ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ কার্তিক ১৪২৮, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খেলা

সোনা জেতা হয়নি মহিলা ক্রিকেটারদের

সেকান্দার আলী, গুয়াংজু থেকে | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭১৭ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৯, ২০১০
সোনা জেতা হয়নি মহিলা ক্রিকেটারদের

গুয়াংজু: মুখগুলো পাংশু বর্ণ, হাসি নেই। বাক শক্তি লোপ পেয়েছে।

একটি কথাও বলেননি কেউ। নীরবে মাঠ ছাড়েন ওরা ১১ জন। দূরে দাঁড়িয়ে বিজয় উদযাপন দেখেন। হেরে গেলে বোধহয় এমনই হয়। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ১০ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল।

বাংলাদেশ: ৯২/১০ (২০ ওভার)
পাকিস্তান: ৯৩/০ (১৫.৪ ওভার)

স্বপ্ন খান খান করে দিয়ে পাকিস্তানের মেয়েরা ছিনিয়ে নিয়েছে সোনার পদক। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজয়ীরা রক্তিম বর্ণের ফুলগুলো উঁচিয়ে ধরেন। করতালির শব্দ গুয়াংগং স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের হাতেও ফুল ছিলো। সেগুলোকে উঁচিয়ে ধরা হয়নি।

ক্রিকেটাররা কী ভুলে গেলেন তাদের গলাতেও পদক আছে? গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে পদক তালিকায় নাম উঠেছে বাংলাদেশের। সে তো তাদেরই উপহার।

অজেয় দল হিসেবে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলো বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাসের পারদ উঁচুতে চড়ে ছিলো। যে কোন মূল্যে পাকিস্তানকে হারানোর জেদ ছিলো খেলোয়াড়দের মনে। আগে ব্যাটিং নিয়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দিতে চেয়েছিলেন সালমা খাতুন।

মনের জোর দিয়ে পেশাদার ক্রিকেটারদের সঙ্গে পেরে উঠেনি। পাকিস্তানের বোলিং তোপের মুখে একের পর এক উইকেট খুইয়ে বসে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯২ রান তুলে অল-আউট হয়। অবশ্য ইনিংসের শেষ বলে দশম উইকেট পড়েছে।

আম্পায়ারের একটি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ভোগান্তির শুরু। ব্যাট-প্যাড হওয়ার পরেও ফারজানা হক পিঙ্কিকে এলবি ডব্লু মেনে নিতে হয়। রানের গতি মন্থর হয়ে আসে। তবে পাকিস্তানের ওপেনিং পেসার মাসমা জুনায়েদ এবং আসমা ভিয়া ইকবাল রান চেক দেওয়া ছাড়া খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি প্রতিপক্ষের ইনিংসে।

তবে স্পিনার নিদা রাশিদ ভোঁজবাজির মতো বদলে দেন সবকিছু। একের পর এক উইকেট খোঁয়াতে থাকে বাংলাদেশ। ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। পাকিস্তান অধিনায়ক মির সানা ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে শিকার করেছেন ২টি উইকেট। বাংলাদেশের ব্যক্তিগত স্কোর সর্বোচ্চ ২৪ রান, সালমা খাতুনের। এছাড়া রুমানা আহমেদ ১৬ রান করেছেন।

পাকিস্তানের ফিল্ডিংয়ে কিছু ভুল হলেও বোলিং এবং ব্যাটিং ছিলো নিখাদ। বিশেষ করে চোখধাঁধানো ব্যাটিং দিয়ে অসহায় করে দিয়েছেন বাংলাদেশের বোলারদের। উদ্বোধনী জুটিতে নিদা রশিদ এবং ওয়াদুদ জাভেরিয়া ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। ইনিংসের শেষটাও হয়েছে তাদের হাত দিয়ে।

পেস এবং স্পিন কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করেননি এই দুই ব্যাটসম্যান। অলরাউন্ডার নিদা ৭টি চারের মার মিলিয়ে ৪৩ বলে ৫১ রান করেন। ওয়াদুদও কম যাননি। ৫১ বলে ৩টি চারের মার দিয়ে ৩৯ রান করেছেন।

এশিয়ান গেমসের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে চারবার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। হেরেছে তিনটিতে। শ্রীলঙ্কা এশিয়া কাপে দুই ম্যাচের একটিতে জেতেন সালমা বাহিনী। দুই বছর আগে বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে তিনজাতি টুর্নামেন্টে পেশাদার দলটির কাছে বাকি দুই ম্যাচ হেরেছে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ এই প্রথম। এখানেও শতভাগ সফল হলো পাকিস্তান।

অনেক দিক দিয়েই পাকিস্তানের মহিলা ক্রিকেট বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পূর্ণ সদস্য হিসেবে একদিনের ক্রিকেট সিরিজ খেলে পাকিস্তান। সেখানে চার বছর হয় মেয়েদের ক্রিকেট শুরু করেছে বাংলাদেশ। আইসিসির সহযোগী দেশ হিসেবেই খেলছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

গুয়াংজু সময়: ১৮৪৮ ঘন্টা, নভেম্বর ১৯, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa