ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯ সফর ১৪৪৩

খেলা

স্পিনারদের জন্য সালাউদ্দিন

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮২৯ ঘণ্টা, আগস্ট ২৩, ২০১০
স্পিনারদের জন্য সালাউদ্দিন

ঢাকা: জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের প্রশিক্ষণ ছিলো সকালে। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত জাতীয় দলের অনুশীলন।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দুই জায়গাতেই ছিলেন। একাডেমির এই কোচ জাতীয় দলেরও সহযোগী। প্রধান কোচ জেমি সিডন্সের অনুরোধেই জাতীয় দলের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে তাকে।

মোট কথা জেমি সিডন্সের কোচিং স্টাফে যোগ হলো স্পিন বোলিং কোচ। জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘ দিন কাজের অভিজ্ঞতা আছে তরুণ এই কোচের। আগে পরিচয় ছিলো ফিল্ডিং কোচ হিসেবে। যেখানে কাজ করছেন ফিল্ডিং বিশেষজ্ঞ ইংল্যান্ডের জুলিয়ন ফাউন্টেন।

স্পিনারদের নিয়ে বিগত দুই বছর কাজের অভিজ্ঞতা আছে সালাউদ্দিনের। জাতীয় দলের স্পিনারদেরই দেখভালের দায়িত্ব ছিলো তার কাঁধে। আব্দুর রাজ্জাকের বোলিং অ্যাকশন শুধরে দেওয়ার পেছনে এই কোচের ভূমিকা অনেক। বলতে গেলে সালাউদ্দিনের কল্যাণেই আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

আরেক বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রের বোলিং অ্যাকশন নিয়েও কাজ করেছেন সালাউদ্দিন। তামিম ইকবাল সমস্যায় পড়লেই ছুটে যান সালাউদ্দিনের কাছে। এককথায় কমবেশি জাতীয় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারই সালাউদ্দিনের কাছে কৃতজ্ঞ। আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে সে কথাই বলছিলেন,“অন্যরা যেভাবেই নেক। আমি সালাউদ্দিন ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞ। বোলিং অ্যাকশন শুধরাতে তিনি আমাকে যেভাবে সাহায্য করেছেন অনেকেই সেভাবে এগিয়ে আসতেন না। এমন কি অনেক বিদেশি কোচই গুলিয়ে ফেলতেন। ”

পেস বোলারদের জন্য কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অল-রাউন্ডার ল্যান্স কুজনারকে আনা হচ্ছে এই খবর রটে যাওয়ার পরই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন স্পিনাররা। সিডন্স বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে সালাউদ্দিনকে পেতে চেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় ছুটিতে থাকার সময় সহকারী কোচ খালেদ মাহমুদের ই-মেইলে সালাউদ্দিনকে স্পিনারদের দেখভালের অনুরোধ জানিয়েছেন। ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের সাহায্য নিয়ে শেষে সোমবার গেমডেভলপমেন্ট থেকে ধাররে সালাউদ্দিনকে পাওয়া গেছে। যদিও লিখিত আবেদন হয়নি। মৌখিক এবং ই-মেইলে গেমডেভলপমেন্টকে অনুরোধ করেছে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ।

স্থায়ীয়ভাবে পাওয়া সম্ভব নয় বলে কোচও সালাউদ্দিনের বিষয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন,“সে এখানেই ছিলো। তাকে পাওয়ায় আমাদের খুবই উপকার হয়েছে। মূলত স্পিনারদেরকে সাহায্য করতে এসেছে সালাউদ্দিন। ”

পরিশ্রমী, মেধাবী কোচ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন সালাউদ্দিন। একই সঙ্গে দুটি দলের সঙ্গে কাজ করতে কোনই আপত্তি নেই তার। বরং কাজের মধ্যেই আনন্দ পান বলেই বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানালেন। তার মতে,“আমি কাজ করতে খুবই ভালোবাসি। মূলত একাডেমির কোচ আমি। তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজটা বেশ উপভোগ করছি। তবে বিসিবি চাইলে জাতীয় দলের স্পিনারদের সাহায্য করতে আমার কোন আপত্তি নেই। আমি তো বিসিবিরই কোচ। ”

গেমডেভলপমেন্ট থেকে অনুমোদন মেলায় জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সালাউদ্দিন। এই কোচকে পেয়ে বেজায় খুশি স্পিনাররা। আব্দুর রাজ্জাক বলেন,“অবশ্যই একজন কোচ লাগে। কোচ না থাকলে আমি কিভাবে বুঝবো আমার সমস্যা কোথায়। সালাউদ্দিন ভাই আসায় এখন স্বস্তি নিয়ে কাজ করতে পারবো। ”

সালাউদ্দিন যোগ দেওয়ায় সিডন্সের কোচিং স্টাফ দাঁড়ালো ছয় জনে। কুজনার যোগ দিলে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে সাতে। ম্যানেজারসহ মোট আটজন।

এদিকে অনুশীলনের দ্বিতীয় দিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন ক্রিকেটাররা। চারটি গ্রুপেই ভাগ করে হয়েছে প্র্যাকটিস। দুটি গ্রুপ ছিলো মাঠে। বাকি দুটি ইনডোর এবং নেটে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘন্টা, আগস্ট ২৩, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa