ঢাকা, শুক্রবার, ৬ কার্তিক ১৪২৮, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পুলিশের লাঠিচার্জ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪০৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পুলিশের লাঠিচার্জ ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: আন্দোলনরত ই-অরেঞ্জের ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ৷

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দশ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেন ই-অরেঞ্জের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা৷ সেখান থেকে মৎস্য ভবনের সামনের সড়ক অবরোধ করতে গেলে সেখানে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে৷

এতে অর্ধশতাধিক গ্রাহক আহত হন বলে জানান ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. রানা। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মৎস্য ভবনের সামনে গেলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে৷ এতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ জন সদস্য আহত হয়েছেন৷ এদের মধ্যে ১০ জনের মতো ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন৷ আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নিচ্ছেন আনেকে৷

এ বিষয়ে ডিএমপির সহকারি পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল-রমনা) রাজন কুমার সাহা বলেন, ওরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শুরু করে।

আমরা ওদেরকে শান্তিপূর্ণভাবেই বলেছি যে, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো। তবে শেষের দিকে ওরা ভায়োলেন্ট হয়ে পড়ে। ওদের অর্গানাইজড কিছু ছিল না।

তিনি বলেন, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধি পাঠাতে চেয়েছিল। আমরা সেই অনুযায়ী যোগাযোগও করেছিলাম। তবে শেষ মুহূর্তে তারা ভায়োলেন্ট হয়ে পড়ে। তারা সবাই সচিবালয়ে যাবে। আমাদের কিন্তু কথা ছিল যে তারা দুইজন প্রতিনিধি পাঠাবে। আমাদের যে ফোর্স ছিল তাদেরকে সচিবালয় থেকে মৎস্য ভবনের দিকে নিয়ে যায়। পরে ওরা মৎস্য ভবনে গিয়ে বসে পড়ে। তখন তাদেরকে সরাতে লাঠিচার্জ করি।

এর আগে প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ থেকে দশ দফা দাবি তোলা হয়৷

এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- ই-অরেঞ্জ ও প্রতারক ওসি সোহেলের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের টাকা অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া হোক; ই-অরেঞ্জ যেহেতু অরেঞ্জ বাংলাদেশের সিস্টার কনসার্ন তাই সকল ভুক্তভোগী গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির দায়ভার অরেঞ্জ বাংলাদেশকে নিতে হবে; ই-অরেঞ্জ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও জড়িত সকল সরকারী আমলা, কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করত হবে এবং এখন পর্যন্ত দায়েরকৃত সকল মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি করতে হবে।  

এছাড়াও যেসব বিষয় রয়েছে দাবিতে- ই-অরেঞ্জ প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড ওসি সোহেলকে অচিরেই দেশে ফিরিয়ে আনা, ই-অরেঞ্জের কত টাকা আটকে আছে সে সম্পর্কিত তথ্য অনতিবিলম্বে প্রকাশ পূর্বক আটকে থাকা টাকাগুলো গ্রাহকদের অনতিবিলম্বে ফিরে দেওয়া হোক, ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে সকল তদন্ত রিপোর্ট অনতিবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে, আসামীদের রিমান্ডে নেওয়া হলো কিন্তু কোনো রিমান্ড রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি কেন, অনতিবিলম্বে রিমান্তে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেওয়া হোক।  

বাংলাদেশ সময়: ১৪০২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
ডিএন/এসআইএস 
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa