ঢাকা, রবিবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ সফর ১৪৪২

সিঙ্গাপুর

শ্রমিক আবাসনে হার্ডলাইনে সিঙ্গাপুর

আনোয়ার হোসেন, সিঙ্গাপুর করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০২১ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১৪
শ্রমিক আবাসনে হার্ডলাইনে সিঙ্গাপুর ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সিঙ্গাপুর: বিদেশি শ্রমিকদের আবাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। বিদেশি নির্মাণসহ অন্য কয়েকটি খাতের শ্রমিকদের জন্য আলাদা ও মানসম্মত বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে কোম্পানিগুলোকে ২০১৫ সালের মে মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।



কয়েকদিন আগে দুই রুমের একটি ফ্ল্যাটে পঞ্চাশ জন শ্রমিককে অমানবিক অবস্থায় রাখার ঘটনা দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর শ্রম মন্ত্রণালয়ের (এম.ও.এম) পক্ষ থেকে  এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের দশ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম আরো কয়েকটি কোম্পানির শ্রমিকদের আবাসস্থল পরিদর্শন করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন রুমের মধ্যে অনেকজন একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন।

সাধারণত কোন কোম্পানির অধীনে বিদেশ থেকে আসা শ্রমিকের আবাসনের ব্যবস্থা সেই কোম্পানিকেই করে দিতে হয়। তাদের থাকার জন্য কোম্পানিগুলো ডরমিটরি (শ্রমিক/ কর্মজীবীদের থাকার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত বাসা) ভাড়া করে থাকে। কিন্তু, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খরচ কমাতে আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া করে একসঙ্গে অনেকজন থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এতে আবাসিক এলাকাগুলো দিন দিন কোলাহলমুখর, অপরিচ্ছন্ন ও অনিরাপদ হয়ে পড়ছে এবং প্রতিবেশীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।  

আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ফ্যাক্টরির আশপাশের খালি জায়গাতে অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে শ্রমিকদের সেখানে রাখা হয়। ছোট্ট পরিসরে অপরিকল্পিত আবাসনে একসঙ্গে অনেকজন থাকার কারণে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় প্রায়ই বিভিন্ন রোগব্যাধিতে ভুগতে হয়।

২০১৩ সালের শুরু থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত মোট ৩৬০টি কোম্পানির শ্রমিকের আবাসস্থল পরিদর্শন করে তিন শতাধিক নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় শ্রম মন্ত্রণালয়। সেই সময় তাদের শুধু জরিমানা ও সতর্ক করে ছেড়ে দিলেও এবার হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে বিদেশি শ্রমিকের আবাসন ও বেতন-ভাতাসহ যেকোন অভিযোগ প্রমাণ হলে, সরকার ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।    

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রায় সাতশ’ স্থায়ী ও অস্থায়ী ডরমিটরিতে লক্ষাধিক শ্রমিক বসবাস করছেন।  

ইতিমধ্যেই সিঙ্গাপুরে ব্যাপক সুবিধা সম্বলিত নয়টি ডরমিটরি বিল্ডিং নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে, যেগুলোতে আরও এক লক্ষ শ্রমিকের আবাসন সম্ভব হবে।

আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই বছরের মধ্যেই নতুন ডরমিটরিগুলোর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১০২০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa