ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৯ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখতে চান বাবা-মা

মুহাম্মদ মাসুদ আলম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৪৬ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০২৩
শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখতে চান বাবা-মা

চাঁদপুর: সৌদি আরবের মক্কায় ওমরাহ পালনে যাওয়ার পথে বাস দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিহত তুষার মজুমদারের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায়।

 

মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

পরিবারের একমাত্র বড় ছেলে তুষার। তার মৃত্যুতে পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। শেষবারের মতো সন্তানের মরদেহ দেখতে চান বাবা-মা।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘিলাতলী গ্রামের মজুমদার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তুষারের মা-বাবাসহ আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারি। বাড়ির লোকজনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। বিলাপ করে কান্না করছে সবাই।  

পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে সবার আদরের ছিলেন তুষার। মা-বাবা, ছোট একটি ভাই, একটি বোন নিয়েই ছিল তাদের পরিবার। একটি ভাঙাচোরা ঘরেই জীবন কাটে তাদের।

তুষারের মা মনোয়ারা বেগম ছেলের নাম ধরে চিৎকার করে কাঁদছেন। ঘরের বাইরে মাটিতে বসে বিলাপ করতে দেখা যায় বাবা মনির হোসেন মজুমদারকে। বাবাকে জড়িয়ে ধরে ভাই ভাই করে কাঁদছেন তুষারের ছোট বোন ও ভাইটিও। এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মৃত্যুর খবর পেয়ে আসছেন স্বজনরাও। তাদের দেখে তুষারের মা জড়িয়ে ধরছেন আর চিৎকার করে কাঁদছেন।

তুষারের বাবা মনির হোসেন মজুমদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি দীর্ঘদিন নানা রোগে অসুস্থ। অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতাম। সেই অটোরিকশাটাও চুরি হয়ে গেছে। সন্তানের উপার্জনেই চলছিল সংসার। আমার ছেলে ওমরাহ যাওয়ার আগে বলেছে, ওমরাহ শেষ করে এসে ফোন দেবে এবং বাড়িতে টাকা পাঠাবে। ফোন করে নানা পরিকল্পনার কথা বলতো আমার ছেলে। সব কিছুই শেষ হয়ে গেল।

মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ১১ মাস আগে আমার ছেলে সৌদি আরবে গেছে। প্রথমে ভালো কাজ পায়নি। কিছুদিন আগে একটি কোম্পানিতে চাকরি পায়। তারাই ওমরাহ করার জন্য পাঠিয়েছে। তার বাবা অসুস্থ থাকায় বিভিন্ন সমিতি ও আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে পাঠিয়েছি। এখন কিভাবে ওই ঋণ পরিশোধ করব, বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আমার সন্তানের মরদেহ যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করে এবং আমাদের আর্থিকভাবে সহযেগিতা করে।

মজুমদার বাড়ির বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, তুষার খুবই ভালো ছেলে ছিল। সে এসএসসি পাশ করার পরেই সংসারের হাল ধরে। স্থানীয় একটি মুদি দোকানে কাজ করত। তার বাবা-মা ঋণ করে সৌদি আরবে পাঠায়। দুর্ঘটনায় তাদের সব শেষ হয়ে গেল। সরকার যদি তাদের পাশে না দাঁড়ায়, পরিবারটি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা খন্দকার বাংলানিউজকে বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে না, প্রতিবেশী হিসেবে আমি বলবো, সরকার যেন তুষারের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে এবং ঋণগ্রস্ত এই পরিবারের প্রতি সদয় দৃষ্টি দেয়। ইউনিয়ন পরিষদসহ আমাদের অবস্থান থেকেও সব ধরণের সহযোগিতা থাকবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৪ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০২৩
এনএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।