ঢাকা, শুক্রবার, ৬ কার্তিক ১৪২৮, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খেলা

হংকংয়ের জালে বাংলাদেশের সাত গোল

সেকান্দার আলী, গুয়াংজু থেকে | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৮, ২০১০
হংকংয়ের জালে বাংলাদেশের সাত গোল

গুয়াংজু: এশিয়ান গেমসে হংকং চায়নাকে নিয়েও ভয়ে ছিলো বাংলাদেশ। বিশেষ করে ভারতের কাছে ৯-০ গোলে হারের পর আত্মবিশ্বাসে ফাঁটল ধরা স্বাভাবিক।

মাঠে তেমন কিছু হয়নি। বরং দাপটের সঙ্গে ৭-৩ গোলে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

আগের দুই ম্যাচের চেয়ে অনেক পরিকল্পিত খেলেছে বাংলাদেশ। রাসেল মাহমুদ জিমিকে আক্রমণে নিয়ে আসা হয়। ফরোয়ার্ডরা পেনাল্টি কর্নার আদায় করতে পেরেছেন। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রাও হংকংয়ের ফরোয়ার্ডদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিলেন।

বরাবরের মতো বৃহস্পতিবারও দারুণ খেলেছেন জাহিদ হোসেন। মশিউর রহমান বিপ্লব, ইমরান হোসেন পিন্টু, কৃষ্ণ কুমার ছন্দে ছিলেন। এককথায় পরিকল্পিত হকি খেলেছে বাংলাদেশ দল।

যদিও শুরুর দৃশ্য অন্যরকম ছিলো। ১৫ মিনিট পর্যন্ত কোন ভাবেই বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিলো না বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলো হংক ং। গোলরক্ষক জাহিদের কল্যাণে এযাত্রায় বেঁচে যায়। ১৩ মিনিটে গিয়ে আচমকা গোল খেয়ে বসে লাল সবুজরা। নিশানায় বল পাঠান আসগর আলী।

গোল শোধদিতে খুবএকটা দেরি হয়নি। ১৭ মিনিটে রাসেল মাহমুদ জিমি ১-১ সমতা নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় গোল আসে ২৬ মিনিটে। পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ চয়ন নিশানা ভেদ করেন। বিরতির আগে ৩-২ গোলে এগিয়ে থাকে জাহিদ বাহিনী।

দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা একচেটিয়া খেলেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল এসেছে দুটি। বাকি দুই গোল জিমি এবং মাকসুদুল আলম হাবুলের। বদলি হিসেবে খেলতে নেমে কানেক্ট থেকে বল জালে পাঠান হাবুল।

খেলায় মোট চারটি পেনাল্টি কর্নার পেয়েছে সবগুলোই কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। হ্যাট্রিকসহ চার গোল করেছেন চয়ন।   এশিয়ান গেমসে প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে এই কৃতিত্ব দেখান তিনি। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এনিয়ে সপ্তমবার টানা তিন গোল করেছেন চয়ন। খেলায় জিমির স্টিক থেকে এসেছে দুটি গোল।

শেষ বাঁশি বাজার এক মিনিট আগে তৃতীয়বার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় হংকং। আরিফ আলীর স্টিকে পেনাল্টি কর্নার থেকে আসে গোলটি। হংকংয়ের পক্ষে দুটি গোল করেছেন আরিফ।

এই জয়ে ষষ্ঠ স্থানের জন্য খেলার সুযোগ তৈরি হলো বাংলাদেশের সামনে। এক অর্থে হংকংই ছিলো বাংলাদেশের মূল প্রতিপক্ষ। গ্রুপে এখনো একটি ম্যাচ বাকি আছে বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষ সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। ২১ নভেম্বর হবে খেলা।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালেও খেলার সুযোগ এসে যেতে পারে বাংলাদেশের। যদিও অসম্ভব এক অভিযানের কথাই শুনিয়েছেন কোচ গেরহার্ট পিটার রাক। বলেন,“পাকিস্তানের সঙ্গে যে কোন কিছু হতে পারে। তবে জিতে গেলে শীর্ষ চারের লড়াইয়েও যেতে পারি। স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারলেই পাকিস্তানের সঙ্গে অনেক কিছু করা সম্ভব। ”

অবশ্য হংকংয়ের বিপক্ষে জয়কে বড় করে দেখছেন না কোচ। বলেন,“হংকং আমাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। আমাদেরকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো খেলতে হবে। ”

রাসেল মাহমুদ জিমির মতে,“আজকের (হংকং) খেলায় সমন্বয় ছিলো। সবাই ভালো খেলেছে, একক কোন খেলোয়াড় ম্যাচ জেতায়নি। ”

আগের দুই ম্যাচ একটিও পেনাল্টি কর্নার নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এর কারণ হিসেবে জিমি জানান,“আগের দুই ম্যাচে ফরোয়ার্ডদের পেনাল্টি কর্নার নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তারা পারেনি। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে যদি প্রথমার্ধে আমরা পেনাল্টি কর্নার পেতাম এবং গোল হতো, তাহলে পরাজয়ের ব্যবধান কম হতো। ”

এদিকে এশিয়ান গেমসের হ্যাট্রিক ম্যান চয়ন বলেন,“খুবই ভালো লাগছে, হ্যাট্রিক গোল পেয়েছি। আশা করি পরের ম্যাচগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব থাকবে। ”

গুয়াংজু সময়: ১৮২৯ ঘন্টা, নভেম্বর ১৮, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa