ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

ভারত

ভারতজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৩৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৪, ২০২৪
ভারতজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ

আগরতলা (ত্রিপুরা): বাংলাদেশের বাংলা ক্যালেন্ডারের চেয়ে ভারতীয় বাংলা ক্যালেন্ডার একদিন পেছনে। তাই রোববার (১৪ এপ্রিল) ভারত জুড়ে উদযাপিত হচ্ছে পয়লা বৈশাখ ১৪৩১ বাংলা।

ত্রিপুরা রাজ্য জুড়েও নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে নতুন বছরের প্রথম দিন।

প্রচলিত একটি ধারণা রয়েছে বছরের প্রথমদিন যেভাবে কাটানো যায় সারাবছরও ঠিক সেভাবে কাটে। তাই বছরের প্রথম দিনটিকে সবাই ভালো এবং আনন্দের মধ্যে দিয়ে কাটাতে চায়।

সকাল থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ বাড়িতে, নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গণেশ পূজার আয়োজন করেন।

আগরতলার যেসব ব্যবসায়ী নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গণেশ ও  লক্ষ্মী পূজার আয়োজন করেন। তারা স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মী-নারায়ণ বাড়ি মন্দিরে হালখাতার পূজা দিয়ে নতুন বছরে নতুনভাবে ব্যবসার সূচনা করেন। আবার অনেকেই নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পূজার পাশাপাশি লক্ষীনারায়ণ বাড়িতে গিয়েও পূজা দিয়ে আসেন।  

তাই সকাল থেকে এ মন্দিরে পূণ্যার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়, নারী পুরুষ আলাদা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়ে মন্দিরে পূজা দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনে দীর্ঘ হতে থাকে। মন্দিরের বাইরে লাইন ধরে পুরোহিতরা বসেন। মন্দিরে পূজা দেওয়ার পর ব্যবসায়ীরা তাদের পছন্দের পুরোহিতের কাছে পূজা করিয়ে নতুন বছরের নতুন হালখাতার যাত্রা শুরু করান।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে লক্ষীনারায়ণ বাড়ি মন্দিরের বাইরে রাস্তার দু'পাশে মেলা বসে। এ মেলায় মাটির পুতুল বাসনপত্র খেলনা শহর নানা নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা।  

বছরের প্রথম দিন যেভাবে কাটানো হয় সারাবছর এভাবে কাটে, এ প্রথাকে ভিত্তি করে ভোজন রসিক বাঙালিরা সাধ্যমতো খাবারের তালিকায় নানা জাতের মাছ মাংস রাখেন, সে সঙ্গে নতুন জামা কাপড় পরেন। তাই বছরের প্রথম দিন মাছ, মাংস থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকানে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আগরতলার মহারাজগঞ্জ বাজার, বটতলা বাজার, লেক চৌমুহনী বাজার, মঠ চৌমুহনীসহ অন্যান্য বাজারগুলোতে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ফলে বিশেষ এ দিনে মাছ, মাংসসহ অন্যান্য সবজির দাম তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই বেশি, কিন্তু সারাবছর ভালো কাটানোর লোভে বছরের প্রথম দিনই পকেট কাটা যায় সাধারণ গৃহস্থের।  

ইলিশ মাছ বছরে দুইবার ডিম পাড়ে, এখন ইলিশ মাছের ডিম পাড়ার মৌসুম। তাই বাংলাদেশে সরকারিভাবে এখন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ। তারপরও ভোজন রসিক বাঙালিদের পাতে বছরের প্রথম দিন ইলিশ চাই। তাই রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা গেল নানা আকারের ইলিশ মাছ রয়েছে ৬০০ গ্রাম ওজন থেকে ১৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ছেয়ে আছে বাজারে।

ওজন অনুসারে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ১২০০ রুপি থেকে ১৪০০ রুপি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানান এ জিনিসগুলোর বেশির ভাগে আসছে বাংলাদেশ থেকে। বৈধ উপায়ে আনার অনুমতি না থাকলেও চোরাই পথে ইলিশ দেদার আসছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা। ইলিশের পাশাপাশি গলদা চিংড়ি রুই কাতল বোয়ালসহ নানা জাতের মাছ এসেছে বাজারে। বিক্রি খুবই ভালো বলেও অভিমত ব্যবসায়ীদের। একইভাবে মিষ্টির দোকানগুলোতেও উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সব মিলিয়ে উৎসব প্রবণ বাঙালি আরও একটি নববর্ষ মহা ধুমধামের সঙ্গে উদযাপন করছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৪, ২০২৪
এসসিএন/জেএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।