ঢাকা, রবিবার, ৯ মাঘ ১৪২৮, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রাজনীতি

‘বাকশালের অর্থনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্ব আছে, তবে বাস্তবায়নের চিন্তা নেই’

শামীম খান, সিনিয়র করেসপনডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৪১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১০
‘বাকশালের অর্থনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্ব আছে, তবে বাস্তবায়নের চিন্তা নেই’

ঢাকা : বাকশাল বা দ্বিতীয় বিপ্লবের অর্থনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্ব এখনো রয়েছে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কিছু কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তারা।



তবে বিদ্যমান বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাকশালে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং এ ব্যাপারে কোনো চিন্তাও করা হচ্ছে না বলে জানান তারা।

কৃষক শ্রমিক জনতার মুক্তির লক্ষ্যে যে বাকশাল চালু করা হয়েছিলো তা এখনো সরকারের সকল কর্মসূচিতে রয়েছে এ অবস্থায় নতুন করে ওই নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলির সদস্য, বিলুপ্তির আগ পর্যন্ত বাকশালের সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ রাজনীতিক আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, বাকশাল ছিলো একটা জাতীয় প্লাটফর্ম। এটা করা হয়েছিলো পাঁচ বছরের জন্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো। পাঁচ বছর পর ওই সব দল আবার আলাদাভাবে রাজনীতি করতে পারতো। অর্থনৈতিক মুক্তি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সবাইকে নিয়ে কাজ করার জন্য বাকশাল গঠন করেছিলেন। সেই ন্যাশনাল প্লাটফর্মকে বিকৃতভাবে প্রশ্ন বিদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে এখনো বাকশালের অর্থনৈতিক কর্মসূচি সেরা কর্মসূচি। দ্বিতীয় বিপ্লবের এই কর্মসূচি এখনো বাস্তবায়ন করতে পারলে সংকট দুর হতো, দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হতো। বহুমুখী গ্রাম সমবায়, কৃষি সমবায়ের কর্মসূচি এখনো গ্রহণ করা যেতে পারে।

দলের সভাপতিমন্ডলির সদস্য ওবায়দুল কাদের বাংলানিউজকে বলেন, বাকশালের দুটো কনসেপ্ট আছে, একটি অর্থনৈতিক, আরেকটি রাজনৈতিক। বাকশালের কিছু কিছু অর্থনৈতিক কর্মসূচি আছে যা যে কোনো সরকার গ্রহণ করতে পারে। যেমন কৃষিতে সমবায় পদ্ধতি, জমির সিলিং পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় বাকশালের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। কেউ কেউ বাকশালকে বলে এক দলীয় ব্যবস্থা। আমরা বলি জাতীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা। তখন যে বাস্তবতায় বাকশাল করা হয়েছিলো এখন তা অনুপযোগী। এ ধরণের চিন্তাও আমরা করছি না।

তিনি বলেন, কৃষিকে আরো উন্নত করতে দ্বিতীয় বিপ্লবের এই কর্মসুচি যে কোনো সরকার বাস্তবায়ন করতে পারে। যারা বলছে আওয়ামী লীগ বাকশালে ফিরে যাচ্ছে এটা অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়।

সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, আজকের প্রেক্ষাপট তো বিশ্বায়নের যুগ। আজ তো  সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই। আজকের প্রেক্ষাপটে বাকশালে ফিরে যাওয়া ঠিক হবে না।

আমরা তো বলছিও না বাকশাল ব্যবস্থায় ফিরে যাবো। বর্তমান সরকার কৃষক-শ্রমিকের পক্ষে কাজ করছে। কৃষক-শ্রমিকের পক্ষে কাজ করার অর্থ এই নয় যে বাকশালে ফিরে যাও্। বিএনপির রাজনীতিই হলো সব সময় মিথ্যাচার করা, আওয়ামী লীগের ভালো কাজেও অপপ্রচার চালানো।

তবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তখনকার প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে বাকশাল গঠন করেছিলেন এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। ওয়ান পার্টি সিস্টেম(এক দল) মানে তো জাতীয় ঐক্যমত। কৃষক-শ্রমিকের কল্যাণে এটা করা হয়েছিলো। তখনকার বাস্তবতায় এটা অত্যন্ত যুগোপযোগী ও সঠিক ছিলো।

বাকশালের এ অর্থনৈতিক কর্মসূচির বিষয়টি নিয়েও আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। এ ব্যাপারে (অর্থনৈতিক কর্মসুচি) দলের মধ্যে কোনো চিন্তা-ভাবনাও নেই বলে দলের নীতি নির্ধারণি পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ আবার বাকশালে ফিরে যাওয়ার পায়তারা করছে বিরোধী দলের এ ধরণের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যমুলক অপপ্রচার মন্তব্য করে তারা বলেছেন, বাকশাল বিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে বিরোধী দল রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। এ ধরণের অপপ্রচারকে আওয়ামী লীগ কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও নেতারা মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বাংলানিউজকে বলেন, গণতন্ত্রের উচ্চতর স্তরে পৌছানোর পদ্ধতি ছিলো বাকশাল। সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যেই বাকশাল গঠন করা হয়েছিলো। বর্তমান পেক্ষাপটে এটার প্রয়োজন নেই। এর চেয়েও অনেক বৃহৎ পরিসরে আমরা দিন বদলের কর্মসুচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

সম্প্রতি বিরোধী দলের সকল পর্যায়ের নেতারা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করছেন, সরকার দেশে আবারও বাকশালি শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়।

বিরাধী দলের এসব বক্তব্য প্রসঙ্গে গত ৫ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেছিলেন বাকশালে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে আমরা বাকশালের ভাবধারায় অগ্রসর হতে চাই।
 
তার এ বক্তব্যের জবাবে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন আওয়ামী লীগ দেরিতে হলেও স্বীকার করলো তারা দেশে বাকশাল কায়েম করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সময় ১৩২৮ ঘন্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa