ঢাকা, সোমবার, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৮ মহররম ১৪৪৬

জাতীয়

বেড়েছে যাত্রীর চাপ, ভাড়াও বেড়েছে দ্বিগুণ

অতিথি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৫৪ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০২৪
বেড়েছে যাত্রীর চাপ, ভাড়াও বেড়েছে দ্বিগুণ

সাভার: ঈদুল আযহা উপলক্ষে সাভারের অনেক পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ায় অঞ্চলটির মহাসড়কে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের চাপ। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহনের চাপ, তেমনি বিভিন্ন জেলার ভাড়াও বেড়েছে দ্বিগুণ।

উত্তরের জেলার ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন যাত্রীরা। যদিও কাউন্টার মাস্টার ও কনডাক্টর এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নবীনগর, বাইপাইল, শ্রীপুর ও জিরানীবাজার বাস স্ট্যান্ড ঘুরে শেকড়ের টানে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ দেখা গেছে। আর এতেই দ্বিগুণ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বাসের। জনপ্রতি ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি যাত্রীদের।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন তথ্যমতে, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া উত্তরের জেলা সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭২ টাকা, ঢাকা থেকে বগুড়ার ভাড়া ৫৫৮ টাকা, নাটোর ৫৯৩ টাকা, পাবনা ৬৪৬ টাকা, নওগাঁ ৭০১ টাকা, রাজশাহী ৭১২ টাকা, জয়পুরহাট ৭১২ টাকা, রংপুর ৮৭৯ টাকা, দিনাজপুর ৯৪০ টাকা, লালমনিরহাট ৯৯৪ টাকা, কুড়িগ্রাম ১০০২ টাকা, নীলফামারী ১০১৬ টাকা, ঠাকুরগাঁও ১০৯৫ টাকা ও পঞ্চগড় ১২৩৫ টাকা। তবে নির্ধারণ করা ভাড়ার টাকার প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন যাত্রীরা।

নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল বাস স্ট্যান্ড থেকে গাইবান্ধার বাসে ওঠেন পোশাক শ্রমিক মোনাফ মিয়া। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। স্বাভাবিক সময়ে ৬০০/৭০০ টাকা ভাড়া দিয়ে আমরা বাড়ি যাই। কিন্তু আজ ১১০০ টাকা গুণতে হচ্ছে। আমাদের উৎসব ঘিরে বাস কর্তৃপক্ষ সুযোগ নিচ্ছে, যা অন্যায়।

অপর যাত্রী হানিফ বাংলানিউজকে বলেন, বাসের ভাড়া প্রতি ঈদেই তো দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়ে যায়। আজ আমার কাছ থেকে বগুড়ার ভাড়া নিয়েছে ৯০০ টাকা। বুধবার পর্যন্ত বগুড়ার ভাড়া ছিল ৫৫০/৬০০ টাকা। গতকাল আমার সহকর্মী বাড়িতে গেছে সাড়ে ৫০০ টাকা দিয়ে। একদিনের ব্যবধানে এতো ভাড়া বাড়ল কীভাবে এটাই বুঝতে পারছি না। সঠিক তদারকি থাকলে আমাদের বাড়তি টাকা গুণতে হতো না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বাইপাইল বাস স্ট্যান্ডের লোকাল গাড়ির কাউন্টার মাস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের গাড়িতে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। আমরা ঈদ বোনাস চেয়ে নিচ্ছি। সবাই তো ঈদ বোনাস পায়। আমরা তো পাই না। তাই চেয়ে নিচ্ছি, জোর করছি না। অনেকে দিচ্ছেন কেউ আবার রাগ করছেন।

সাভার হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) আইয়ুব আলী বাংলানিউজকে বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। তবে অভিযোগ না করলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা কষ্টকর। এমন ঘটনা ঘটলে অবশ্যই অভিযোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছি।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৪ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০২৪
এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।