ঢাকা, শুক্রবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৮, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫ সফর ১৪৪৩

জাতীয়

রাজশাহীতে ‍‘লকডাউন’ বাস্তবায়নে কঠোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৩৬ ঘণ্টা, জুলাই ২৩, ২০২১
রাজশাহীতে ‍‘লকডাউন’ বাস্তবায়নে কঠোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

রাজশাহী: রাজশাহীতে শুক্রবার (২৩ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়নে ভোর থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ফলে ভোর থেকেই রাজশাহী মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক রয়েছে ফাঁকা। তবে শুক্রবার হওয়ায় কাঁচাবাজারে সামান্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সরকারঘোষিত কঠোর বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চলছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিলেও কাউকে কোনো জরিমানা করতে পারেনি। কর্তব্যরত পুলিশের হাতেও আজ প্রথম দিনে আটক হননি কেউ।

তবে সবকিছু বন্ধ থাকলেও রাজশাহী শহরে জরুরি সেবা চালু রয়েছে। এর মধ্যে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও খাবার পরিবহনের যানবাহনগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলাচল করছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে ওষুধের প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন তাদেরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই সকাল থেকে পাড়া-মহল্লায়ও আজ কেউ বাড়ির বাইরে বের হননি। কাঁচাবাজার ও খাদ্যপণ্য কেনার মতো নিতান্ত জরুরি প্রয়োজনে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন তাদেরও কর্তব্যরত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পাশাপাশি রাজশাহী সিটি এবং প্রতিটি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দু’টি করে টিম টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি তিন প্লাটুন বিজিবি মাঠ পর্যায়ে লকডাউন কার্যকরের দায়িত্ব পালন করছে। সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর প্রথম দিনে তাই রাজশাহীজুড়েই কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে কোলাহলের এই শহরে নেমে আবারও নীরবতা নেমে এসেছে।

রাজশাহী শহরের তিনটি প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) রাত থেকেই বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। শহরের তিন দিকের প্রবেশমুখ আমচত্বর, কাশিয়াডাঙ্গা ও কাটাখালী এলাকায় পুলিশ সদস্যরা ব্যারিকেড দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব পয়েন্টে মানুষ ও যানবাহনের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে মহানগর পুলিশ।

পণ্যবাহী পরিবহন, পিকআপ ভ্যান ও মালবাহী ট্রাক ছাড়া কিছুই রাজশাহী শহরে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জরুরিসেবার যানবাহন ছাড়া রিকশা বা মোটরসাইকেলও দেখা যায়নি। তবে প্রাইভেটকারগুলো বিভিন্ন স্টিকার লাগিয়ে বাইরে বের হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে শহরের সব মার্কেট, বিপণিবিতান এবং দোকানপাট।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক জানিয়েছেন, সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বাত্মক লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে। সিটি করপোরেশন ছাড়া উপজেলাগুলোতেও সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব টহল দিচ্ছে। এ অবস্থায় কেউ অহেতুক বাইরে ঘোরাঘুরি করলে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের শাস্তির মুখে পড়তে হবে।  

তাই কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তিনি সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সময়: ১২৩৬ ঘণ্টা, জুলাই ২৩, ২০২১
এসএস/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa