ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয়

জন্মস্থানেই শেরে বাংলার দায়সারা জন্মদিন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৬, ২০২১
জন্মস্থানেই শেরে বাংলার দায়সারা জন্মদিন ছবি: বাংলানিউজ

ঝালকাঠি: অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৪৮তম জন্মদিন পালিত হয়েছে মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর)। দেশের বিভিন্ন স্থানে দিবসটি পালিত হলেও শেরে বাংলার জন্মস্থান ঝালকাঠির রাজাপুরে ছিল না চোখে পড়ার মতো কোনো আয়োজন।

তবে অনেকটা দায়সারাভাবেই শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক রিচার্স ইনস্টিটিউট ও সাতুরিয়া ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন অতিথিকে নিয়ে পালন করা হয়েছে অনুষ্ঠানটি। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন না শেরে বাংলার স্বজনরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেরে বাংলার জন্মস্থান সাতুরিয়ার একাধিক ব্যক্তি বাংলানিউজকে বলেন, শেরে বাংলার জন্ম আমাদের এলাকায়, তাই আমরা ধন্য। তিনি আমাদের গ্রাম, উপজেলাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছেন। তিনি জীবিত নেই কিন্তু তার নানা ও দাদা বাড়ির লোকজন এখনও জীবিত রয়েছেন। এমন একটা দিনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো যেখানে তার স্বজনরা কেউ নেই। তারা যদি শেরে বাংলাকে স্মরণ করতে এ আয়োজন করতেন, তাহলে স্বজনদের কাউকে দাওয়াত দিতেন।

তবে সাতুরিয়া ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সিকদার জানান, অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যান সৈয়দ মাইনুল হায়দার নিপু, মহিদুল ইসলাম ও আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। তারা শেরে বাংলার আত্মীয়। এছাড়াও তার নাতি রাজু সাহেবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি আসেননি। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে যেহেতু শেরে বাংলার জন্মদিন পালন করা হয় না, আমরা যেভাবে পেরেছি করেছি।

এ বিষয়ে শেরে বাংলার নানা বাড়ির বংশধর তানভীর রহমান বলেন, আমরা কাজের তাগিদে সব সময় দেশে থাকি না। তবে সুযোগ পেলেই এলাকায় যাই।   এলাকাবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমার বাবা ওবায়েদ মিয়া শেরে বাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিতে অনেক অবদান রেখেছেন, যা এখনও চলমান।

শেরে বাংলার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এলাকার একটি মহল শেরে বাংলার নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন কাজ করে। তারা আমাদের এ বিষয়ে কিছু জানায় না। অনুষ্ঠান সম্পর্কেও আমাদের জানায়নি। এগুলো আমাদের দুঃখ দেয়। এসব কারণে আমরা ধীরে ধীরে মানুষের পাশের থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোক্তার হোসেন বলেন, শেরে বাংলার জন্মদিন উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পালন করা উচিত। তবে কোনো বরাদ্দ না থাকায় উপজেলা প্রশাসন আগেও কখনো তার জন্মদিন পালন করেনি। তবে যারা করেছে তাদের আরও বড় আয়োজন করা উচিত ছিল।

প্রসঙ্গত, ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

বাংলাদেশ সময়: ২০২৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৬, ২০২১
এনএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa