ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯ সফর ১৪৪৩

আইন ও আদালত

কারাগারে কয়েদি শনাক্তে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি কেন নয়: হাইকোর্ট

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০৭ ঘণ্টা, জুন ২৮, ২০২১
কারাগারে কয়েদি শনাক্তে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি কেন নয়: হাইকোর্ট

ঢাকা: দেশের সব জেলখানায় কয়েদিদের পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক ডাটা পদ্ধতি চালু করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব ও কারা মহাপরিদর্শককে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামে এক নারীর বদলি জেল খাটা নিয়ে তলবে আইনজীবীসহ ৫ ব্যক্তির হাজিরার শুনানিতে সোমবার (২৮ জুন) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমানের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।  তলবে যারা হাজির হয়েছেন তাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস, সগির হোসেন লিয়ন ও কাজী আরিফুর রহমান।

গত ৭ জুন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীর পরিবর্তে জেল খাটা মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ ঘটনায় চট্টগ্রামের নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এম এ নাসের, আইনজীবী নুরুল আনোয়ার, আইনজীবী বিবেকানন্দ চৌধুরী, আইনজীবী পুষ্পেন্দ বিকাশ কানুনগো ও আইনজীবী সহকারী সৌরভ হোসেনকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছিল। সে অনুসারে তারা হাজির হন।

এ ৫ জনের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন। এ সময় আদালতের প্রশ্নে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, একজনের নামে আরেকজন জেল খেটেছেন, গত দুই বছরে আমাদের দেশে এমন ২৬টি ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনারোধে দেশের জেলগুলোতে বিদেশের মতো বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। যেখানে সবার আইরিশ ও ফ্রিঙ্গার ফ্রিন্ট থাকবে। এতে এসব ঘটনা আর ঘটবে না।

তখন আদালত দুই সপ্তাহের সময় দিয়ে সরকারের এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি ৫ জনের বিষয়ে শুনানির জন্য ৮ আগস্ট দিন রেখেছেন। ওইদিন এই ৫ জন ভর্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকতে হবে।

চট্টগ্রামে একটি হত্যা মামলায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। তার বদলে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তার নামেই মিনুকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আদালতের নজরে আনেন।

গত ২২ মার্চ সকালে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে পিডব্লিউ মূলে মিনুকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে জবানবন্দি শুনে এ মামলার আপিল উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় মিনুর উপ-নথি ২৩ মার্চ হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেন।

ওইদিন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) মো. নোমান চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, আদালতে সংরক্ষতি ছবি সম্বলিত নথিপত্র দেখে কুলসুম আক্তার কুলসুমী আর মিনু এক নয় বলে নিশ্চিত হয়েছেন আদালত। যেহেতু এরই মধ্যে এ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে তাই মামলার উপ-নথি দ্রুত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানো হচ্ছে।

এ মামলায় মিনুর পক্ষে শুনানি করেছেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জে একটি বাসায় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলার ঘটনা কেন্দ্র করে গার্মেন্টসকর্মী কোহিনূর আক্তারকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। এরপর রহমতগঞ্জে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পারভিন আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন গার্মেন্টসকর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। এরপর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। মামলায় পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে হত্যা করা হয়েছে প্রতিবেদন দিলে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এরমধ্যে এক বছর তিনমাস জেল খেটে জামিনে মুক্তি পান কুলসুম।

মামলার বিচার শেষে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ওই হত্যা মামলায় আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। সাজার পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলি মিনু গত ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান।

এদিকে, গত ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে মিনু কোনো মামলার আসামি নয় বলে জানতে পারেন। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়।

কারাগারের সংরক্ষিত হাজতি রেজিস্ট্রার অনুসারে আসামি কুলসুম আক্তার গত ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কারাগারে আসেন। তিনি কারাগারে প্রায় এক বছর তিন মাস ছিলেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালত ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিন মঞ্জুর করেন। ওই দিন কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুম আক্তার কুলসুমী।

জেলে থাকা মিনুর ভাই মো. রুবেল বাংলানিউজকে জানান, গত ২০১৮ সালের রমজান মাসে জাকাতের টাকা ও খাদ্যসামগ্রী দেবে বলে মিনু আপাকে ডেকে নিয়ে যায় আমাদের পাশের মর্জিনা আক্তার নামে এক নারী। এরপর আমার বোন মিনু আক্তার আর বাড়িতে ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুজি করেছি।  

২৪ মার্চ নথি হাইকোর্টে আসে। পরে ৩১ মার্চ  এ ঘটনা উচ্চ আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানি শেষে গত ৭ জুন মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর মিনু মুক্তি পান।

বাংলাদেশ সময়: ২০০৬ ঘণ্টা, জুন ২৮, ২০২১
ইএস/ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa