ঢাকা, সোমবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ শাবান ১৪৪৫

ভারত

পঞ্চায়েতে এগিয়ে তৃণমূল, আসন বেড়েছে বাম-কংগ্রেস-বিজেপির

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১০৫ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২৩
পঞ্চায়েতে এগিয়ে তৃণমূল, আসন বেড়েছে বাম-কংগ্রেস-বিজেপির

কলকাতা: মঙ্গলবার (১১ জুলাই) কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপের আকাশ যখন সবুজ আবিরে ছয়লাপ, তখন পঞ্চায়েত নির্বাচনে সহিংসতার প্রসঙ্গ টানলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, তৃণমূল এমনিতেই জিততো।

যেসব জায়গায় সহিংসতা হয়েছে তার দরকার ছিল না। এটা সত্যি যে, প্রায় ৭০ হাজার বুথের মধ্যে যে ১০০টি বুথে অশান্তি হয়েছে, সেটাই সংবাদমাধ্যম বারে বারে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখাচ্ছে। কিন্তু আমি সংবাদমাধ্যমকে দোষ দিতে রাজি নই। ৭০টি বুথের গণ্ডগোল থেকে যদি ৪০টি প্রাণ যায়, তাহলে আমাদের সবাইকে বিড়ম্বনায় ফেলে।

তার বক্তব্য, নিচুতলার কর্মীরা এ সমস্ত গণ্ডগোল করায় বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সমালোচনার সুযোগ পেয়েছেন। বাবুলের কথায়, মমতা দিদি ও অভিষেক, যারা অত্যন্ত দৃঢ় ভাষায় বারবার বলেছিলেন যে, এসব বরদাস্ত করা হবে না। নিচুতলার কর্মীদের জন্য তাদের গায়ে কাদা ছেটানোর সুযোগ পেয়েছে বিরোধীরা। তারা এটাই চেয়েছিল গণ্ডগোল হোক এবং তৃণমূল কলুষিত হোক।

এ বিষয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলের নিচুতলার কর্মীরাই ভোটের ময়দানে কাজ করে। তাদের নামে বদনাম করে উনি (বাবুল) নিজের নেতাকর্মীদের বাঁচাতে চাইছে। কর্মীদের কাছে নির্দেশ না থাকলে তারা অশান্তি করতে পারে না। এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চলছে। এটা প্রকৃত ফলাফল নয়। ফল প্রকাশ নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, সব জায়গায় প্রার্থী দিতে পারেনি। গণনার দিনে সব বুথে এজেন্ট দিতে পারিনি। পঞ্চায়েতে ভোটের নামে এবারও প্রহসন হয়েছে।  

যদিও পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটের ফল ঘোষণা এখনও চলছে। সম্পূর্ণ ফলাফল পেতে আগামী বুধবার (১২ জুলাই) হয়ে যাবে। তবে আসন সংখ্যার নিরিখে বিরোধীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।  

মঙ্গলবার রাত ৯টায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন যে পরিসংখ্যান জানিয়েছে, তাতে গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ৬৩ হাজার ২৬৬টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জয় পেয়েছে ৪০ হাজার ৪৭৯টি আসনে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। তারা পেয়েছে ৭ হাজার ৮৩টি আসন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিপিআইএম। তারা তিন হাজার ৫৯টি আসনে জয় পেয়েছে। আর কংগ্রেস জয় পেয়েছে ২ হাজার ২২৯টি আসনে। স্বতন্ত্ররা জয় পেয়েছে ২ হাজার ১৪১টি আসনে।

এছাড়া পঞ্চায়েত সমিতি মোট ৯ হাজার ৭৩০ আসনের মধ্যে তৃণমূল জয় পেয়েছে ১ হাজার ৮৯৪, বিজেপি ৭০, সিপিআইএম পেয়েছে ৩০ এবং কংগ্রেস ৩৬ ও স্বতন্ত্ররা দুটি আসনে জয় পেয়েছে।  

অপরদিকে রাজ্যের ২২ জেলার ৯২৮ জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে তৃণমূল ৮১, বিজেপি ১, বাকিরা শূন্য।

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের তুলনায় বেশি আসনে জিতেছে বিরোধীরা। বিরোধীদের মত, এবার পঞ্চায়েত ভোটে গত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণ আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে সিপিআিএম, বিজেপি ও কংগ্রেস। স্বাভাবিকভাবেই আসন সংখ্যা বাড়ার সেটিও একটি কারণ। সেই অনুপাতে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল বাকিদের তুলনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা গতবারের থেকে কমেছে।

গত শনিবার (৮ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গে একধাপে ভোট হয়েছে ২২ জেলায়। কলকাতা বাদ দিয়ে রাজ্যটির এ ২২ জেলার মধ্যে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ভোট হয়েছে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট। বাকি জেলাগুলোতে ত্রি-স্তর বিশিষ্ট (গ্রাম সভা, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ) অংশে ভোট হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হয়েছে। প্রতিক্ষেত্রেই বিরোধীদের থেকে এগিয়ে রয়েছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস।
 
বাংলাদেশ সময়: ০১০৪ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২৩
ভিএস/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।