ঢাকা, রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

ইচ্ছেঘুড়ি

জ্ঞানের আলোর মশাল নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছুটে চলা

শরিফুল ইসলাম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০০০ ঘণ্টা, আগস্ট ২২, ২০১০
জ্ঞানের আলোর মশাল নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছুটে চলা

‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগান নিয়ে জ্ঞানের আলোর মশাল নিয়ে নিরন্তর ছুটে চলেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। শিশু-কিশোরদের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস তৈরিতে তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে রকমারি বই।

এজন্য বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাঠকের চাহিদা পুরণ করতে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি মাধ্যমে ছুটে চলেছে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে।

এক নজরে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি
ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির কার্যক্রম শুরুর হয় ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সালে। ২৯টি গাড়ির মাধ্যমে ঢাকার ১১টি সহ ৪৫টি জেলার ৫৫টি স্থান থেকে পাঠককে বই সরবরাহ করা হয়। লাইব্রেরির সদস্য সংখ্যা ৭৫ হাজার। এরমধ্যে অধিকাংশই ছাত্র-ছাত্রী।

চাইলে তুমিও সদস্য হতে পার
যে কেউ ১০০ টাকা জমা দিয়ে সাধারণ সদস্য ও ২০০ টাকা জমা দিয়ে বিশেষ সদস্য হতে পারবে। সদস্য হওয়ার সময় মাসিক ১০ টাকা হারে অগ্রিম তিন মাসের চাঁদা দিতে হয়। পরর্বতীতে ছয় মাস বা বারো মাসের চাঁদা এক সাথে দিতে হয়। কেন্দ্রের পাশাপাশি বই লেনদেনের স্থান থেকেও সদস্য হওয়া যাবে।

কি ধরণের বই পাবে
ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির বড় গাড়িতে ১৮ হাজার, মাঝারি গাড়িতে ১৫ হাজার ও ছোট গাড়িতে ৬ হাজার বই থাকে। এখানে গল্প, কার্টুন, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, জীবনীগ্রন্থ, ভ্রমন কাহিনী, অনুবাদ, ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ধরনের বই পাওয়া যায়। প্রতি বছর বই মেলা শেষে লাইব্রেরিতে নতুন বই যোগ করা হয়।

কিভাবে বই পাবে
বই লেনদেনের নির্ধারিত স্থানে নির্ধারিত সময়ে সপ্তাহে একদিন ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির গাড়ী যায়। এসময় আলো আমার আলো, আলো ভুবন ভরা গানের সুর বাজিয়ে পাঠককে আহবান করা হয়। পছন্দনীয় বই বেছে নিতে পাঠক এক ঘন্টা সময় পায়। সাধারণ সদস্য ১৫০ টাকা পর্যন্ত ও বিশেষ সদস্য ২৫০ টাকা পর্যন্ত (বই এর দাম) এক বা একাধিক বই নিতে পারবে।

বই নেওয়ার দুই সপ্তাহের ভিতর পাঠককে বই ফেরত দিতে হবে। এসময় বই নষ্ট বা হারিয়ে ফেলে পাঠককে বই এর তিন গুণ দাম অথবা নতুন বই কিনে দিতে হবে।

নিত্য নতুন বই এর চাহিদা পুরণ
পাঠকের লাইব্রেরির সব বই পড়া শেষ হলে অথবা তার বিশেষ কোন বই প্রয়োজন হলে পরবর্তী সপ্তাহের ভিতর নির্দিষ্ট বই সংগ্রহ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এজন্য বাড়তি কোন চার্জ লাগে না।

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম
লাইব্রেরির উদ্যোগে পড়াশোনার পাশাপাশি রয়েছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা। যারা লাইব্রেরির সদস্য তাদেরকে নিয়ে কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে মাসের শেষ মঙ্গলবার বসে আড্ডা। এছাড়া সাংস্কৃতিক জোট গঠন করে রচনা, বির্তক, চিত্রাংকন, সুন্দর হাতের লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বৃরোপন, রক্তদান, ইভটিজিং, ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য জনসচেতনতা মুলক কার্যক্রম পালন করা হয়।

তো আর দেরি না করে তুমিও প্রবেশ করতে পারো নতুন নতুন বই এর রাজ্যে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa