ঢাকা, বুধবার, ৫ আষাঢ় ১৪২৬, ১৯ জুন ২০১৯
bangla news

ফেসবুক আমাদের আইন পকেটে নিয়ে ঘোরে: জব্বার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-২৫ ৬:০৮:৩৫ পিএম
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার

ঢাকা: ফেসবুক বাংলাদেশের প্রণয়ন করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পকেটে নিয়ে ঘোরে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এই আইনকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ইংরেজি সংস্করণ ফেসবুকের কর্তাব্যক্তিদের কাছে থাকে বলেও মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী।

শনিবার (২৫ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। 

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’টি বাংলাদেশের আগে আর কেউ করেনি। ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানকে আমরা আমাদের এই আইনের কথা বলেছি। তাদের আমি বলেছি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক প্রেক্ষাপট আর আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট এক না। বাক স্বাধীনতার নামে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করবে, অপমান করবে, তোমাদের (ফেসবুক) সেই আইন এখানে (বাংলাদেশে) চলবে না। আমাদের নিজেদের আইন আছে। তোমাদের কমিউনিটি গাইডলাইন্স যাই থাকুক না কেন, সেটি এই আইনের সঙ্গে সহায়ক হতে হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যে বাংলাদেশ সবার আগে করবে তা কেউ ভাবেনি। এই আইন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হওয়া দরকার। তাই এই আইনেই বিধিমালা তৈরির বিধান রাখা হয়েছে। ফলে কখনও এই আইনে কোনো পরিবর্তন দরকার হলে সংসদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যেতে হবে না। দাপ্তরিকভাবেই সহজে বিধিমালা প্রণয়ন বা পরিবর্তন করা যাবে। ইন্টারনেটকে নিরাপদ রাখতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

আগামী দিনে যুদ্ধ-সংঘাতও সাইবার জগতে হবে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আগামী দিনে যুদ্ধও হবে সাইবার জগতে। তাই আমাদের সামরিক বাহিনীগুলোকে এবং পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত হতে হবে। সাইবার ক্রাইম ইউনিট শুধু রাজধানী বা জেলা শহরগুলোতে না রেখে প্রতিটি থানায় ছড়িয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। থানা পর্যায়ে এসব সাইবার ইউনিটে থাকবে দক্ষ জনবল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি।

এসময় বাংলানিউজের প্রতিবেদনের করা এক প্রশ্নের জবাবে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপসের ডিভাইসে অনুপ্রবেশের অনুমতি নেওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমাদের গোপনীয়তা যে প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে তা দৈনন্দিন জীবনের এক বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরজন্য দায়ী মোবাইলভিত্তিক অ্যাপসগুলো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে, এসব অ্যাপস যারা তৈরি করেন তারা তার আগে আমাদের থেকে অনুমতি নেন না। তাই তাদেরকে আমাদের তরফ থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা একরকম অসম্ভব। তবে বিভিন্ন ধরনের আইনের মাধ্যমে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাইবার নিরাপত্তায় ‘ফায়ারওয়াল’ এর প্রতি আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানান বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফায়ারওয়াল এর প্রতি গুরুত্ব আরোপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি কম্পিউটার ব্যবস্থার নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত করে একটি ভালো ফায়ারওয়াল। অথচ এখানেই আমাদের অনেক উদাসীনতা। বিশেষ করে ফায়ারওয়াল আমদানি করতে সবমিলিয়ে ৬০ শতাংশের বেশি কর দিতে হয়। যে কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফায়ারওয়াল এ সেভাবে বিনিয়োগ করেন না। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই কোনোরকমে একটি ফায়ারওয়াল রাখেন। এছাড়াও দেশীয় আইটি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিতভাবে আইটি অডিট করতে হবে। নয়তো দেশীয় তথ্য বাইরে পাচার হওয়াসহ বিভিন্ন সাইবার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।  

আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবকিছু প্রকাশ না করার আহ্বান জানান আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক। তিনি বলেন, সাইবার জগতে আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয় তার একটি বড় কারণ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে আমাদের সবকিছু শেয়ার (প্রকাশ) করা। আমরা যাই করি বা করবো তার সবকিছুই এসব প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করি যা মোটেও উচিত নয়। আমাদের ঠিক ততটুকু প্রকাশ করা উচিত যতটুকু সামাজিক যোগাযোগের জন্য দরকার। নিজেরা সচেতন হলে ঝুঁকি এমনিতেই অনেকখানি কমে যাবে।

কর্মশালায় মূল্য প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য ড. মুহম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম। এছাড়াও এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য অপরাজিতা হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক কমিশনার মনিরুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব খায়রুল আমীন।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৮০৬ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০১৯
এসএইচএস/জেডএস

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ফেসবুক ডিজিটাল বাংলাদেশ
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-05-25 18:08:35