ঢাকা, শনিবার, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ১৫ মে ২০২১, ০২ শাওয়াল ১৪৪২

জাতীয়

নগরের কাজ অনেক সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৩, ২০২১
নগরের কাজ অনেক সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না ...

ঢাকা: নিরাপদ শহরের জন্য অনেক কাজ করা হলেও নগরের যে সমস্যাগুলো সামনে আসে তা পরিকল্পনা অনুযায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাই সঠিক সমাধানে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর করে তোলা জরুরি।

কারণ দেশের নগরায়ণের গতি উন্নয়নের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) কালের কণ্ঠ, পিএসটিসি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘নিরাপদ শহর : নীতি নির্ধারণে করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনার/ভার্চ্যুয়াল গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।  

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে নিরাপদ শহরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনেক এগিয়ে আছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা অনেক উন্নত দেশের পরিকল্পনা থেকেও এগিয়ে। এখন একাডেমি এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। যদি সমন্বয়ে দুর্বলতা থাকে, পরে তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যাঘাত ঘটায়।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বসহকারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বেড়েছে এবং স্বচ্ছতাও এসেছে। আমরা অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে সরে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। নিরাপদ শহর নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে সেগুলো যদি আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি তাহলে নগর নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের যে শঙ্কা কাজ করে, সেটি কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

স্বাগত বক্তব্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, নগরের পরিবর্তনের জন্য মানুষের সচেতনতা হচ্ছে সবচেয়ে বড় করণীয় কাজ। আপনি সচেতন হলে আরেকজনকে বলবেন। সে পাশের মানুষটিকে বলবে। এভাবে সারাদেশ একটি মনোভাব নিয়ে একত্রিত হবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের যারা আছেন আমাদের একটা সুন্দর শহর উপহার দিন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যা হচ্ছে অস্থায়ী ভিত্তিতে হচ্ছে। আমাদের সুপরিকল্পিত একটি মাস্টার প্ল্যান থাকা উচিত। যদি পুরো মাস্টার প্ল্যান একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করা যায় তাহলে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ভাগ ভাগ করে কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কমিটিগুলো আছে সবগুলোকে আরও কার্যকরী করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের নগরায়ণের যে গতি আমাদের উন্নয়নের অগ্রগতির সঙ্গে এটা কিন্তু জড়িত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও দুর্যোগ, বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনেক এগিয়ে আছি। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা অনেক উন্নত দেশের পরিকল্পনা থেকেও বহুদূর এগিয়ে। এখন নিরাপদ শহর যদি আমরা বলি, বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে আছে। তবে সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আতিকুল হক বলেন, সিটি করপোরেশন ও ওর্য়াড কমিটিগুলোকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কীভাবে সক্রিয় করা যায় তার জন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ।

গোলটেবিল আলোচনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মানিক কুমার সাহা ও সেভ দ্য চিলড্রেনের হিউম্যানিটারিয়ান ডিরেক্টর মোস্তাক হোসেন বক্তব্য দেন।

এছাড়াও ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশনের ফ্রিল্যান্স কনসালট্যান্ট আবদুল লতিফ খান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।  

অনুষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে ছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।  

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৩, ২০২১
এসই/এইচএডি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa