ঢাকা, বুধবার, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৯ রজব ১৪৪৪

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

লাউয়াছড়ায় বিপন্ন ‘ছোট উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’ অবমুক্ত

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮
লাউয়াছড়ায় বিপন্ন ‘ছোট উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’ অবমুক্ত  অবমুক্তির প্রাক্কালে ‘ছোট উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’। ছবি : বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন

মৌলভীবাজার: বন বিভাগের কার্যালয়ের টেবিলে চুপটি করে বসেছিল একটি উড়ন্ত কাঠবিড়ালি। দেয়ালের উপর জ্বলে ওঠা তীব্র আলোর বৈদ্যুতিক বাতিটা তাকে অস্বস্তি দিয়ে যাচ্ছিলো। আলোর তীব্রতায় চোখ মেলতে পারছিল কাঠবিড়ালিটি। বারবারই চোখ বন্ধ করে রাখছিল সে।

কারণ, অন্ধকার বনের পথিক সে। আধারের মাঝেই সে সবকিছু স্পষ্টতই দেখতে পায়।

সন্ধ্যাকাশ নেমে এলেই তার বেরুবার সময় ঘনিয়ে আসে।
 
বুধবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া বিটে অবমুক্ত করা হলো বিপন্ন ছোট উড়ন্ত কাঠবিড়ালি। এ স্তন্যপায়ী প্রাণীটিকে আলিয়াছড়া পানপুঞ্জি সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়।
 
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের সহযোগিতা এবং বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ স্তন্যপায়ী প্রাণীটিকে গাছে উঠিয়ে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসিএফ আনিছুর রহমান, রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন, লাউয়াছড়া বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব প্রমুখ।
 
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং বন্যপ্রাণী গবেষক ড. কামরুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, এ কাঠবিড়ালির বাংলা নাম ‘ছোট উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’। এর ইংরেজি নাম Particolored flying squirrel এবং বৈজ্ঞানিক নাম Hylopetes alboniger। এরা বিপন্ন প্রজাতির নিশাচর প্রাণী। এদের সিলেটের বনাঞ্চলেই পাওয়া যায়। তবে চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনে থাকার কথা। কিন্তু আমরা কখনো পাইনি।
 
তিনি আরও বলেন, তারা গাছের কঁচিপাতা, ফুল, ফল, ফলের বীজ এগুলোই খায়। তবে পাহাড়ি বনাঞ্চলের জনবসতির আশপাশে যেসব তেঁতুল গাছ রয়েছে ওই সব গাছে তারা তেঁতুলের বীজ খেতে এসে মানুষের হাতে মারা পড়ে।
 
উড়ন্ত কাঠবিড়ালি প্রসঙ্গে ড. কামরুল বলেন, এরা কিন্তু একদম পাখির মতো উড়ে না। গাছ দিয়ে উপরে উঠে এরা অন্যগাছে ডাইভিং করে। পাখি ডানা ঝাপটানো ছাড়াই যেভাবে বাতাসে ভেসে যায় ঠিক সেভাবে। এরা যখন লাফ দেয় তখন তাতে খুব গতি থাকে; গতি আর পায়ের চামড়ার প্রসারিত আবরণ তাকে বাতাসে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এভাবে প্রায় দেড়শ’, দুশো ফুট দূরত্বে ছুটে যেতে পারে।  
 
ছোট উড়ন্ত কাঠবিড়ালি দিনের বেলা কখনোই চলাচল করে না। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এরা কখনোই মাটিতে নামে না বলে জানান ড. কামরুল হাসান।
 
বাংলাদেশ সময়: ০১৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮
বিবিবি/আরআইএস/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa