ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মাঘ ১৪২৯, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮ রজব ১৪৪৪

জাতীয়

মানুষ শুধু পেট ভরে খেতে চায় না, বিশুদ্ধ খাবারও চায় 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১২৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৬, ২০২২
মানুষ শুধু পেট ভরে খেতে চায় না, বিশুদ্ধ খাবারও চায় 

ঢাকা: বাংলাদেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বসবাস। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিদিনেই তাদের খেতে হচ্ছে।

কিন্তু সেই খাদ্য কতোটা নিরাপদ- জানা নেই কারও। বাঁচতে হলে শুধু খাওয়া নয়, নিরাপদ খাদ্য খেতে হবে। মানুষ শুধু পেট ভরে খেতে চায় না, বিশুদ্ধ খাবারও চায়।  

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লায় দুই দিনব্যাপী নিরাপদ খাদ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। নিরাপদ এ খাদ্য মেলার আয়োজন করেছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে এবং ফ্রেন্ডস ই ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি)।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সার্ক অ্যাগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালাক ড. মো. বখতিয়ার হোসাইন বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে নানান ধাপ পেরিয়ে যখন আমাদের প্লেটে আসে, তখন সেটা কতটা নিরাপদ থাকে? আমাদের লক্ষ্য পেট ভরে খাওয়া। কিন্তু সেটা নিরাপদ নাকি অনিরাপদ? সে বিষয়ে কোনো ধারণা রাখি না। তবে বর্তমানে সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। যার কারণে এখন মানুষ শুধু পেট ভরে খেতে চায় না, বিশুদ্ধ খাবারও চায়।

তিনি বলেন, আমি যে খাদ্য খাচ্ছি, সেটার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে যারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করছে, তাদের সহযোগিতা করতে হবে, যাতে তারা অর্গানিক খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহিত হতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে হুমায়ূন কবীর ভূঁইয়া বলেন, গ্রামের ছেলে হিসেবে ছোটবেলায় শুধুমাত্র লবণ এবং কেরোসিন তেল ছাড়া আর কিছু কিনে খাই নাই। আর আজকে সব কিছুই কিনে খেতে হয়। যার কারণে এই খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি না। কিন্তু ক্ষেত থেকে পাত পর্যন্ত যদি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারা যায়, তাহলে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত হবে না।

তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্যাব নানান কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কমপিটিশন কমিশনসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও বিএসটিআইসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধি বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। কারণ ভোক্তা হিসেবে আমরা নিরাপদ খাদ্য পেতে চাই।

হুমায়ূন কবীর ভূঁইয়া বলেন, আমরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু এ অনিরাপদ খাদ্য খাওয়ার জন্য যুদ্ধ করিনি। আমরা গাড়ি-বাড়ি চাই না। কিন্তু নিরাপদ খাদ্য চাই, নিরাপদে বাঁচতে চাই। কিন্তু করপোরেট কোম্পানিগুলো সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে তাদের ইচ্ছে মতো পণ্য বিক্রি করছে।

এফআইবিডি'র সিনিয়র প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর ফকরুল ইসলাম চৌধুরী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এফআইভিডি ১৯৮১ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে। এফআইবিডি'র সূচনা থেকেই কৃষি-খাদ্যের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের চারটি বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় এফবিআইবিডির কার্যক্রম চলছে। এফবিআইবিডির আওতাধীন কৃষিতে বিষাক্ত কীটনাশক দেওয়া হয় না। এখানে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে খাদ্য পণ্য উৎপাদন করা হয়।

ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে'র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (বাংলাদেশ) মামুনুর রশিদ বলেন, ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ জার্মান ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান, যেটা বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এখানে ক্যাব নিরাপদ খাদ্য পেতে ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। আর আমরাও সেই কাজকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

সার্ক অ্যাগ্রিকালচার সেন্টারের সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার ড. মো. ইউনুস আলি বলেন, নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, আমরা সেই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্যই ভোক্তাকে নিরাপদ খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করা।

গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে'র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ভারত) অংশুমান দাস বলেন, নিরাপদ খাদ্যের জন্য পৃথিবী ব্যাপী আন্দোলন চলছে। কারণ এখন নিরাপদ খাদ্য পাওয়াটা চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। মঞ্চে বক্তব্য দিয়ে সচেতনতা তৈরি করা যায় না। ভোক্তা সচেতন হতে হলে, উৎপাদকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। সে কীভাবে উৎপাদন করে সেই বিষয়ে ধারণা রাখতে হবে। তবেই ভোক্তা সচেতনতা বাড়বে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য, শিল্প ও উৎপাদন) প্রফেসর ড. আব্দুল আলীম বলেন, এখানে আমরা ‘নিরাপদ খাদ্য’ কথাটি বলছি। কিন্তু খাদ্য মানেইতো নিরাপদ খাদ্য হবে। কিন্তু আজ অনিরাপদ খাদ্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। যার কারণে নিরাপদ খাদ্যের নামটি এসেছি। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি, খাদ্য মানেই নিরাপদ খাদ্য হবে। এখানে নিরাপদ খাদ্য বলতে হবে। উন্নত দেশে মানুষ ৭০/৮০ বছর বাঁচে। কিন্তু আমাদের দেশে ৬০ বছরও বাঁচে না।  কারণ উন্নত দেশে নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে হয় না। আমাদের দেশের মাটি ভালো। আমরা চেষ্টা করলেই ভালোটার জন্য বাড়ির আনাচে-কানাচেতে সবজি উৎপাদন করে খেতে পারি।

তিনি বলেন, আপনি বাজার থেকে পণ্য কিনে আনলেন। আপনার বাসার কাজের লোকটি সেটা সুন্দর করে রান্না করে আপনাকে খেতে দিলো। কিন্তু আপনি কি কখনো খোঁজ নিয়েছেন- সে সেভ ছিল কিনা। তার জন্যতো দামি পোশাকের দরকার নেই। অন্তত সে যেন নিজেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে, সেই বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের অ্যাসিস্টেন্ট প্রোগ্রামার মারুফা কলি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী বা রাসায়নিক পদার্থযুক্ত অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণে ২শ'র অধিক রোগ হয়, প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন দূষিত খাবারের কারণে অসুস্থ হয় এবং প্রতিবছর ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষ মারা যায়।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৬, ২০২২
জিসিজি/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa