ঢাকা, শুক্রবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ সফর ১৪৪২

বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯

ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন যারা

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২৪০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন যারা ফাইল ফটো

আরেকটি বিপিএলের উত্তেজনায় ভাসতে যাচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। ধুমধারাক্কা ব্যাটিংয়ের ছন্দ নিয়ে আসতে যাচ্ছে সপ্তম বিপিএল। এবারের বিপিএলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) মাঠে গড়াতে যাচ্ছে মেগা এই ইভেন্টের।

গত আসরে ২২ গজে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে শীর্ষে ছিলেন এক বিদেশি। ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ রান করেছেন রংপুর রাইডার্সের রিলে রুশো।

গতবার শীর্ষ পাঁচের তিনজনই বিদেশি, দেশিদের মধ্যে দুই ও তিনে ছিলেন তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম।

গত আসরের ব্যাটিংয়ের শীর্ষ পাঁচ:
১। রিলে রুশো (রংপুর রাইডার্স)

গত আসরে শুরু থেকেই চমক দেখানো রংপুর রাইডার্সের দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান রিলে রুশো সর্বোচ্চ ৫৫৮ রান সংগ্রহ করেন। প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা এমন একজন ব্যাটসম্যানকে ধরে আনায় রংপুরের সমর্থকরা একটু অবাকই হয়েছিল। বিপিএলের সেই আসরে তিনি খেলেছেন শুরু থেকেই। একটি সেঞ্চুরি আর পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি করা এই প্রোটিয়া তারকা ১৪ ম্যাচের ১৩ ইনিংসে ব্যাট করেছেন। অপরাজিত ছিলেন পাঁচবার, ২০০ রানের বেশি করা আর কোনো ব্যাটসম্যানই এতোবার অপরাজিত থাকতে পারেননি। তবে, দুইবার ০ রানেও ফেরার স্বাদ পেয়েছেন রুশো। ১৫০ স্ট্রাইকরেটে আর ৬৯.৭৫ গড়ে ৩৭২ বল খেলে রুশো করেন ৫৫৮ রান। যা বিপিএলের একক কোনো আসরে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত মোট রান। তার ইনিংস সর্বোচ্চ ছিল ১০০ রান (অপরাজিত)। গত বিপিএল রুশোর ব্যাট থেকে দেখেছে ৪৯টি চার আর ২৪টি ছক্কার মার।

বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদ। বিপিএলের প্রথম আসরে পাকিস্তানের এই ওপেনার বরিশাল বার্নার্সের হয়ে ১২ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ৪৮৬ রান। সেটাই ছিল বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড। ক্রিস গেইল শেহজাদের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ১ রানের জন্য তাকে স্পর্শ করতে পারেননি গেইল। রুশো টপকে গেছেন গেইল-শেহজাদদের। ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তাকে দেখা যায় নিয়মিতই। রুশো খুলনার হয়ে করেছিলেন ১৮৭ রান। আর গতবার শুরু থেকেই রংপুর রাইডার্সের অন্যতম স্বপ্নসারথি হয়ে ওঠেন তিনি।

২। তামিম ইকবাল (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)
দেশ সেরা ওপেনার, মেগা ইভেন্টের রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে না থাকলে চলে? শুরুতে ছন্দে দেখা না গেলেও মান রেখেছেন তামিম ইকবাল। ব্যাট হাতে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতেই হয়তো অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ডটা বাহুতে গলাননি। বিপিএলে ফাইনালে প্রথমবার খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি করেছেন। সেই আসরে একটি সেঞ্চুরি, দুটি ফিফটির পাশাপাশি দুবার ডাকও মেরেছেন তামিম। ১৪ ম্যাচের ১৪ ইনিংসে ব্যাট করে তামিম করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬৭ রান। ৩৪৯ বল মোকাবেলা করা এই বাঁহাতির ইনিংস সর্বোচ্চ রান ফাইনালে অপরাজিত ১৪১। ১৩৩.৮১ স্ট্রাইকরেট আর ৩৮.৯১ গড়ে রান তোলা তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৪১টি বাউন্ডারি আর ২৩টি ওভার বাউন্ডারি।

৩। মুশফিকুর রহিম (চিটাগং ভাইকিংস)
ষষ্ঠ বিপিএল শুরুর আগেই টাইগারপ্রেমীদের মনটা ভেঙে গিয়েছিল। ক্রিকেট পাড়ায় গুঞ্জন ওঠে তাহলে কি মুশফিককে বিপিএলের আসরে দেখা যাবে না! ষষ্ঠ বিপিএলের আইকন ঝামেলা আর বরিশাল বুলসের অংশ না নেওয়ার মারপ্যাঁচে মুশফিকের দল পাওয়া নিয়েই যত গণ্ডগোল বাধে। এগিয়ে আসে বন্দনগরীর দল চিটাগং ভাইকিংস। টাইগারদের মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিককে শুধু দলটি নিজেদের করেই নেয়নি, তার হাতে তুলে দিয়েছিল অধিনায়কত্বের গরম আর্মব্যান্ড। চিটাগং ফ্র্যাঞ্চাইজির আস্থা রেখেছেন মুশফিক। দলকে দুর্দান্ত গতিতে নিয়ে ছুটেছেন। এলিমিনেটর ম্যাচ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে মুশফিক করেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪২৬ রান। ১৩ ম্যাচের সবকটিতেই ব্যাট করেছেন তিনি। ৩০৬টি বল মোকাবেলা করা মুশফিক তিনটি হাফসেঞ্চুরি হাঁকান। ১৩৯.২১ স্ট্রাইকরেট আর ৩৫.৫০ গড়ে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৩৬টি বাউন্ডারি আর ১৮টি ওভার বাউন্ডারি। ব্যক্তিগত ইনিংস সর্বোচ্চ ৭৫ রান।

৪। নিকোলাস পুরান (সিলেট সিক্সার্স)
প্রাথমিক পর্বের ১২ ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় দল হিসেবে ছিটকে পড়ে সিলেট সিক্সার্স। সাত দলের লড়াইয়ে ছয়ে থেকেই আসর শেষ করেছে তারা। দল প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হলেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হননি ক্যারিবীয়ান তারকা নিকোলাস পুরান। বরং ১১ ম্যাচের ১১ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করেছেন। তিন ইনিংসে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটসম্যান ২৩৭ বলে করেছেন ৩৭৯ রান। চারের চেয়ে ছক্কা বেশি হাঁকানো ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানের ইনিংস সর্বোচ্চ রান ছিল হার না মানা ৭৬। ১৫৯.৯১ স্ট্রাইকরেটে আর ৪৭.৩৭ গড়ে নিকোলাস পুরান হাঁকিয়েছেন তিনটি ফিফটি। তার নামের পাশে জমেছে ২৭টি চার আর ২৮টি ছক্কা।

৫। লরি ইভান্স (রাজশাহী কিংস)
কুইজের প্রশ্ন হতে পারে, ষষ্ঠ বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান কে? উত্তর: রাজশাহী কিংসের ইংলিশ ব্যাটসম্যান লরি ইভান্স। দেশের জার্সিতে তখনও তার খেলাই হয়নি। এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৬২ বলে ৯টি চার আর ৬টি ছক্কা করেছিলেন ১০৪ রান। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ইভান্স ছিলেন পাঁচ নম্বরে। ১১ ম্যাচের ১১ ইনিংসে ২৪৬ বলে করেছেন ৩৩৯ রান। ১৩৭.৮০ স্ট্রাইকরেটে আর ৩৭.৬৬ গড়ে ইভান্স একটি সেঞ্চুরি, দুটি ফিফটির পাশাপাশি দুটি ডাকও মেরেছেন। কিংসদের এই ইংলিশ তারকা দেশের বিমান ধরার আগে ৩৭টি চারের পাশাপাশি ১০টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
এমআরপি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa