ঢাকা, শনিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

হাওড়া ব্রিজে কর্মচঞ্চল প্রাণের মেলা!

মানসুরা চামেলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৩৩৬ ঘণ্টা, মার্চ ২৪, ২০১৭
হাওড়া ব্রিজে কর্মচঞ্চল প্রাণের মেলা! হাওড়া ব্রিজের বর্ণিল আলোয় মোহনীয় রূপ ধারণ করে সন্ধ্যা/ছবি: সুলতানা জাহান

কলকাতা থেকে: হাজার হাজার মানুষ, যেন মানুষের স্রোত। কারো হাতে ভ্রমণের ব্যাগ, কারো হাতে বাজারের। কুলি-দিনমজুরদের মাথায়ও ব্যাগের বোঝা। সবার হাঁটার ভঙ্গিতে রাজ্যের তাড়া।

তবে গোধূলি লগ্ন পেরিয়ে সন্ধ্যার আলো-আধাঁরে হাতে হাত রাখা প্রেমিক জুটি এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। প্রিয় মানুষের সঙ্গের পাশাপাশি গরমের মধ্যে শরীরে বাতাসের শীতল পরশ।

সময়টা থমকে থাকার দাবি তাদের।  

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ব্রিজে এমন কর্মচঞ্চলতার দৃশ্য নিত্যদিনের। আড়াআড়ি স্টিলের পাত দিয়ে ধরে রাখা রবীন্দ্র সেতু নামাঙ্কিত ব্রিজটি কেবল মানুষকে পারাপারই করে না, সবাইকে মিলনমেলায় ডেকেও নেয়। রোমাঞ্চিত অনুভূতিরও সঞ্চার করে মনে-প্রাণে।
হাওড়া ব্রিজের বর্ণিল আলোয় মোহনীয় রূপ ধারণ করে সন্ধ্যা/ছবি: সুলতানা জাহানগঙ্গা নদীতে নির্মিত কলকাতা মহানগর ও হাওড়া জেলার সংযোগ সেতুটি তাই যেন কর্মচঞ্চল প্রাণের মেলা।

৩০ বছর ধরে কলকাতা সিটিতে ট্যাক্সি চালাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব ট্যাক্সি ড্রাইভার যাদব। তিনি জানান, কলকাতার মুখে দু’টি আর হাওড়ার মুখে দু'টি করে মোট চারটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে হাওড়া ব্রিজ। ৭শ’ মিটারেরও বেশি দৈর্ঘে্যর এ ব্রিজের মাঝখানে আর কোনো পিলার নেই। বাইরের হোক আর কলকাতার হোক, মানুষ রোজ হাওড়া ব্রিজ বেড়াতে আসবেনই।

ব্রিজের ওপর ছবি তোলা নিষেধ- কথাটি স্মরণও করে দেন বিহারের চালক যাদব।
হাওড়া ব্রিজের বর্ণিল আলোয় মোহনীয় রূপ ধারণ করে সন্ধ্যা/ছবি: সুলতানা জাহানকলকাতার বৃহত্তম হাওড়া স্টেশনে নেমে ট্যাক্সিতে বা পায়ে হেঁটেই হাওড়া ব্রিজে যাওয়া যায়। পথে ফুটপাতজুড়ে ছোলা বাটোরা, দোছা, রুটি মাসালা, চাওমিন, মমোসহ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্ট্রিট ফুট নিয়ে বিক্রেতাদের হাঁক-ডাক চোখে পড়ে।  

হাওড়া স্টেশন থেকে একটু এগোলেই গঙ্গার চান ঘাট। ঘাটে বসলে শীতল বাতাস মনকে প্রশান্তিতে ভরে দেয়। হাওড়া ব্রিজের বর্ণিল আলো আর গঙ্গার আশেপাশের দালান-মন্দিরের আবছা আলোয় সন্ধ্যাটা মোহনীয় রূপ ধারণ করে। ঐতিহাসিক সেতুর এ রূপ অদ্ভুত ভালো লাগা ছুঁয়ে দেয়। সন্ধ্যার আবছা আলোয় গঙ্গার পানিতে ভেসে ওঠা ময়লা-আর্বজনা দেখা যায়। ময়লা এড়িয়েই ঘাটে স্নান করেন পূণ্যার্থীরা।

চানঘাটে বসে স্থানীয় তরুণ সুজিত রায় জানান, হাওড়া ব্রিজের দুই মুখে দু'টি ঘাট। এখানে রাত পর্যন্ত স্নান করেন পূণ্যার্থীরা। আর রাত দশটা পর্যন্ত আড্ডা দেন তরুণেরা। সন্ধ্যার সময়টা আড্ডার জন্য উপযুক্ত বলেও জানান তিনি।
হাওড়া ব্রিজের বর্ণিল আলোয় মোহনীয় রূপ ধারণ করে সন্ধ্যা/ছবি: সুলতানা জাহান

দুই লেনের হাওড়া ব্রিজের রেলিং দেওয়া হাঁটার স্থানটি প্রায় ১৫ ফুট প্রশস্ত। গিজ গিজ করা মানুষের মাঝেই ব্রিজে ওঠার মুখে প্লাস্টিক বিছিয়ে কয়েকজন নারী-পুরুষ সবজি-তরকারি বিক্রি করেন। কর্মব্যস্ততা সেরে ফেরার পথে মানুষ দরকারি কেনাকাটাও সেরে নেন তাদের কাছ থেকে।

আশেপাশের ভবন থেকে আসা আলোর বিচ্ছুরণে চিকচিক করে ওঠে গঙ্গার পানি। গঙ্গার বুকে ছোট ছোট লঞ্চ ছাড়াও চলে ইঞ্জিন চালিত নৌকা। পায়ে হেঁটে দশ-পনের মিনিটে হাওড়া ব্রিজ পার হওয়া যায়।

ব্রিটিশ বিদ্রোহের সময় গড়ে ওঠা হাওড়া ব্রিজটি যেন ইতিহাস বুকে নিয়ে চুপ করে বসে আছে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯২৪ ঘণ্টা, মার্চ ২৪, ২০১৭
এমসি/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।