ঢাকা, শনিবার, ১৫ মাঘ ১৪২৮, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আগরতলা

আগরতলায় ফুটপাতে ভাপা পিঠার পসরা

সুদীপ চন্দ্র নাথ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৪০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০২১
আগরতলায় ফুটপাতে ভাপা পিঠার পসরা হাড়িতে ভাপাপিঠা। ছবি: বাংলানিউজ

আগরতলা, (ত্রিপুরা): ভোজনরসিক বাঙালিদের কাছে শীত মানেই পিঠেপুলির আনন্দ। শীতের সকালে বা সন্ধ্যায় জামা গায়ে জড়িয়ে বসে গরম গরম পিঠেপুলি খাওয়ার মজাই আলাদা।

এই সময়ে মাঠ থেকে পাকা ধান উঠতে শুরু করেছে কৃষকরা।  আর ঘরে ঘরে নতুন ধানের চাল দিয়ে গ্রাম-বাংলায় বানানো হচ্ছে রকমারি স্বাদের নানান পিঠাপুলি। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে তা।  

নগরায়নের ফলে শহরের দোকানের নানা ফাস্টফুডে ডুবে থাকা ছেলেমেয়েদের অনেকেই এখন আর গ্রাম-বাংলার নানান সব পিঠেপুলির স্বাদের সঙ্গে পরিচিত নয়। কারণ ব্যস্ত জীবনে অভ্যস্ত মানুষ এখন আর ঘরে সময় নষ্ট করে এসব বানাতে রাজি নয়, তাই ভরসা দোকানের ফাস্টফুড। ফলে নবপ্রজন্ম বঞ্চিত হচ্ছে দিদি ঠাকুমার হাতের পিঠেপুলির স্বাদ থেকে। তবে, এখনো আগরতলায় পিঠে পুলির ঘ্রাণে ভরা শীতের চিরাচরিত আমেজ এনে দিচ্ছেন জয়া, শিপ্রা, রেখারা। রাজধানীর লেক চৌমুনী বাজার, মন্ত্রী বাড়ি রোড, শকুন্তলা রোড, পোস্ট অফিস চৌমুহনী এলাকায় শীতের সন্ধ্যায় চলাচল করলে নাকে ভেসে আসে বিন্নি চালের তৈরি ভাপা পিঠার ঘ্রাণ। প্রতিবছর শীত এলেই শহরের ফুটপাতে বসে নারী-পুরুষ স্টোভে আগুন জ্বালিয়ে তৈরি করেন ভাপা পিঠা। কাজের জন্য শহরে আসা বা বাড়ি ফেরার পথে পিঠেপুলির এমন মিষ্টি ঘ্রাণ নাকে এলে নস্টালজিক হয়ে থমকে দাঁড়াতে হয় আধুনিকতার ছোঁয়ায় ব্যস্ত হয়ে যাওয়া বাঙালিকেও। শত ব্যস্ততায়ও এমন সুমিষ্ট ঘ্রাণের উৎস কোথায় তা জানতে এদিক-ওদিক চোখ দুটি ছুটে চলে। অনেক সময় দেখা যায় পাশেই রাস্তার ওপর মাদুর পেতে বসে নিপুণ হাতে এক নারী তৈরি করে যাচ্ছেন ভাপা পিঠা।

অনেকে জায়গায় দাঁড়িয়ে চটপট মুখে পুরে চেকে নেন হারানো স্বাদের খাবার। অনেকে আবার পার্সেল করে পা বাড়ান বাড়ির উদ্দেশ্যে। এভাবেই নিজের অজান্তে পেটের তাগিদে বাঙালির ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছেন জয়া শিপ্রা রেখারা।  রাজধানীর পোস্টঅফিস চৌমুহনীতে বসে ভাপা পিঠা বিক্রি করেছেন জয়া সেন নামে মধ্যবয়সী এক নারী।  তিনি বাংলানিউজকে জানান, গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে শীতের মৌসুমে এখানে বসে ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন। প্রথম কয়েক বছর তিনি পাঁচ রুপি করে একটি ভাপা পিঠা বিক্রি করতেন। এখন একটি ভাপা পিঠা ১০ রুপি করে বিক্রি করছেন। বিক্রি বেশ ভালোই হয়, প্রতিদিন ৫শ রুপি থেকে থেকে ৭শ রুপির পিঠা বিক্রি হয়।  খানিকটা এগিয়ে দেখা গেল দুই নারী বসে ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন। রেখা পাল নামে পিঠাবিক্রেতা জানান, তিনি ভাপাপিঠার পাশাপাশি পাটিসাপ্টও বিক্রি করেন।  এরমধ্যে কোনটির চাহিদা বেশি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাপা পিঠার কারণ পাটিসাপ্টা বাড়ি থেকে বানিয়ে আনতে হয় আর জায়গায় দাঁড়িয়ে গরমাগরম ভাপা পিঠা তৈরি করে দেন। তাই ক্রেতারা গরম ভাপা পিঠা খেতে বেশ পছন্দ করেন। এখন আগরতলার কিছু কিছু মিষ্টির দোকানও মালপোয়া, তালসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করে থাকে। তবে ভাপা পিঠা এখন পর্যন্ত ফুটপাতে বসে তৈরি করতে দেখা যায়। তাদের হাত ধরে হয়তো বাঙালিরা শীতের আমেজ উপভোগ করেন বছরের পর বছর।
 

বাংলাদেশ সময়: ২১৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০২১
এসসিএন/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa