ঢাকা, শনিবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০, ০২ মার্চ ২০২৪, ২০ শাবান ১৪৪৫

আন্তর্জাতিক

ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান পরমাণু স্থাপনা নিষ্ক্রিয় করল রাশিয়া

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০২৩
ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান পরমাণু স্থাপনা নিষ্ক্রিয় করল রাশিয়া

রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমের মুরমান্সক অঞ্চলে পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি ফ্লোটিং টেকনিক্যাল বেইজ (এফটিবি) সফলভাবে ধ্বংস করতে সমর্থ হয়েছে রাশিয়া। এর জন্য দশ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে।

‘লেপসে’ নামের ভাসমান স্থাপনাটি রাশিয়ার প্রথম দিকের পরমাণু শক্তি চালিত আইস ব্রেকারগুলোর পরিচালনায় ব্যবহার করা হতো। একই সঙ্গে এটিতে ব্যবহৃত পরমাণু জ্বালানি সংরক্ষণ করা হতো। বহু বছর ধরেই স্থাপনাটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছিল।

বুধবার (২৯ নভেম্বর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রোসাটমের উপ-মহাপরিচালক আন্দ্রেই নিকিপেলভ জানান, বিশ বছরের অধিক সময় ধরে রোসাটম পর্যায়ক্রমে আর্কটিক উপকূল এবং দূরপ্রাচ্য অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তা নির্গমনকারী বিভিন্ন বস্তু অপসারণের কাজ করে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বাতিল ও ডিকমিশনকৃত পরমাণু আইসব্রেকারসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট জাহাজ সমূহ। লেপসে ভাসমান টেকনিক্যাল বেইজটি নিরাপদে ভেঙে ফেলার মধ্য দিয়ে আজকে রোসাটম সফলভাবে তাদের অন্যতম মাইলফলক পরিবেশ প্রকল্প সম্পন্ন করলো।

লেপসে-তে মূল তেজস্ক্রিয় যে বস্তু ছিল, সেটি হলো স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েলের (এসএনএফ) এর ৬৩৯টি বান্ডেল, যার মধ্যে কিছু সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত। এসব ফুয়েল বান্ডেল অপসারণের জন্য প্রয়োজন ছিল বিশেষ প্রকৌশল সমাধান।

স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল বান্ডেলগুলো বের করে আনার জন্য লেপসে-কে বিশেষভাবে ডিজাইনকৃত ও নির্মিত তীরবর্তী একটি সাইটে স্থাপন করা হয়। কাজটি সম্পাদনের জন্য বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম প্রস্তুতও করা হয়। এই কাজে ব্যবহৃত হয় রিমোট কন্ট্রোল একটি রোবট ইউনিট।

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে পরমাণু শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রুশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মুরমান্সক অঞ্চলে স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েলের অপসারণ কাজ পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে চলছে। ২০০২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে জমাকৃত স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েলের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর ‘আন্দ্রেইভ বে’ স্থাপনায় জমাকৃত স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েলের অর্ধেকেরও বেশি ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে এবং ২০২৮ সাল নাগাদ কাজটি সম্পন্ন হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০২৩
এসকে/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।