ঢাকা, সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

আগরতলা

বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্যবাহী গাড়ি বাড়াতে কাজ করছে ভারতীয় সরকার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৫৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০২১
বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্যবাহী গাড়ি বাড়াতে কাজ করছে ভারতীয় সরকার

আগরতলা, (ত্রিপুরা): বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্যবাহী গাড়ি বাড়ানো জন্য কাজ করছে ভারতীয় সরকার বলে জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল রমেশ বৈশ্য।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) আগরতলার আসাম রাইফেলস ময়দানে প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।



রাজ্যপাল বলেন, রাজ্যের উন্নয়নের জন্য সরকার গুরুত্বারোপ করেছে। এজন্য কৃষিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জৈব পদ্ধতিতে চাষে গুরুত্বারোপ দিচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কিনছে। কৃষকদের জন্য কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড, ফসল বিমা যোজনা চালু করেছে। পাশাপাশি মাছচাষ এবং ডেইরি শিল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্প উন্নয়নের জন্য আগরতলার পার্শ্ববর্তী বোধজংনগরের শিল্প তুলে ধরতে নতুন নতুন শিল্প স্থাপন করা হচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন বাড়ানো জন্য সরকার কাজ করছে। এজন্য আগরতলার আখাউড়া ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের পাশাপাশি দক্ষিণ জেলার সাব্রুমেও একটি ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।

রাজ্যে এখন দুটি সীমান্ত হাট রয়েছে রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তে আরও দুটি সীমান্ত হাট স্থাপন করা হবে। আগরতলা-আখাউড়া রেলপথ স্থাপিত হলে বাণিজ্যে আরও গতি আসবে। সরাসরি দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন হবে। এখন এই রেলপথ স্থাপনের কাজ চলছে। ঠিক একইভাবে দক্ষিণ জেলার সাব্রুম এলাকায় মৈত্রী সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে অতি সহজে এবং দ্রুতগতিতে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। এই সেতু চালু হওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। একইভাবে সাব্রুমে প্রথম বিশেষ শিল্প অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। সেসঙ্গে করোনা মহামারিতে সরকার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করেছে। ইতোমধ্যে ছয় লাখের বেশি লোকের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সুস্থতার হার ৯০ শতাংশের বেশি। সবমিলিয়ে রাজ্য সরকার মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।  

সবশেষে তিনি মাঠে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ত্রিপুরা পুলিশসহ বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সামনে দিয়ে ত্রিপুরা পুলিশের গাড়িতে করে প্রদক্ষিণ করেন। এরপর তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য পুলিশদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। পরে তিনি তাদেরকে মেডেল তুলে দেন।

রাজ্যপালের ভাষণের পর মাঠে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থার সদস্যরা। তবে, করোনার কারণে এবছর স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন থেকে বিরত রাখা হয়। পাশাপাশি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মার্চ ফাস্ট করেননি।

মাঠে অতিথি হিসেবে রাজ্যপাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, আগরতলা স্থিত বাংলাদেশ সরকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে, করোনার কারণে মাঠে সাধারণ মানুষের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা ছিল এদিন।

ত্রিপুরা রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে উদযাপিত হয় এই দিনটি।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০২১
এসসিএন/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa