ঢাকা, রবিবার, ৮ বৈশাখ ১৪৩১, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১১ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

রমজানে ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রিতে ব্যবসায়ীর বিশেষ আয়োজন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩০৭ ঘণ্টা, মার্চ ৫, ২০২৪
রমজানে ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রিতে ব্যবসায়ীর বিশেষ আয়োজন ব্যবসায়ী শাহ আলম

চাঁদপুর: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম। পেশায় ব্যবসায়ী।

নিজ এলাকায় বছরজুড়ে শাহ আলম স্টোরে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বিক্রি করেন। কিন্তু রমজান মাস এলেই ভিন্ন কক্ষে তিনি ১ থেকে দেড় মাস বিক্রি করেন রোজাদারের প্রয়োজনীয় ইফতারসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী।  

এসময়টাতে বিক্রিতেও তিনি ব্যতিক্রম। ক্রয় মূল্য থেকে অতিরিক্ত ১ টাকা লাভে বিক্রি করেন প্রতিকেজি পণ্য। রমজান উপলক্ষে দরিদ্রসহ সব মানুষের জন্য এটি তার বিশেষ আয়োজন। তিনি দেশের প্রত্যেক পাড়া মহল্লার ব্যবসায়ীদের রমজানে অতিরিক্ত মুনাফা না করে পণ্য সামগ্রী বিক্রির আহ্বান জানান।

সরেজমিন পৌর এলাকার চরকুমিরা তালতলা মার্কেটে গিয়ে দেখা মেলে ব্যবসায়ী শাহ আলমের। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম মো. শাহ আলম স্টোর। সকাল থেকেই তিনি দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে পরিচালনা করেন। রমজান উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনে নিজে এবং একজন কর্মচারী নিয়ে কাজে ব্যস্ত তিনি। ইতোমধ্যে ওই দোকানে ইফতার আইটেমগুলো সাজিয়ে রেখেছেন।

এই ব্যবসায়ী সোমবার (৫ মার্চ) ক্রয় মূল্যের চাইতে ১ টাকা লাভে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি করছেন ৯৯টাকা, খেসারি ১০৯ টাকা, চিড়া ৫৬ টাকা, চিনি ১৩৯ টাকা, বেসন ৮১ টাকা, মুড়ি ৬৩ টাকা, খেজুর দুই ধরনের একটি প্রতিকেজি ২৫৮টাকা এবং অপরটি প্রতিকেজি ২৫৮টাকা। ভোজ্য তেল (সয়াবিন) প্রতি লিটার বিক্রি করেন ১৪০ টাকা।

ওই গ্রামের বাসিন্দা ও পণ্য ক্রয় করতে আসা আহসান উল্লাহ খান বলেন, ২০২৩ সালে রমজানের আগ থেকে শাহ আলম এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তার উদ্যোগকে আমরা সবাই স্বাগত জানিয়েছি। এখন রমজানের সব পণ্য সামগ্রী তার কাছ থেকে ক্রয় করি। কারণ বাজারে দাম বেশি এবং আসা-যাওয়ায় সময় ব্যয় করতে হয়।

ওই এলাকার আব্বাস ও রহিম বেপারী বলেন, শাহ আলম ১ টাকা লাভে বিক্রির বিষয়টি সবদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গরিব লোকজন তার দোকানে চলে আসে। আমরা সবাই এখন উপকৃত হচ্ছি।

শাহ আলমের পাশের ওষুধ ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, শাহ আলম ভাই যে উদ্যোগ নিয়েছেন এটি বিরল। শুধুমাত্র কয়েকটি আরব দেশের কথা শুনেছি মুনাফা ছাড়া রমজানে পণ্য বিক্রি করেন। আমার মনে হয় তার এই ধরনের উদ্যোগ দেশের সব মানুষের কাছে উদাহরণ। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাগবে মুনাফা কমিয়ে বড় ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসা উচিত।

ভাটিয়ালপুর এলাকার অটোরিকশা চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রির বিষয়টি খুবই ব্যতিক্রম। অনেক দূর থেকে এসে রমজানের খাদ্য সমাগ্রী ক্রয় করেন লোকজন। গরিব লোকদের জন্য খুবই ভালো হয়েছে। আমরা চাই অন্য ব্যবসায়ীরা যেন এভাবে এগিয়ে আসেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা এলাকার বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, যেখানে সব খাদ্য দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি, সেখানে শাহ আলমের মতো ব্যবসায়ীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তিনি একজন ভালো মনের মানুষ হওয়ার কারণে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। আমি মনে করি রহমতের মাস হিসেবে সব ব্যবসায়ীদের সংযমী হওয়া উচিত।

ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, আমি অনেক বছর ধরে ব্যবসা করি। গত বছর চিন্তা করলাম এলাকার মেহনতি মানুষের জন্য কিছু করি। তাই উদ্যোগ নিলাম রমজান উপলক্ষে আমি ১ টাকা লাভে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করবো। এটি করতে গিয়ে গত বছর অনেক বিক্রি হয়েছে এবং এই বছরও মানুষ পণ্য সামগ্রী ক্রয় করে উপকৃত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আশাকরি যারা শহর ও গ্রামে বড় ব্যবসায়ী আছেন, তারাও যেন রমজান উপলক্ষে ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করেন। তাহলে গরিব মানুষ এই রমজানে তৃপ্তিমতো পণ্য কিনে খেতে পারবেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০৩ ঘণ্টা, মার্চ ০৫, ২০২৪
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।