ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৪ মে ২০২৪, ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

সাংবাদিক নির্যাতনের কথা অস্বীকার করছি না: লিটন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২০, ২০২২
সাংবাদিক নির্যাতনের কথা অস্বীকার করছি না: লিটন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের ‘লেখক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে খায়রুজ্জামান লিটন | ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

তিনি বলেছেন, সাংবাদিক যে নির্যাতন হয় না, এমন কথা বলা যাবে না।

সাংবাদিক নির্যাতনের অনেক ঘটনা বাংলাদেশে আছে। এমনকি সাংবাদিকদের হত্যা করা হয়েছে, এমন ঘটনাও এ দেশে আছে। এগুলোর কোনটাই আমরা অস্বীকার করছি না। নানান সময় নানান সরকার এই কাজগুলো করেছে।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ঢাকা সাব- এডিটরস কাউন্সিলের (ডিএসইসি) প্রথমবারে মতো আয়োজিত ‘লেখক সম্মাননা-২০২২’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খায়রুজ্জামান লিটন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইসির লেখক সম্মাননা-২০২২ এর উপদেষ্টা সম্পাদক মামুন ফরাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ২০০৪ সালের বোমা হামলায় আমাদের খুলনার মানিক সাহা নিহত হয়েছিলেন। তিনিই তো সাংবাদিক জগতের দৃষ্টান্ত। সত্য প্রকাশের জন্য তিনি বাধা পেয়েও আপসহীন ভূমিকা পালন করেছিলেন। এমন ১৫-২০ জন সাংবাদিককে একটি সরকারের (বিএনপি) আমলে জীবন দিতে হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র আরও বলেন, এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সাংবাদিকরা যে আর্থিকভাবে ভালো আছেন সেটাও জোর গলায় বলা যাবে না। আমরা যারা রাজনীতি করি, নিঃসন্দেহে তাদের বেশির ভাগই সংবাদপত্রসহ টিভি চ্যানেলগুলোর ওপর নির্ভর করি। আমরা সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করি।

দেশে কেমন সাংবাদিকতা চলছে তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আধুনিক, সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কয়টি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে তার মধ্যে সাংবাদিকতা একটি মাধ্যম। এই সংবাদপত্রের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের খবর আমরা জানতে পারি। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো একটি বিষয়ে সাংবাদিক লিখতে চেয়েছেন। কিন্তু তার অফিস তা নিষেধ করেছে। বিশেষ করে যখন তখন বিশেষ জায়গা থেকে এ সকল বিষয় সংগ্রহ করা হয় তখন বলে দেওয়া হয়, এতটুকু লেখা যাবে, আর এতটুকু দেখানো যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখনই বিদেশ সফর থেকে আসেন, তার পরপর তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের জবাব দেন। খুব কম দেশের প্রধানমন্ত্রী আছেন, যারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

সাব এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত লেখক সম্মাননা অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে লিটন বলেন, আমার বিশ্বাস সাব এডিটরস কাউন্সিলের সামনের অনুষ্ঠানে আরও বেশি লেখা পাওয়া যাবে। এই ধরনের অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানে কবিতা, ইতিহাস/গবেষণা, গল্প/উপন্যাস, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণ/বিজ্ঞান ক্যাটাগরিতে মোট ৯৬ জনকে লেখক সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে ৫০ জনকে।

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি) লেখক সম্মাননা জুরি বোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াস শামীম, কবি প্রাবন্ধিক-গবেষক মজিদ মাহমুদ, কথাসাহিত্যিক ড. হাসান অরিন্দম, কবি ও গবেষক আমিনুল ইসলাম, কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার।

নির্বাহী কমিটিতে (জুরি) ছিলেন মামুন ফরাজী, আনজুমান আরা শিল্পী, আবুল হাসান হৃদয়, লাবিন রহমান, মনির আহমাদ জারিফ, মামুনুর রশিদ মামুন, জাফরুল আলম, হালিমা খাতুন, আরিফ আহমেদ, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান আহমেদ।

লেখক সম্মাননা উপ-কমিটিতে ছিলেন কবীর আলমগীর, শিবলী নোমানী, প্রতীক মাহমুদ, নাজিম উদ দৌলা সাদী, মো. নঈম মাশরেকী।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২০, ২০২২
ইএসএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।