাদাখের কোয়াল গ্রামে তিব্বতের আধা-যাযাবর গোষ্ঠী চাঙ্গাপাসের লোকজন তাদের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামার জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করেছিল। এই আয়োজনের প্রতিবাদ জানাতে সাদা পোশাকে ১১ চীনা সৈন্য দু’টি গাড়িতে এলএসি ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর আয়োজকদের শাসিয়ে তারা একটি ব্যানার দেখায়, যেখানে লেখা ছিল ‘তিব্বতকে বিভাজিত করার উসকানিমূলক সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’। 

তবে এই কায়দায় ভারতে ঢুকে এভাবে আয়োজন পণ্ড করাটাকে ভালোভাবে নেননি ওই গ্রামের প্রধান এবং ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সদস্য উর্গাইন শোডন। তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এখানে দালাইলামার জন্মদিন উদযাপন হয়ে আসছে। এই আয়োজনে আমরা জাতীয় পতাকা, বৌদ্ধদের পতাকা এবং তিব্বতিয়ানদের পতাকা উত্তোলন করি। এবার চীনের বাহিনী আমাদের ভূখণ্ডের ছয় কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে গেছে এবং আমাদের বলেছে, আমরা নাকি তাদের উসকানি দিচ্ছি, এমনকি আমাদের এ ধরনের পতাকা না দেখানোর কথাও বলে গেছে।’

এ বিষয়ে লাদাখ স্বায়ত্তশাসিত পাহাড় উন্নয়ন পরিষদের প্রধান নির্বাহী কাউন্সিলর রিজিন স্প্যালবার বলেন, ‘চীনা বাহিনীর এই কাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের অবশ্যই ভূমিকা নেওয়া উচিত। এটা খুবই গুরুতর বিষয়। কিছু না বলে সত্য চেপে যাওয়ায় চীনা সৈন্যরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।’

ওই গ্রামের পাশেই ভারতের সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প ছিল, সেখানে যোগাযোগ না করেই কেন চীনা বাহিনী ভেতরে ঢুকে গেলো, সে উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ করে স্থানীয় ভারতীয়রা বলছেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের বাহিনীর যোগাযোগের আধুনিক উপায় থাকলেও তারা কেন তা করলো না? তাদের অবশ্যই কোনো গোপন উদ্দেশ্য আছে।’

এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ চীন ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতা সবসময়ই স্পষ্ট। চীনের দখলদারির প্রতিবাদে তিব্বতিয়ানরা বছরের পর বছর ধরে যে আন্দোলন করে আসছে, তাতে প্রতিবেশী ভারতের ইন্ধন রয়েছে বলে সন্দেহ করে বেইজিং। তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ায় এ সন্দেহ তাদের আরও বেশি বলে মনে করা হয়।
 
২০১৭ সালের গ্রীষ্মে সিকিমের কাছে দোকলাম মালভূমির সীমান্তে চীনের সৈন্যরা সড়ক নির্মাণ করছে অভিযোগ করে ওই এলাকায় ব্যাপক সৈন্য-সামন্ত জড়ো করে ভারতীয় বাহিনী। চীনা বাহিনীও তাদের সীমান্তে সামরিক রসদ বাড়াতে থাকলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। এই অচলাবস্থা ৭৩ দিন স্থায়ী ছিল। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চীন সফরে গেলে সংকট শিথিল হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৭, ২০১৯
এইচএ/

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-07-17 15:22:41