bangla news

মিরসরাইয়ে আর্সেনিক ঝুঁকিতে ৮৭ হাজার পরিবার

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২-০৩-২২ ১০:০৫:১৫ পিএম

পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে মিরসরাইয়ের ৮৭ হাজার পরিবার। অগভীর নলকূপ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের অব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত গভীর নলকূপের অভাবে উপজেলায় আর্সেনিকবাহী রোগ এরই মধ্যে সংক্রামক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম): পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে মিরসরাইয়ের ৮৭ হাজার পরিবার। অগভীর নলকূপ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের অব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত গভীর নলকূপের অভাবে উপজেলায় আর্সেনিকবাহী রোগ এরই মধ্যে সংক্রামক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।
 
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত করে লাল দাগ দেওয়া হয়েছে। ১৩ হাজার ৪৫টি নলকূপে আর্সেনিকের পরিমাণ .০৫ মি.লি. এর অধিক।

মিরসরাই পৌরসভায় ৬৬.৮৩, খৈইয়াছড়ায় ৬৬.২৯, মায়ানিতে ৫৬.১১, মিরসরাইয়ে ৬০.৯৬, ওয়াহেদপুরে ৫১.৭৯, ওচমানপুরে ৫১.২০, ধুমে ৫১.০৯, কাটাছড়ায় ৪৭.৬৬, হাইতকান্দিতে ৪৫.৩৩, দূর্ঘপুরে ৪৪৫.০৫, মঘাদিয়ায় ৪০.৩৪, মিঠানালায় ৩৯.৮৫, ইছাখালীতে ৩৯.১৭, সাহেরখালীতে ৩০.৩৬ শতাংশ নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত এক বছরে মিরসরাইতে মোট ৪০ জন আর্সেনিক রুগী শনাক্ত করা হয়।

মিরসরাই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কে এম সাঈদ মাহমুদ জানান, চট্টগ্রামের মধ্যে মিরসরাই উপজেলা আর্সেনিকের মারাত্মক ভয়াবহতার মধ্যে রয়েছে। উপজেলার ৮৭ হাজার পরিবারের অধিকাংশ নলকূপে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এতে আর্সেনিকোসিচ রোগের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর্সেনিকোসিচ থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন গভীর নলকূপ স্থাপন ও বৃষ্টির পানি ব্যবহার। কিন্তু এর কোন ব্যবস্থাই মিরসরাইতে নেই। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যয়বহুল হওয়ায় এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না উপজেলাবাসী। তাই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে উপজেলার ৮৭ হাজার পরিবারের, প্রতি ১০ পরিবারের জন্য ১টি করে গভীর নলকূপ স্থাপন। এক হিসেবে দেখা যায়, উপজেলায় বর্তমানে ১০ হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা প্রয়োজন।

অপরদিকে উপজেলার তিন আদিবাসী পাড়ায় প্রায় ১৪ হাজারেরও অধিক লোক বাস করছে। কিন্তু বিশুদ্ধ পানির যোগানের অভাবে তারা পাহাড়ি ছড়া ও ডোবার পানি পান ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করছে। ফলে আদিবাসীপাড়াগুলোতে প্রায় সারা বছরই পানিবাহিত রোগ বিরাজ করছে। যুগ যুগ ধরে বিশেষত আদিবাসী শিশু ও বৃদ্ধরা অধিকহারে পানিবাহিত রোগের শিকার হলেও এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি না থাকায় এ সমস্যা দিনদিন বেড়েই চলছে।

সরজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আর্সেনিক শনাক্তকারী টিমের শনাক্তকরন চিহ্ন অর্থাৎ লাল দাগ দেওয়া নলকূপের পানি পান করছে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। ফলে রুগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও বিশুদ্ধ পানির অভাবে উপজেলার প্রায় দু’লক্ষ লোক অর্সেনিকযুক্ত পানি পান ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে যাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোবারক উল্লা বায়োজীদ জানান, আর্সেনিক বিষ মানব দেহে পচন রোগ, কিডনির সমস্যা, ক্যান্সার,  হাত পায়ের তালুতে চর্মরোগের সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চলতি বছরে উপজেলায় আর্সেনিক রুগীর সংখ্যা শতাধিক হতে পারে। তাই এ রোগ থেকে মুক্তির জন্য উপজেলা জুড়ে গভীর নলকূপ স্থাপন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।’

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫৮ ঘণ্টা, মার্চ ২৩, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2012-03-22 22:05:15