ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সিঙ্গাপুর

যান্ত্রিক শহরে নয়নমোহন আলোর খেলা!

মাজেদুল নয়ন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৯ ঘণ্টা, আগস্ট ৯, ২০১৭
যান্ত্রিক শহরে নয়নমোহন আলোর খেলা! যান্ত্রিক শহরে নয়নমোহন আলোর খেলা!- ছবি: বাংলানিউজ

সিঙ্গাপুর থেকে: মাত্র গত ২০ বছরের ঘটনা। ধীরে ধীরে জেলেদের একটি শহর হয়ে উঠলো দুনিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল আর অভিজাত শহরগুলোর একটি। এখন এ শহরের বৈঠক করা বা ঘুরতে আসা যেন অভিজাত্যের তকমা। ৫০ তলা উঁচু থেকে দেখলে মনে হয় এক যান্ত্রিক শহর সিঙ্গাপুর। আকাশছোঁয়া স্থাপনা আর পরিকল্পনামাফিক নগরায়নে খুঁত নেই কোনো। সন্ধে হলে এই যান্ত্রিক শহরে খেলা করে সড়ক আর স্থাপনাগুলোর নয়নাভিরাম আলোর ঝলকানি। এক মায়াবি দ্যুতি ছড়ায় এই নয়নমোহন আলো।

দ্য পেনিক সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবন। ১৫৬ মিটার উঁচু এ স্থাপনায় রয়েছে ৭টি ভবন।

যেগুলো প্রতিটি স্কাই ব্রিজের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এটাই সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা যেখানে সাধারণের ওপরে ওঠার অনুমতি রয়েছে। যান্ত্রিক শহরে নয়নমোহন আলোর খেলা!- ছবি: বাংলানিউজগেলো শনিবার আমরা ৬ জনের দল রওনা হলাম পেনিকের উদ্দেশ্যে। ৫০ তলার ওপর থেকে সূর্যাস্ত দেখার ইচ্ছে। সিঙ্গাপুরের সাংবাদিক সিয়ানের মতে, এখান থেকেই সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে ভাল দৃশ্যটা (প্যানোরমিক ভিউ)দেখা যায়। পুরো সিঙ্গাপুরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে চোখ বোলানো যায়। যান্ত্রিক শহরে নয়নমোহন আলোর খেলা!- ছবি: বাংলানিউজ

চায়না টাউন থেকে হাঁটলে ১০ মিনিটের পথ। জি ব্লকের ভবন খুঁজে পেতে সময় লেগে গেল। ভবনের নিচেই টিকেট কাউন্টার। ৬ ডলার(৩৬০ টাকা) দিলে ছাদে যাওয়ার অনুমতি মিলবে। যান্ত্রিক শহরে নয়নমোহন আলোর খেলা!- ছবি: বাংলানিউজ

৫০ তলায় উঠতে লিফটে ৩০ সেকেন্ডের কম সময় লাগলো। ছাদে উঠেই চোখ আটকে গেলো আকাশে। আসলে আকাশেই তো রয়েছি! সূর্য তখন অস্ত যাচ্ছে। পশ্চিম আকাশ লাল হয়ে আছে। তবে আমার সাধ পূরণ হলো না। সাগরের বুকে সূর্যকে হারিয়ে যেতে দেখলাম না। সিয়ান বললেন, এখানে এমনটা হয় না। যান্ত্রিক শহরে নয়নমোহন আলোর খেলা!- ছবি: বাংলানিউজ
আমাদের হতাশা দেখে আশ্বস্ত করে বললেন, তবে সন্ধে হলে শহরটা দেখতে ভাল লাগবে।

সিঙ্গাপুরের পুরো পোর্ট দেখা যায় এখানে। সিয়ান বললেন, পোর্টে এখন ব্যস্ততা কম। জাহাজগুলো নোঙ্গর করে আছে।
২৮০ মিটার উঁচু ইউওবি প্লাজা, ২৭৭ মিটার উঁচু রাফেলস ওয়ান, ভবনের জন্য কিছু জায়গা দেখা যায় না। তা বাদে পুরো শহরটাই চোখের সামনে। ইন্দোনেশিয়ার দামার বললেন, সিঙ্গাপুরতো আসলেই ছোট। চারদিকের সাগরই দেখা যাচ্ছে এখান থেকে। যান্ত্রিক শহরে নয়নমোহন আলোর খেলা!- ছবি: বাংলানিউজ
পুরো ছাদটা ২৫০ মিটারের। ঘুরতে সময় লেগে যায়। সন্ধ্যের সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে উঠতে থাকে বাতিগুলো। যেন এক যান্ত্রিক শহর আলোকিত হতে থাকে। শরীরের শিরায় রক্ত প্রবাহের মতো আলো জ্বলতে থাকে শহরে। যান্ত্রিক শহরে নয়নমোহন আলোর খেলা!- ছবি: বাংলানিউজ

বড় বিল্ডিংগুলোতে জ্বলজ্বল করে ওঠে বাতি। ভবনের বাইরের দিকে খেলা করতে শুরু করে আলোর বর্ণিল রেখা। আলোর আল্পনা যেনবা। সিয়ান বললেন, এখানে সরকার থেকে ভবনের বাইরেটা আলোকিত করার জন্য অর্থ দেয়া হয়।
অন্ধকার আকাশ থেকে দেখতে এই ঝলমলে শহরকে যেন যান্ত্রিক শরীরে আলোর শতঝাড় প্রদর্শনীর মতো দেখায়।

বাংলাদেশ সময়:ঘণ্টা, আগস্ট ০৮, ২০১৭
এমএন/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa