ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩১, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

ভারত

টিকিট পেলেন সায়ন্তিকা, কিন্তু দলেই বাড়ছে ক্ষোভ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০২ ঘণ্টা, মার্চ ২৯, ২০২৪
টিকিট পেলেন সায়ন্তিকা, কিন্তু দলেই বাড়ছে ক্ষোভ অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা: ভারতে সাত ধাপে জাতীয় নির্বাচন (লোকসভা ভোট) শুরু হবে ১৯ এপ্রিল। শেষ ভোট হবে ১ জুন।

সেই সঙ্গে দেশটির ২৬ রাজ্যের বিধানসভা উপনির্বাচন হবে।  

এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বরানগর আসন ও মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা বিধানসভার উপনির্বাচন হবে।  

মঙ্গলবার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুই আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল শাসক তৃণমূল।

বরানগরে প্রার্থী করা হয়েছে, দলের রাজ্য সম্পাদক অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর ভগবানগোলা বিধানসভার উপ নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে রেয়াত হোসেন সরকারকে। ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়ক ইদ্রিস আলি সম্প্রতি মারা গেছেন। সেই কারণে সেখানে উপ-নির্বাচন হবে।  

আর বরাগরের তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে, উত্তর কলকাতা আসন থেকে লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। সেই কারণে উপ-নির্বাচন হচ্ছে বরানগরে। আগামী ১ জুন দুই আসনে ভোটগ্রহণ। ৪ জুন লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার দিন, উপনির্বাচন আসনের ফল ঘোষণা হবে।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়া প্রার্থী হয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু, বিজেপির কাছে পরাস্ত হতে হয়। এরপর দল তাকে জানায়, বাঁকুড়ার মাটি কামড়ে পড়ে থাকলে ২৪ সালে তাকে সংসদ নির্বাচনের টিকিট দেওয়া হবে। সেই মত অভিনেত্রী, বিনোদন জগতকে একপ্রকার বিদায় দিয়ে দলের অনুগামী সৈনিক হয়ে কলকাতা ছেড়ে বাঁকুড়ার মাটি কামড়ে পড়েছিলেন।  

কিন্তু সংসদ নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দেখা যায় তালিকায় নাম নেই অভিনেত্রীর। এরপরই দলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন সায়ন্তিকা। প্রার্থী হতে না পেরে অভিমানের কথা প্রকাশ্যে বলেও ফেলেছিলেন অভিনেত্রী।  

তবে তার অভিমানের দাম, কিছুটা পেলেন। বাঁকুড়া লোকসভার বদলে তাকে বরানগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করল শাসক তৃণমূল।

অনেকেই বলছেন, ‘নাই মামার থেকে কানা মামা ভালো’। আবার বিরোধীদের অভিমত, ‘শাসকদল দুধের সাধ ঘোলে মেটালেন’। যদিও এ নিয়ে অভিনেত্রী এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।  

তবে যদি তিনি বরানগরে জিতে বিধায়ক হতে পারেন, তা হলে তার পরিষদীয় রাজনীতিতে যাওয়ার স্বপ্নও পূরণ হবে। বিজেপি ইতোমধ্যেই ওই কেন্দ্র থেকে দাপুটে নেতা সজল ঘোষকে প্রার্থী করেছে। সেই সজলের বিরুদ্ধেই সায়ন্তিকাকে প্রার্থী করল তৃণমূল।

এদিকে সায়ন্তিকাকে প্রার্থী করা হয়েছে জেনে, ওই আসনে শাসকের একাংশ বেশ চটেছেন। প্রকাশ্যে তারা বলেছেন, আমরা রাজনৈতিক প্রার্থী চাই। কোনো বহিরাগতকে নয়।  

তৃণমূল এক নেতার কথায়, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এখানে অভিনেত্রী পার্নো মিত্রকে প্রার্থী করেছিল। তখন আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলেছিলাম, সেলিব্রিটিকে ভোট দিলে তাকে আর পাওয়া যাবে না। জনগণ কথা রেখেছে। এখন আমরা তাদের গিয়ে কী বলব? লোকে তো সেই কথাগুলো আমাদেরই বলছে।  

ফলে সবমিলিয়ে সায়ন্তিকার নাম ওই কেন্দ্রের একাংশ মেনে নিতে পারছেন না। তবে শাসকও পণ করে নিয়েছে, বরানগর থেকেই লড়বে অভিনেত্রী। ফলে, ফলাফল কি হয় তা সময় বলবে।

২১ সালের বিধানসভা ভোটে এক ঝাঁক বিনোদন জগতের মুখ তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে জুন মালিয়া, কাঞ্চন মল্লিক, রাজ চক্রবর্তী ইতোমধ্যে বিধায়ক হয়েছেন। সায়নী ঘোষ ও সায়ন্তিকা বিধানসভা ভোটে জিততে পারেননি। তাদের সংগঠনে দায়িত্ব দেওয়া হয়।  

এবারে সায়নীকে কলকাতার যাদবপুর লোকসভা আসনের প্রার্থী করা হয়েছে। সায়ন্তিকা পেলেন বিধানসভা ভোটের টিকিট। অপরদিকে, ভগবানগোলা মুসলিম অধ্যুষিত আসন। ৬২ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে সেখানে। তাই স্থানীয় মুখ রেয়াত হোসেন সরকারকে সেখানে প্রার্থী করেছে শাসক তৃণমূল।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৬ ঘণ্টা, ২৯ মার্চ, ২০২৪
ভিএস/এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।