ঢাকা, রবিবার, ১ বৈশাখ ১৪৩১, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৫

অফবিট

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষও চালায় ধ্বংসযজ্ঞ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩৩৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২, ২০১৭
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষও চালায় ধ্বংসযজ্ঞ ছবি: সংগৃহীত

মধ্যযুগের আর্মেনীয় বাগরাটিড  রাজবংশের রাজধানী, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও আঞ্চলিক শক্তি আনি শহরে এককালে এক লাখ মানুষের বাস থাকলেও এখন ভুতুড়ে-পরিত্যক্ত। দখল নিয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ, ভূমিকম্প, খননকার্য ছাড়াও মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে তিনশ’ বছর আগে পরিত্যক্ত হয় মালভূমির শহরটি।

এর প্রাসাদ, দুর্গ ও ভবনগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে পড়লেও স্থাপত্যকলাও এখনও ইতিহাসবিদদের কাছে আগ্রহের বিষয়। আনি শহরকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাইজান্টাইন ও অটোমানদের বিশাল সাম্রাজ্যের গৌরবগাথাও ইতিহাসে স্মরণীয়।


 
উত্তর-পূর্ব তুরস্কের কার্স প্রদেশের ৪৫ কিলোমিটার দূরবর্তী আখুরিয়ান নদীর উপত্যকার শহরটি কয়েক শতাব্দী ধরে ছিল সাজানো-গোছানো ও চিত্তাকর্ষক। ৯৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবনতির ধারাবাহিকতায় এখন সেখানে অনেক ধ্বংসাবশেষ। তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার সীমান্ত চিহ্নিত গিরিখাতের মধ্যে এখন শুধুই বাতাসের আর্তনাদের শব্দ।
 
 ‘এক হাজার এক গির্জার শহর’ নামে পরিচিত শৈল্পিক সাইটটির সৌন্দর্যমণ্ডিত অসংখ্য গির্জা,  অনন্য বাড়ি-ঘর, শৈল্পিক কামারশালাসহ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন সম্পদ মানুষের হাতেও ধ্বস হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।
 
মরিচা রঙের ইটের দুর্গ আনি’র ক্যাথেড্রালটির গম্বুজ ১৩১৯ সালের ভূমিকম্পে ধসে পড়ে। শতাব্দী পরের অন্য একটি ভূমিকম্পে এর উত্তর-পশ্চিম কোণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

ছবি: সংগৃহীত
তবে বাগরাটিড রাজবংশের শৈল্পিক দক্ষতার অনন্য চিত্তাকর্ষক স্থাপত্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর অন্য একটি গির্জা ধ্বংস করেন কনস্টান্টিনোপল বাইজেন্টাইন শাসকরা। এ গির্জার অর্ধেকাংশ টিকে আছে এখন।

১০ম শতাব্দীতে বাগরাটিড রাজপুত্রের জন্য গড়া গির্জাটি ও তার কবরটিও ১৯৯০ সালে লুট করা হয়।

যীশু খ্রিস্ট ও সেন্ট গ্রেগরির চিত্রকর্ম শোভিত সেন্ট গ্রেগরির চার্চ, এ চার্চের বিপরীত গুহার ভূ-গর্ভস্থ শহর আবুঘামরেন্টসারের অবশিষ্টাংশ, তুরস্ক ও আর্মেনিয়া সীমান্ত ভাগ করা সেন্ট গ্রেগরির গিরিখাতের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা ঘড়িবাহী গির্জা এবং সেলজুক সাম্রাজ্যের ইসলামিক মিনারও যুদ্ধ-বিগ্রহের শিকার বলেই মনে করেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।  
ছবি: সংগৃহীত
হাজার বছর ধরে অটোমান-বাগরাটিড- সেলজুক রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং আর্মেনীয় পাঁচটি সাম্রাজ্যের বিরোধ, ১২৩৬ সালের মঙ্গোলিয়ানদের সঙ্গে যুদ্ধ, ১৮৭৭-৭৮ সালের রাশিয়া-তুরস্ক যুদ্ধ, ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অটোমান- আর্মেনিয়া নির্মম যুদ্ধ এবং আধুনিককালের আর্মেনিয়া- আজারবাইজান-তুরস্ক এবং নাগারনো-কারাবাখ দ্বন্দ্বও এ ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী। ওইসব যুদ্ধে আর্মেনিয়ার হাজার হাজার মানুষ গণহত্যা ও ধর্ষণের শিকার হয়।
 
আখুরিয়ান নদীর একটি প্রাচীন সেতুকে ঘিরে আর্মেনিয়া ও তুরস্কের প্রতিযোগিতা এখনও অব্যাহত আছে। সেতুটির গিরিখাত একটি প্রাকৃতিক সীমানা তৈরি করেছে, যার নিচের অংশের পথ ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। এখানকার দূষিত বাতাসও তুর্কি-আর্মেনীয় শত শত বছরের বৈরি সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানানসই।  
 
দেশ দু’টির ৩১১ কিলোমিটার সীমান্ত বন্ধ এবং একটি কূটনৈতিক নিশ্চলতার স্বাক্ষর হিসেবেও ধ্বংস হচ্ছে আনি শহর।
 
বাংলাদেশ সময়: ০৫২৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৩, ২০১৭
এএসআর

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।