ঢাকা, বুধবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১

আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তান: ন্যাটোর সহায়তায় তালিবানের সঙ্গে শান্তি বৈঠকে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১০-২০ ০৭:৩৮:০৭ পিএম
আফগানিস্তান: ন্যাটোর সহায়তায় তালিবানের সঙ্গে শান্তি বৈঠকে সরকার

ওয়াশিংটন: আফগানিস্তানে নয় বছরব্যাপী চলা যুদ্ধ শেষ করতে তালিবান বাহিনীর সঙ্গে বিস্তৃত পরিসরে ও মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে দেশটির সরকার। আর এতে সহায়তা করছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী ন্যাটো।



আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিবান বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার না হওয়ার আশ্বাস পেয়ে পাকিস্তান থেকে গোপনে আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছেন।

এর আগে কয়েকটি আলোচনা কাবুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই-এর অভ্যন্তরীণ লোকজন ও কোয়েটা শুরার সদস্যরা আলোচনায় বসছে। আফগানিস্তানে তালিবানের যুদ্ধ কার্যক্রম দেখভাল করে কোয়েটা শুরা। হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গেও আলোচনা চলবে বলে আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই নেটওয়ার্ককে সবচেয়ে কট্টরপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তালিবান নেতাদের গ্রেপ্তার বা আক্রমণ করা হবে না এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে পাকিস্তান থেকে রওয়া হয়েছেন। তালিবানের অনেক শীর্ষ নেতা পাকিস্তানে বসবাস করেন। কারণ এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, নেতারা অন্তত কিছু পরিমাণে পাকিস্তান সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা বলয়ে রয়েছে।

আফগানিস্তানের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, তালিবান নেতারা ন্যাটোর বিমানযোগে কাবুল উদ্দেশে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। ন্যাটো সেনারা নেতাদের জন্য রাস্তাঘাটের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কোয়েটা শুরার তিন সদস্য ও হাক্কানি পরিবারের আরও একজন আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, তালিবান ও আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুরু হওয়ার পথে রয়েছে।

আলোচনা সম্পর্কে জানেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বা কারজাইকে খুশি করতে এই আলোচনা হচ্ছে না। এর সবচেয়ে বড় স্বার্থ হচ্ছে আফগানিস্তানের মানুষ। ’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এই আলোচনাগুলো হচ্ছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে। তালিবান বাহিনী যখন দেখবে কোনো আঘাত না পেয়েই দেশের মধ্যে চলাফেরা করতে পারছে, তারা দেখবে দেশ সার্বভৌম হয়েছে। আমাদের ওপর আস্থা পাবে। ’

পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে মোল্লা ওমরকে এই আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। এর আগে যারা শান্তি আলোচনার জন্য এমনকি চেষ্টা করেছে তাদের হত্যা করেছে তারই সঙ্গীরা। আর এতে সহায়তা করেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

একজন আফগান কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব আলোচনা আইএসআই হতে দেবে না। যারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছে আইএসআই তাদের নির্মূল করে দেবে। ’

কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশনের কাছে দেওয়া সাাৎকারে হামিদ কারজাই তালিবানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন। তার মতে, নয় বছরব্যাপী যুদ্ধ সমাপ্ত করতে বেশ কিছু সময় ধরে এ আলোচনা চলছে।

সিএনএন-র বিখ্যাত সাংবাদিক ল্যারি কিং-এর কাছে কারজাই বলেন, ‘আমরা তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করছি, একজন স্বদেশীর সঙ্গে আরেক স্বদেশীর আলাপ করার মতো। ’ আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট বুরহানউদ্দিন রাব্বানি শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার একদিন পর এই সাাৎকারটি প্রচারিত হয়।

দুই সপ্তাহ আগে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, আফগান সরকার, পাকিস্তানভিত্তিক তালিবান বাহিনীর কোয়েটা শুরা গ্র“পের বেশ কিছু প্রতিনিধি ও তালিবান নেতা মোল্লা ওমরের মধ্যে গোপন আলোচনা চলছে।

কারজাই ল্যারি কিংকে বলেন, ‘শান্তি পরিষদ এখন বাস্তবে ফিরে এসেছে। আমি আশা করি, এই আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে ও প্রাণবন্তভাবে চলবে। ’ কারজাইয়ের নির্বাচন করা শান্তি পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৬৮ জন। গত ৭ অক্টোবর পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪১ ঘণ্টা, অক্টোবর ২০, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa