ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মাঘ ১৪২৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয়

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ধর্ষণের নাটক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৯, ২০২১
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ধর্ষণের নাটক

কুমিল্লা: কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এক গার্মেন্ট শ্রমিককে দিয়ে ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। উপজেলার বাঙ্গরা গ্রামের শেখ আমির হোসেনের (৫৪) বিরুদ্ধে বুধবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।


 
জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বাঙ্গরা ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শেখ আমির হোসেনকে নির্বাচন করতে এলাকাবাসী অনুরোধ করলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন। তার জনপ্রিয়তা দেখে বর্তমান মেম্বার শামসুল হক প্রকাশ শাম মিয়া এক মেয়েকে দিয়ে মুরাদনগর থানায় গণধর্ষণের মামলা দেন। ভোর ৪টায় পুলিশ এসে তাকে বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, মেয়েটি রাতে থানায় এসে তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। আসামি ও ওই মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই মেয়ে স্বীকার করে ঘটনাটি একজনের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে সাজানো হয়েছে।

বাঙ্গরা গ্রামের আব্দুল্লাহ, গোলাম সারোয়ার, হৃদয়, শেখ ফরহাদ ও আবু কাউছার বলেন, শেখ আমির হোসেন রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এলকায় কম্বল বিতরণ করেন। তারপর আমাদের নিয়ে বাঙ্গরা এলাকায় রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত মহল্লাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

ধর্ষণের নাটক সাজানো নিয়ে ওই নারী বলেন, মনির হোসেন নামে এক ছেলের সঙ্গে আমার চট্টগ্রামে পরিচয় হয়। তাকে আমি ভাই বলে ডাকি। তিনি পরিচয় করিয়ে দেন মেম্বারের সঙ্গে। মেম্বার শিখিয়ে দেন শেখ আমির হোসেনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের মামলা করতে। এরপর মেম্বার আমাকে রাতে থানার সামনে এনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। তখন আমি থানায় গিয়ে মেম্বারের শিখানো গণধর্ষণের কথা বলে মিথ্যা নাটক সাজাই। ওই মেম্বারকে আমি প্রথম দেখছি। তিনি মুখে মাস্ক পরা ছিলেন। দাড়ি আছে।

তবে এ বিষয়ে শেখ শামসুল হক বলেন, ‘আমি ওই মেয়েকে চিনিই না। এমন কাজ করলে তো আমার থানা বাঙ্গরায় করতে পারতাম। ’

এজাহারে বলা হয়, ৮ ডিসেম্বর রাত ৭টা ৪০ থেকে ৮টা ১০ পর্যন্ত ওই নারীকে কোম্পানীগঞ্জ পল্লীবিদুৎ এলাকার গফুর মৌলভীর বাড়ির পাশ দিয়ে দক্ষিণ দিকে ঝোপের মধ্যে শেখ আমিরসহ তিনজন মিলে গণধর্ষণ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই সময় শেখ আমির হোসেন তার নিজ এলাকা বাঙ্গরায় কম্বল বিতরণের কাজে ছিলেন। রাত ১১টার পর তিনি বাসায় ফিরে যান।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশিম বাংলানিউজকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের পর আসামি ও ভিকটিমকে থানায় এনে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ভিকটিম স্বীকার করেছেন অভিযোগটি সাজানো ছিল।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০২১
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa