bangla news

কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা: “চিকিৎসক আছেন, চিকিৎসক নেই!”

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২-০৯-২৭ ৯:৪৮:৫০ এএম

কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল নামেই ২৫০ শয্যা। কিন্তু, ১৫০ শয্যার বেডের লোকবল নিয়ে চলছে এ হাসপাতালে। তাহলে, হাসপাতালটি চলবে কীভাবে? এমনই প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলাবাসী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল নামেই ২৫০ শয্যা। কিন্তু, ১৫০ শয্যার বেডের লোকবল নিয়ে চলছে এ হাসপাতালে। তাহলে, হাসপাতালটি চলবে কীভাবে? এমনই প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলাবাসী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের রথখলার ব্যবসায়ী নেছার উদ্দীন বাংলানিউজকে বলেন,  “কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট নেওয়ার পর কাউন্টার থেকে বলা হয়, ‘কক্ষে চিকিৎসক আছেন।’ অথচ তার কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো চিকিৎসকই নেই। এভাবে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা লোকদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়!”

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নগুয়া এলাকার আছাদুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, দন্তবিভাগে অনেক ভিড় থাকে। কোনো ধরনের সিরিয়াল মানা হয়না। এছাড়া বিভিন্ন করিডোর অন্ধকার থাকে। ভর্তি হওয়া রোগীরা নার্সদের ডেকেও ঠিক সময়ে পান না।

শহরের বত্রিশ এলাকার তানজিনা আক্তার বলেন, “বিভিন্ন ওষুধ কোস্পানির প্রতিনিধিদের মাত্রারিক্ত উপস্থিতি এ হাসপাতালে। তাদের অসংখ্য মোটরসাইকেল থাকায় রোগীরা স্বাচ্ছন্দে হাসপাতালে ঢুকতে পারেন না। অস্বাভাবিক পরিবেশে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে।”

আখড়া বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বাংলানিউজকে বলেন,  “নার্স, আয়া, অন্যান্য কর্মচারীরা রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন। ডাক্তাররা দায়িত্ব পালন করলেও নিম্ন শ্রেণীর কর্মকর্তারা অনেক সময় হাসপাতালের ভাবমূর্তি নষ্ট করেন।”

নিউনেটাল ওয়ার্ড পাকুন্দিয়া থেকে শিশু অনয়কে নিয়ে এসেছিলেন তার মা তৃণা আক্তার। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, “এক বেডে ৪ জন শিশুকে রাখা হচ্ছে। এতে করে শিশুরা আরও অসুস্থ হযে পড়ছে। আর রোগীদের জন্য যে খাবার দেওয়া হয়, তা খুবই নিম্নমানের।”

এ হাসপাতালে প্রতিদিন ১ জাহার ৫শ রোগী সেবা নিতে আসেন। লোকবলের অভাবে তারা সঠিক সেবা পাচ্ছেননা বলে অভিযোগ করেন তিনি।
 
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন হুসাইন সারোয়ার খান বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং প্রতিমাসে হাসপাতালের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা মন্ত্রণালয়ে জানানো হচ্ছে। আশা করি, খুব শিগগিরই সমস্যাগুলো দূর হবে।”

হাসপাতালে কোনো নিরাপত্তা কর্মী ছিলনা বলে জানালে তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসন থেকে মাস্টার রোলে নিরাপত্তা কর্মী নিযে আসা হয়েছে।”

এছাড়াও তিনি মন্তব্য করেন, “বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) ডাক্তার আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছে। এভাবেই আমরা স্বল্প লোকবলে হাসপাতাল পরিচালনা করছি। এবাদেও সকাল ৯টার মধ্যে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।”

হাসপাতালের সমাজ সেবার কার্যক্রমকে সক্রিয় করার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে বাংলানিউজকে জানান।

সিভিল সার্জন দালাল চক্র এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রতিহত করার জন্য সংবাদমাধ্যমসহ সব সচেতন মহলকে অনুরোধ জানান।

জনবল সংকটে কিশোরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ:

কিশোরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জনবল সংকট থাকায় স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ১ হাজার ৩শ ১১ জন পদের বিপরীতে ৯শ ৩৬ জন কর্মরত রয়েছেন। শূন্য রয়েছে ৩শ ৭৫টি পদ।

এর মধ্যে ১শ ৮টি ইউনিয়ন, ৭টি পৌরসভায় ৫শ ৯৯টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৪শ ৬২ জন। শূন্য রয়েছে ১শ ৩৭টি পদ।

জেলায় মেডিকেল পদ রয়েছে ১৮টি। কর্মরত আছেন ৫ জন। এর মধ্যে প্রেষণে রয়েছেন ৩ জন। শূন্য রয়েছে ১০টি পদ। ১৩টি উপজেলা ফ্যামিলি ট্রেনিং কল্যাণ কেন্দ্রের ৫টিতে পদ শূন্য রয়েছে। খোদ পরিবার পরিকল্পনা অফিসে ১৮টি পদের বিপরীতে ৫টি খালি রয়েছে।

এবিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাজের গতিশীলতা কমে যাচ্ছে। ঘাটতি কটিয়ে উঠতে নিজেও কয়েকটি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে থাকি। শূন্যপদগুলোতে একাধিক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, শূন্য পদগুলোতে লোক নিয়োগ করা হলেই এ সমস্যা কেটে যাবে।

পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিন বিকল
 
জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এক্সরে মেশিনটি প্রায় এক বছর ধরে বিকল হয়ে আছে। অথচ এটি সারানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। এতে এখানকার রোগীরা স্বল্পমূল্যে এই সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হচ্ছে, অনেক বেশি খরচ করে বাইরের ডায়াগনোস্টিক কেন্দ্রগুলোতে যেতে।

কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ৩০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের এক্সরে মেশিনটি গত বছরের জুন মাসে নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি ঢাকা তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে জানানো হলেও তা মেরামতের কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন ওই কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৪০০ জন রোগী আসেন। এদের মধ্য ১৫ থেকে ২০ জনের এক্সরের করার প্রয়োজন হয়। কমপ্লেক্সটিতে একবার এক্সরে করতে ৫৫ থেকে ৭০ টাকা খরচ হতো। অথচ এক্সরে মেশিনটি বিকল থাকায় রোগীরা বাইরের ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় তা করাচ্ছেন।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম শহীদ উল্লাহ বলেন, “একাধিকবার বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও এর মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি এটি মেরামত করা হবে। না হলে নতুবা নতুন একটি এক্সরে মেশিন পাঠানো হবে।

জোড়াতালি দিয়ে চলে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে চলছে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকাণ্ড। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রায়শই হয়রানির শিকার হচ্ছেন, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ জন ডাক্তার কর্মরত থাকলেও ৩/৪ জন ডাক্তার ছাড়া কেউই স্টেশনে থাকেনা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীরা অভিযোগ করেন, অফিস সময়ের মধ্যেই সরকারি ভবনে বসে প্রাইভেট চিকিৎসা দিচ্ছেন ডাক্তারা। ওই সব ডাক্তারদের আলাদা কোনো চেম্বার নেই।

এ সুযোগে একটি অসাধু চক্র সিন্ডিকেট করে কমিশনের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে রোগীদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। প্রয়োজনের সময় ডাক্তার পাওয়া যায়না। প্রায় সময়ই রোগী আসামাত্রই অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়।

যে সব রোগী বাইরে যেতে পারেননা, ওইসব রোগী হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে কাতরাতে থাকেন। নারী ওয়ার্ডে আসা রোগীরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

এছাড়া ওয়ার্ডবয় ও নার্সরা প্রসূতি রোগীর কাছ থেকে বকশিসের নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানালেন হাসপাতালে ভর্তি কয়েক নারী রোগী। বকশিস না দিলে তারা রোগীদের কাছেও আসেনা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত প্যাথলজি ও ডায়গনোস্টিক সেন্টারে ডাক্তার ও কর্মচারীরা রোগী পাঠিয়ে কমিশন বাণিজ্য করছেন। হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে, প্যাথলজি ও ডায়গনোস্টিক সেন্টারের।

ডাক্তারা প্রায় সময়ই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের মোটরসাইকেলে চড়ে যাতায়াত করে থাকেন। হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীরা স্থানীয় হওয়ায় দাপট দেখিয়ে রোগীদের জিম্মি করে ফায়দা হাসিল করে থাকেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেও প্রতিকার পান না:

অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়লেও হাসপাতালের এক্সরে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে রয়েছে। মেরামত করে সচল করেনি কর্তৃপক্ষ। অ্যাম্বুলেন্স ২টির মধ্যে ১টি সচল রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রমজান মাহমুদ বাংলানিউজকে জানান, লোকবল কম থাকায় ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাঙ্খিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।

মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে!

৩১ শয্যা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকও দিনের পর দিন ছুটি কাটান। কমপ্লেক্সটিতে আসা রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসা সহকারী ও জুনিয়ার ব্রাদার।

সরজমিন দেখা যায়, চিকিৎসকদের অধিকাংশ কক্ষই তালাবদ্ধ। বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন আশরাফ হোসেন নামে একজন সহকারী সেবক (জুনিয়ার ব্রাদার)। তিনিই বলতে গেলে এ হাসপাতালের “বড় ডাক্তার”!

এবিষয়ে হাসপাতালে একমাত্র চিকিৎসক-কর্মকর্তা বাবু তপরেশ বিশ্বাস বাংলানিউজকে জানান, মাত্র ৩ জন সহকারী চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চলছে। নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় জুনিয়র ব্রাদার আশরাফ হোসেনই বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, রোগী ভর্তি ইত্যাদি সামাল দেন। এছাড়া কোনো উপায় নেই।

বর্তমানে ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে ১৪ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ৩ জন রয়েছেন।

এছাড়া বিভিন্ন পদে বাকি ৮০টির মধ্যে ৩৭টি প্রকৃতপক্ষে শূন্য। চিকিৎসক না থাকায় প্রসূতি সেবা, অস্ত্রোপচার, দন্ত চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। রেডিওগ্রাফারও নেই। এক্সরে মেশিন অচল, নার্স সেবিকা ৭ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন আছেন। টেকনোলজিস্ট না থাকায় ল্যাবেরটরি খোলা হয় না। কোনো চিকিৎসা সহকারী নেই।

এছাড়া হাসপাতালের কর্মরত নার্সের বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। নার্স সর্বদা এমআর নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ডেলিভারি রোগী আসলে ৪ হাজার টাকার কম হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।

হাসপাতালের বিছানা, বালিশ, মশারি, এ সব জিনিস নার্সের বাসায় রয়েছে। অধিকাংশ বিছানা খালি পড়ে রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর প্রায় সবাই বলেছেন, হাসপাতালে দিনের পর দিন পড়ে থাকলেও ডাক্তারের দেখা খুব কমই পাওয়া যায়।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী রোগীরা বলেন, “হাসপাতালে নিয়মিত সরকারি কোনো খাবার আসছে না। বাইর থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে।”  

“তাহলে হাসপাতালটি চলবে কীভাবে? এভাবে আর কতদিন? এমন প্রশ্ন তোলার পাশপাশি মিঠামইন উপজেলাবাসী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসপাতালে অবস্থানকালে অফিস সময়ে তার নিধারিত কক্ষে বসে রোগী দেখে প্রকাশ্যে রোগীদের কাছ থেকে ফি আদায় করেন এবং ওষুধ লিখে দিয়ে বাইর থেকে আনতে বলেন।

বর্তমানে একজন ডাক্তার রয়েছে, ডাক্তার মো. লিমন। বাকি ৩ জন সহকারী মেডিকেল অফিসারও নিয়মিত থাকছেন না। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবু তপরেশ বিশ্বাস।

জুনিয়র ব্রাদার (সহকারী সেবক) আশরাফ হোসেন রোগী ভর্তির সময় টাকা নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে বাংলানিউজকে বলেন, “কেউ যদি খুশি হয়ে দেয়, তবেই তিনি টাকা নেন।”

সার্টিফিকেট বাণিজ্য

কোনো এলাকায় সামান্য সংঘর্ষ হলেই নামমাত্র আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন থেকেই শুর হয়, ডাক্তারদের সার্টিফিকেট বাণিজ্য। নামেমাত্র ইনজুরি হলেই মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সনদ দেওয়া হয়। ৩২৬/৩২৫ ধারার সার্টিফিকেট। গরিব কোনো রোগী আসালে তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঘাগরা গ্রামের এসএম স্বপন বলেন, “আমরা হাওর এলাকায় বাস করি। অথচ এখানে রোগী আনা-নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের নৌপরিবহনের ব্যবস্থা নেই। সে কারণে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”

এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সভাকক্ষে সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা সভায় মিঠামইন উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান বলেন, “এ করুণ অবস্থা এবং সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে বলে আসছি।”

তিনি বলেন, “কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। দুঃখজনক হলেও প্রতিদিন কমপক্ষে দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যান।”

স্পিকারের নির্বাচনী এলাকা ও নিজ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন করুণ অবস্থা হয় কীভাবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১২
সম্পাদনা: শাফিক নেওয়াজ সোহান, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2012-09-27 09:48:50