ঢাকা, শনিবার, ১ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

বিধ্বস্ত খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক, কবে শুরু হবে কাজ?

মাহবুবুর রহমান মুন্না, ব্যুরো এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮০৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
বিধ্বস্ত খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক, কবে শুরু হবে কাজ? বিধ্বস্ত খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক

খুলনা: পিচ উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। পাথর ও খোয়া উঠে মাটি বের হয়ে গেছে।

বৃষ্টি ও জোয়ার এলে পুরো সড়ক পানিতে ডুবে থাকে। তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। যে কারণে এ সড়কে চলাচলকারী অনেকেই আক্ষেপ করে ‘নদীমাতৃক সড়ক’ হিসেবে আখ্যা দেন খুলনার শিপইয়ার্ড সড়কটিকে।

ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী নগরীর বান্ধাবাজার এলাকার বাসিন্দা অনলাইন শপ ঐতিহ্য ডট কমের পরিচালক জাহিদুর রাহমান এসব কথা বলেন।

বর্তমান রাস্তাটির বর্ণনা দিতে গিয়ে জাহিদ বলেন, সড়কটির জায়গায় জায়গায় বিশাল গর্ত। একটু বৃষ্টি বা রূপসা নদীর জোয়ারের পানি বেশি হলেই রাস্তা আর নদী আলাদা করা যায় না। প্রতিনিয়ত এই রাস্তা পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে যাওয়া কতটা কঠিন, ভুক্তভোগী ছাড়া উপলব্ধি করা যাবে না। কয়েক বছর যাতায়াত করে যুবক হয়েও কোমরে ব্যথা হয়ে গেছে। অসুস্থ রোগী ঘরে বসে কষ্ট করতে রাজি হলেও এ পথে আসতে ভয় পায়। বাধ্য হয়ে কয়েক গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে বেশি সময় ব্যয় করে অন্য রাস্তায় ডাক্তারের কাছে যেতে হয়।



শিপইয়ার্ড সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী লবণচরা টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. আহসান পারভেজ বাংলানিউজকে বলেন, সড়কটিতে একে তো খানাখন্দ, তার ওপর বৃষ্টি হলে তখন গর্ত টের না পেয়ে যানবাহন উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, জোয়ার হলেই দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির সামনে, চানমারি পুলিশ ফাঁড়ি, খুলনা অক্সিজেন কোম্পানি, পাকার মাথা ও বান্ধা বাজার এলাকায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রাস্তা ভাঙা সবচেয়ে বেশি সরকারি মাধ্যমিক সালাউদ্দিন স্কুলের সামনে, বান্ধা বাজার, পাকার মাথা, শিপইয়ার্ড গেট, খুলনা অক্সিজেন কোম্পানি ও এজি কিন্ডার গার্ডেনের সামনে।

মামুন নামের এক গাড়ি চালক বলেন, কাদা পানিতে একাকার হয়ে সড়ক দিয়ে চলতে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস, ট্রাক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করলেও রাস্তাটি সংস্কার হচ্ছে না। জানি না কবে সড়কটির কাজ শুরু হবে।



সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা বলছেন, খুলনা শহরের প্রবেশ দ্বার শিপইয়ার্ড সড়ক। সড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। এমন বক্তব্য নেতাদের মুখে শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।

আক্ষেপ করে তারা বলছেন, বছরের পর বছর পার হলেও শিপইয়ার্ড সড়ক চার লেন প্রকল্প কি স্বপ্নই থেকে যাবে?

জানা যায়, ২০১০ সালে নগরের রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে শিপইয়ার্ডের সামনে দিয়ে খানজাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু) পর্যন্ত চলে যাওয়া প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কটি প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। ২০১৩ সালে প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন মেলে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত। পরে বাড়িয়ে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু আট বছরে তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে এখনও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা যায়নি। যার কারণে প্রকল্পের ব্যয় ৯৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৫৯ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।



২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্যে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নানা জটিলতায় যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।

নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বাংলানিউজকে বলেন, শিপইয়ার্ড সড়কটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে দায়ী লবণচরা এলাকায় গড়ে উঠা সেভেন রিংস সিমেন্ট কারখানা। দিন রাত এখান থেকে শত শত সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক বের হয়ে শিপইয়ার্ড সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। সড়কের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি লোড থাকায় এসব ট্রাকের কারণে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ট্রাফিক বিভাগে নগরীতের দিনের বেলায় ট্রাক প্রবেশ নিষেধ থাকলেও সিমেন্ট কোম্পানিটি তা মানছে না। এতে রাস্তা যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি যানজট তৈরি হচ্ছে এ সড়কে।  



তিনি বলেন, খুলনা মহানগরের প্রবেশ সড়ক রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে খানজাহান আলী (র.) (রূপসা সেতু) পর্যন্ত খুলনা শিপইয়ার্ড ৪ লেন সড়ক একনেকে অনুমোদন হওয়ার ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ার প্রতিদিন মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। অবিলম্বে সড়কটি নির্মাণ কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।

প্রকল্পের পরিচালক খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) (চলতি দায়িত্ব) মো. আরমান হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের রি-টেন্ডার হয়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয় পূর্ত মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছেন। এর পর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে যাবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

 

বাংলাদেশ সময়: ০৮০৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
এমআরএম/এজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa