ঢাকা, শনিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

গাজীপুরে গাছ কেটে বন উজাড়ের অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮
গাজীপুরে গাছ কেটে বন উজাড়ের অভিযোগ গাছ কেটে বন উজাড়। ছবি: বাংলানিউজ

গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বদনীভাঙ্গা এলাকায় রয়েছে বিশাল শালবন। কিন্তু টাকার লোভে উজাড় করা হচ্ছে এই বনের শতশত গাছ। আর এ অসৎ কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীরা জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া যেতে সড়কের দুই পাশে রয়েছে বিশাল শালবন। এরমধ্যে বদনীভাঙ্গা এলাকায় কেটে ফেলা হয়েছে বনের বহু গাছ।

বনের বিভিন্নস্থানে আগুন দিয়ে শাল গাছ পুড়ানোর আলামতও দেখা গেছে। গাছ কেটে বন উজাড়।                                          ছবি: বাংলানিউজএলাকাবাসীরা জানান, শ্রীপুরের শিমলাপাড়া ভিট অফিসের আওতাধীন বদনীভাঙ্গা এলাকার শালবন থেকে শতশত শাল ও গজারি গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। পরে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ওই জমি স্থানীয় প্রভাবশালী রুবেল হোসেনের সহযোগিতায় ইজারায় দিচ্ছেন শিমলাপাড়া ভিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। তিন বিঘা জমি ইজারা নিতে তাদের দিতে হয় ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

উজাড় করা কিছু জমিতে আকাশি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশের আরেকটি জায়গা থেকে মাটি কেটে সিরামিক কারখানায় বিক্রি করা হচ্ছে। বনের খালি জমি ভূমিহীনদের ইজারা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ভিট কর্মকর্তা টাকা ছাড়া কাউকে জমি ইজারা দেন না। তাকে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা।

নাম না বলার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বনের খালি জমি ভূমিহীনদের ইজারা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই জমি অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালীদের ইজারা দেওয়া হচ্ছে। একটি প্লট ইজারা পেতে বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে দিতে হয় ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। টাকা ছাড়া কেউই জমি পায় না। এছাড়া ভিট কর্মকর্তা টাকার লোভে বন থেকে শতশত শাল গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

প্রভাবশালী রুবেল হোসেন বলেন, বনের জমি ইজারা দিতে তিনি ভিট কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো কাজে জড়িত না। তিনি মাওনা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি। তিনি জমি থেকে মাটি কেটেছেন ঠিকই। কিন্তু সেই জমি বন বিভাগের না, তিনি কিনে নিয়েছে। গাছ কেটে বন উজাড়।  ছবি: বাংলানিউজএ ব্যাপারে ভিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি বন পাহারা দেই। যাতে কেউ শাল গাছ কেটে বা নষ্ট করতে না পারে। বনের জমি ইজারা দিতে কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। এছাড়া বন থেকে শাল গাছ কাটার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর সব অভিযোগ মিথ্যা।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮
আরএস/এনএইচটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।