ঢাকা, রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

খেলা

ফাইনালের হাতছানি দেখছে নেদারল্যান্ডস

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮০৯ ঘণ্টা, জুলাই ৫, ২০১০
ফাইনালের হাতছানি দেখছে নেদারল্যান্ডস

ঢাকা: নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে রাখাটাই সমীচীন। কোন ম্যাচ হারেনি।

বিশ্বের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় দিয়েছে। এক কথায় দারুণ ফর্মে টোটাল ফুটবলের জনকরা। উরুগুয়ের সামনে তাদের অবস্থান সুসংহত। তারপরেও কথা থেকে যায়। অঘটন শব্দটি ফুটবলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেদিক থেকে উরুগুয়ের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার নয়।

অতীত দেখলে লাতিন দলটি এগিয়ে। দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তারা। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিলো স্বাগতিক হিসেবে। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে ১৯৫০ সালে প্রতিবেশী ব্রাজিলের মাটিতে। সর্বশেষ ১৯৭০ সালে শীর্ষ চারে জায়গা পেয়েছে। গেল ৪০ বছর বিশ্বকাপে খুব বেশি সুবিধা করতে পারিনি। দ্বিতীয় রাউন্ডেই বাধা পড়েছে বেশিরভাগ সময়। ২০০৬ সালে জার্মান বিশ্বকাপে খেলার সুযোগই হয়নি।

নেদারল্যান্ডসের উত্থান ১৯৭৪ সাল থেকে। পর পর দুই বিশ্বকাপের রানার্সআপ। টোটাল ফুটবলের অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে ’৭৪ এ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য প্রতিবেশী পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ায় শিরোপার স্বাদ নেওয়া হয়নি। পরের বিশ্বকাপেও (১৯৭৮) ফাইনালের বাধা পেরোতে পারেনি। হেরেছে আর্জেন্টিনার কাছে। মজার বিষয় হলো এরপর ৮২ ও ৮৪ সালে বাছাই পর্বের গন্ডিতেই আটকে ছিলো। সর্বশেষ ২০০৬ সালে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় দলটি।

পরিসংখ্যান বা অতীতের সাফল্য-ব্যর্থতায় কিছু আসে যায় না। খেলার মাঠে ফলাফল আসে বর্তমানের বিচারে।   পারফরমেন্সে যারা এগিয়ে থাকবে সাফল্য তাদের।

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ডাচরা এখন পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য। খেলায় তাদের গতির কাছে হেরেছে অন্যরা। সেখানে উরুগুয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের গন্ডি পেরিয়েছে ভাগ্যের জোরে। আফ্রিকার দেশ ঘানাকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনাল। এখানেই শেষ নয়। এখন পর্যন্ত বড় কোন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়নি লাতিনদের।
 
নেদারল্যান্ডসকে কঠিন প্রতিপক্ষ মেনেই উরুগুয়ে কোচ তার স্বপ্নের কথা জানান,“এই বিশ্বকাপে শীর্ষ চার দলের একটি আমরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় আসার আগে কখনোই এটা ভাবিনি। আমার খেলোয়াড়দের মধ্যে ঐক্য আছে। জানি না কতদূর যেতে পারবো। নেদারল্যান্ডসের বেশ কিছু ভালো ফুটবলার আছে। কিন্তু আমরা আশাহত করবো না। ”

তাঁর মতে,“নেদারল্যান্ডস কঠিন প্রতিপক্ষ মানছি। কিন্তু তাদেরকে জয় করা অসম্ভব না। ”

গুরুত্বপূর্ণ ফরওয়ার্ড লুইস সুয়ারেজকে ছাড়াই খেলতে হবে উরুগুয়েকে। কোয়ার্টারফাইনালে হাত দিয়ে বল ধরায় লাল কার্ড দেখে সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ তিনি। এছাড়া ডিফেন্ডার জর্জ সিরো ফাসিল’ও কার্ড সমস্যায় খেলতে পারছেন না। চোট সমস্যাও আছে দু’জনের। সেমিফাইনালে মূল একাদশ নামাতে পারছেন না কোচ অস্কার তাবারেস।

ডাচ শিবিরও সমস্যা মুক্ত নয়। ডিফেন্ডার গ্রেগরি ফন ডার ভিয়েল এবং মিডফিল্ডার নিগেল ডি জং পর পর দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় সেমিফাইনাল খেলতে পারছেন না। তবে দলে চোট সমস্যা নেই।

উরুগুয়ের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠবেন নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড় ওয়েসলি স্নাইডার এবং আরিয়ান রোবেন। প্রতিপক্ষ শিবিরে কাঁপন ধরানোর মতো ফর্মে আছেন এ দুই মিডফিল্ডার।

বার্ট ফন মারউইক তাঁর দল সাজাবেন ফাইনালকে সামনে রেখে। অর্থাৎ বাঁচামরার লড়াইয়ে নামতে। বলেন,“আমি ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে দুই বছর আগে বলেছিলাম শুধু অংশ নেওয়ার জন্যই বিশ্বকাপে যাচ্ছি না। আমি একজন স্পোর্টস ম্যান। কোথাও গেলে জয় করতেই যাই। মানুষের কাছে আমার কথা ঔদ্ধত্য মনে হতে পারে। কিন্তু আমি ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রমাণ করেছি। ঠিক পথেই আছি। ”

মারউকের অভিযান শিরোপা। খেলোয়াড়দের সেভাবেই প্রস্তুত হতে বলেছেন,“আমি দলের সবাইকে বলেছি এখনো দুই ম্যাচ বাকি আছে। সেমিফাইনালই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবার মনযোগ ওখানেই রাখতে হবে। ”

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৬ ঘন্টা, জুলাই ০৫, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa