ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ মে ২০১৯
bangla news

নাসা স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০২-১৭ ১১:৫৪:১০ এএম
টিম অলিকের ‘লুনার ভি আর প্রজেক্ট’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারী চাঁদে ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা পাবেন। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

টিম অলিকের ‘লুনার ভি আর প্রজেক্ট’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারী চাঁদে ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা পাবেন। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮-এ অংশগ্রহণকারী ১ হাজার ৩৯৫টি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। বেস্ট ইউজ অব ডেটা ক্যাটাগরিতে শীর্ষ চারে স্থান করে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া ও জাপানের দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এই চ্যাম্পিয়ন খেতাব অর্জন করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম অলিক’।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) গণসংযোগ ও গণমাধ্যম বিষয়ক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ও নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের প্রকল্প প্রধান মো. ওয়াসেক সাজ্জাদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ঘোষিত প্রাথমিক ফলাফলে বিশ্বের ৭৯টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৭২৯টি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের দু’টি ক্যাটাগরির শীর্ষ চারে উঠে আসে বাংলাদেশ। 

টিম অলিকের ‘লুনার ভি আর প্রজেক্ট’টি মূলত একটি ভারচুয়াল রিয়েলিটি অ্যাপ্লিকেশন যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী চাঁদে ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা পাবেন। ‘টিম অলিক’ নাসা প্রদত্ত বিভিন্ন রিসোর্স থেকে থ্রিডি মডেল ও তথ্য সংগ্রহ করে নাসা আপোলো ১১ মিশনের ল্যান্ডিং এরিয়া ভ্রমণ, চাঁদ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা এবং চাঁদকে একটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আবর্তন করা- এই তিনটি ভিন্ন পরিবেশকে ভার্চুয়ালভাবে তৈরি করেছে। 

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম। 

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মিত হচ্ছে আমাদের তরুণদের হাত ধরে। তরুণদের নিয়ে গড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘টিম অলিক’ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করেছে। বাংলাদেশে বেসিস, বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের মাধ্যমে এ আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমি টিম অলিক এবং বেসিসকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এ অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার আরেকটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

নাসা  স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮-এর আহ্বায়ক দিদারুল আলম বলেন, আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এ অর্জন গোটা বাংলাদেশের। টিম অলিক বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। অক্লান্ত এ পরিশ্রমের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ করে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর,  যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল হাসান অপু, প্রধান বিচারক (বাংলাদেশ) মাহদী-উজ-জামান এবং প্রকল্প সমন্বয়ক মো. ওয়াসেক সাজ্জাদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

টিম অলিকের দলনেতা আবু সাবিক মাহদি বলেন, প্রথমবারের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমি আমাদের মডারেটর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী এবং বেসিসের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন আমাদের প্রতি বাংলাদেশের সবার অনেক প্রত্যাশা। আমরা বাংলাদেশকে আরও উঁচুতে আসীন করতে চাই।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এবার ৯টি শহরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লা) বাছাই প্রতিযোগিতা হয়। এতে ২০০০ প্রকল্প থেকে বাছাই করে সেরা ৪০টি প্রকল্প নাসার জন্যে মনোনীত করা হয়।  

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতায় ছয়টি ক্যাটাগরির ছয়টি চ্যাম্পিয়ন দল নাসায় যাওয়ার এবং শিক্ষানবিশ হিসেবে কিছুদিন কাজ করার সুযোগ পাবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১১৪৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯
এইচএ/

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14