bangla news

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া বন্দি বিনিময়ের নাটক সম্পন্ন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-০৭-০৮ ৫:৪৩:০১ পিএম

স্নায়যুদ্ধের মতো উত্তেজনার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার ১০ গুপ্তচরকে মুক্তি দিলো যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে চার পশ্চিমা গুপ্তচরকে মুক্তি দেবে রাশিয়া। শুক্রবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন রাশিয়ার গুপ্তচররা।

নিউ ইয়র্ক: স্নায়যুদ্ধের মতো উত্তেজনার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার ১০ গুপ্তচরকে মুক্তি দিলো যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে চার পশ্চিমা গুপ্তচরকে মুক্তি দেবে রাশিয়া। শুক্রবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন রাশিয়ার গুপ্তচররা।

মস্কোর পক্ষে অবৈধ গুপ্তচরের তৎপরতা চালানোর জন্য নিউ ইয়র্কের কেন্দ্রীয় আদালতে অভিযুক্ত হয় ১০ ব্যক্তি। আদালত তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারও করেন।

নিউ ইয়র্কের একটি টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, এই ঘটনাটি ক্রেমলিন ও হোয়াইট হাউসের মধ্যকার সম্পর্ক হুমকির ফেলে দিয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত একটি নাটকীয় উপসংহারে এটি পৌঁছলো।  বৃহস্পতিবার রাতে আদালতে হাজিরা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার পরই রাশিয়ার গুপ্তচরদের মস্কোর বিমানে তুলে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাশিয়ার উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, আশা করা হচ্ছে, শুক্রবারই গুপ্তচররা ক্রেমলিনে পৌঁছবেন।

এদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে আটক চার জনকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়ার গুপ্তচরদের গত ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে অ্যানা চ্যাপম্যান ও ভিকি পেলেজ রয়েছেন। পেলেজ স্বীকার করেছেন তিনি অদৃশ্য কালিতে লেখা রাশিয়ার একটি চিঠি বহন করছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময়ের জন্য তারা কারাবন্দি থাকলে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো লাভ হবে না।” মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার একটি বিবৃতিতে বলেন, “আজ আমরা যে চুক্তিতে পৌঁছেছি তা যুক্তরাষ্ট্র ও এর স্বার্থের পক্ষে একটি সফল সমাধান।”

নিউ ইয়র্কের কেন্দ্রীয় বিচারক কিম্বা উড দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। শুনানিকালে তিনি রিমান্ডে নেওয়ার সময়কেই তাদের কারাদণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেন।

পেলেজ ছাড়া গুপ্তচরদের সবাই স্বীকার করেছেন তারা রাশিয়ার নাগিরক। কয়েকজন ভুয়া নাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের কথাও স্বীকার করেন। যেমন, রিচার্ড ও সিনথিয়া মারফির প্রকৃত নাম হচ্ছে যথাক্রমে ভ্লাদিমির ও লিদিয়া গুরিয়েভ। এছাড়া, ডোনাল্ড হিথফিল্ড এর প্রকৃত নাম আন্দ্রে বাজরুকভ।

এদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ায় কারাদণ্ড পাওয়া চার মার্কিন নাগরিককে তাদের অভিযোগ স্বীকার করতে বাধ্য করেছে। কর্মকর্তারা আরো জানান, “জড়িত চার জনকে কয়েক বছরের কারাভোগসহ তাদের মতো করে কথা বলার জন্য বলেছি। তবে জেল থেকে বের হওয়ার জন্য রাশিয়ার সরকারের হলফনামায় স্বাক্ষর করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”

আদালত চত্বরের বাইরে চ্যাপম্যানের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আনন্দিত। তবে, এর ফলে তাঁর ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তিনি বিষণ্ন। এই অবস্থায় তাঁকে মস্কোতে ফিরে যেতে হচ্ছে। নিউ ইয়র্কে চ্যাপম্যানের রিয়াল এস্টেটের সফল ব্যবসা রয়েছে।

মস্কোতে প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এর একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করে জানান, প্রেসিডেন্ট চার জন রাশিয়ার নাগরিককে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এদের মধ্যে অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ইগর সুতিয়াগিন রয়েছেন। এরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে পক্ষে রাশিয়ায় গুপ্তচরের কাজ করছিলেন।

বাংলাদেশ স্থানীয় সময়: ১৫১৮ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০১০


        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2010-07-08 17:43:01