ঢাকা, শনিবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৮, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯ সফর ১৪৪৩

রাজনীতি

করোনায় মৃত হাজার মানুষকে দাফন করেছেন আইএবি স্বেচ্ছাসেবীরা

মহসিন হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০৪ ঘণ্টা, আগস্ট ৪, ২০২১
করোনায় মৃত হাজার মানুষকে দাফন করেছেন আইএবি স্বেচ্ছাসেবীরা

ঢাকা: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নির্দেশে দলটির সেচ্ছাসেবীরা সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করা নারী-পুরুষ, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষদের দাফন-কাফন, ফ্রি অক্সিজেন বিতরণ, মাস্ক বিতরণ, রক্ত সেবা ও খাদ্য বিতরণের কাজ করছেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ বছর জুলাই মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবীরা ৯৯০ জনকে গোসল ও দাফন করেছেন।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ঠাকুরগাঁও জেলায়ই ২৫৫ জনকে গোসল দাফন-কাফন করেছেন তারা।

জানা গেছে, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসের পর থেকেই তাদের এই কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিকে করোনায় মৃত্যু ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন যখন তাদের মরদেহ নিতে অস্বীকার করেন কিংবা মরদেহ দাফন করতে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস করতেন না, তখনই এগিয়ে আসেন ইসলামী আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা স্বেচ্ছায় এ কাজটি করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতারা টিম করে এই দাফন কাফনের কাজ করছেন। কোথাও করোনায় মানুষের মৃত্যুর খবর পেলেই এই টিমের সদস্যরা সেখানে ছুটে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে চাঁদপুর জেলায় ২১৩টি মরদেহ গোসল ও দাফন কাফন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এই জেলার টিম।

বরিশালের চরমোনাই ভলান্টিয়ার সার্ভিস ২৫০ জনের মতো মানুষকে ফ্রি অক্সিজেন বিতরণ করেছে। গোসল ও দাফন-কাফন করেছে ১৭৯ জনের। এছাড়া সেখানে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

খুলনা মহানগরে গোসল, দাফন-কাফন করেছে ৯০ জনের। অক্সিজেন দিয়েছে তিন শতাধিক লোককে। রক্ত সেবা দেওয়া হয়েছে ৫০ জন ব্যক্তিকে। ৬ শতাধিক কর্মক্ষম অসহায় মানুষকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে।

ঢাকা জেলা দক্ষিণের আওতাধীন দোহার থানায় এখন পর্যন্ত ৩৮ জনকে গোসল দাফন কাফন করা হয়েছে। বাগেরহাটে ১০ জন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৪০ জন, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণে ৬৭ জন, যশোরে ২৫ জনকে দাফন করা হয়েছে ও অক্সিজেন সেবা প্রদান হয়েছে ১০ জনকে।  

এছাড়া সিলেটে ১৪ জন, পটুয়াখালীতে ২১ জন, বগুড়ায় ৪ জন, পিরোজপুরে ১ জন, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ১১ জন, সিরাজগঞ্জে ৮ জন, গোপালগঞ্জে ৪৫ জন, ঝিনাইদহে ১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৮ জন, কুষ্টিয়ায় ১৫ জন,  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ জনকে দাফন করা হয়েছে।  

এ প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সেলের সহকারী সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম কবির বাংলানিউজকে বলেন, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে যখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু শুরু হয়, তখন থেকে চরমোনাই পীরের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীরা এই স্বেচ্ছাসেবী কাজ শুরু করেন। এটা এখনও চলমান আছে। সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবী টিম রয়েছে। মানবতার সেবায় নিয়োজিত এই সেবকরা কাজ করে যাবেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১০০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৪, ২০২১
এমএইচ/এজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa